২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রেলের টিকেট বিক্রি আজ শেষ

  • চট্টগ্রামে বেশি চাহিদা ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঈদ যাত্রায় চট্টগ্রাম থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের প্রতিদিন দেড় হাজারেরও বেশি টিকেটের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে চাহিদার অর্ধেকও দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকাগামী চারটি আন্তঃনগর ও একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ ছিল। যাত্রীরা কোন না কোনভাবে ৫টি ট্রেনের টিকেট কালেকশনের মধ্য দিয়ে ঈদে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করেছে। তবে এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে যাত্রার গমনেচ্ছুরা। শুক্রবার পর্যন্ত গত চার দিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির কার্যক্রমে ময়মনসিংহগামীদের চাহিদা মেটাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আজ অগ্রিম টিকেট বিক্রির শেষ দিন।

অপরদিকে অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে ঢাকাগামী চারটি আন্তঃনগর ও একটি এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট। গত চার দিনে প্রায় ৫ হাজার টিকেট অবিক্রীত অবস্থায় থেকে যাওয়ায় এবারের ঢাকামুখী ঈদ যাত্রা অনেকটা সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচ বাড়িয়ে টিকেট চাহিদা পূরণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ২৩ ও ২৪ তারিখের যাত্রার টিকেট অতিরিক্ত ইস্যু করতে অতিরিক্ত কোচের প্রয়োজন বলে পরিচালন বিভাগের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে ময়মনসিংহগামী একমাত্র আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট কিনে কালোবাজারিরা তিনগুণ দামে বিক্রির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ময়মনসিংহগামীরা আগে ঢাকা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছত। কিন্তু বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হওয়ার পর থেকে সরাসরি ময়মনসিংহ যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন যাত্রীরা। ফলে যাতায়াত ও সময় ব্যয়ও হ্রাস পাচ্ছে। তবে ময়মনসিংহগামী একটিমাত্র আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় যাত্রীর চাপ বেশি রয়েছে।

বগুড়ায় ছুটি পরবর্তী আগাম টিকেটের জন্য হাহকার

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, ঈদের ছুটি শুরু হতে আরও কয়েক দিন বাকি। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে কর্মস্থল থেকে ঘরে ফেরার যাত্রা এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাড়ি আসা ও কর্মস্থলে ফেরা দুটোই বিড়ম্বনা। এই দুইয়ের ক্ষেত্রেই পরিবহনের টিকেট যেন সোনার হরিণ। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার আগেই কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ফিরতি টিকেট পাওয়ার যুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুক্রবার এমন অবস্থা তৈরি হয় বগুড়ায় কোচের টিকেট কাউন্টারগুলোতে। আগাম টিকেটের জন্য হাহাকারের মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়। মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় প্রতিষ্ঠিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঈদের ছুটি শেষের পরবর্তী ৫ দিনের ঢাকাগামী কোচের সকল টিকেট।

বগুড়া থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী কোচ কাউন্টারগুলো আগেই ঘোষণা দিয়েছিল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ঈদ পরবর্তী কোচের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগে ভোর থেকে টিকেট প্রত্যাশীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত পরিবহন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাউন্টারগুলোর সামনে লাইন দিয়ে অবস্থান নেন। কাউন্টার খোলার আগেই লাইন শেষ পর্যন্ত সমাবেশের আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে কাউন্টারগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দিয়ে টিকেট বিক্রি শুরু করে। শত শত টিকেট প্রত্যাশী মানুষের চাপ সামাল দিতে কাউন্টারে কর্মরত কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। সবারই লক্ষ্য একটাই কর্মস্থলে থাকা স্বজন কিম্বা বন্ধুর জন্য ফিরতি টিকেট নিশ্চিত করা। কারণ বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় কর্মস্থলে থাকা আপনজনের উৎকন্ঠা দূর করে ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে তারা যেন কর্মস্থলে ফিরতে পারেন। কোচ কাউন্টারগুলো জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি চাপ ২৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের টিকেটের। পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটি কাটিয়ে এক সঙ্গে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও বেশিরভাগ লোকজনের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বাধ্য হয়ে পরিবারের কর্তা ব্যক্তির টিকেট আগে নেয়ার চেষ্টা করেছেন তার স্বজনরা। প্রতিষ্ঠিত কাউন্টারগুলোর কর্মীরা জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষের প্রথম ৫ দিনের আগাম সব টিকেট বিক্রি শেষ। এখন অক্টোবরের ২ তারিখের টিকেট বিক্রি হচ্ছে। এ টিকেটও দ্রুতই শেষে হয়ে যাবে বলে আশা করছেন। এদিকে ঈদের আগাম টিকেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। লোকজন অভিযোগ করেছেন টিকেট প্রতি ১শ টাকা অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোচের টিকেট কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে, একমুখী যাত্রী চাপের কারণে পরিবহন ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুটা বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ