২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমিরাতেও নাকাল হয়ে বাংলাদেশের বিদায়!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সাফ পর্যায়ের ফুটবল এবং এএফসি পর্যায়ের ফুটবল যে এক বিষয় নয়, বাংলাদেশ অনুর্ধ ১৬ ফুটবল দলকে সেটাই শেখাল আরব আমিরাত দল। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এএফসি অনুর্ধ ১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ‘ডি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশকে শোচনীয় হারের স্বাদ দিয়েছে আমিরাত। খেলার স্কোরলাইন ছিল ৬-১! প্রথমার্ধেই আমিরাত এগিয়ে ছিল ৪-০ গোলে। আগের ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ৫-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। টানা দুই হারে এই আসরের বাছাইপর্ব থেকেই রিক্ত হস্তে বিদায় নিল স্বাগতিকরা।

আগের ম্যাচে সৌদির কাছে হারলেও সমালোচিত হয়নি বাংলাদেশ। কারণ ওই ম্যাচে শেষ ৪০ মিনিট বাংলাদেশ দল খেলেছিল ১০ জন নিয়ে। কিন্তু শুক্রবার আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ মোটেও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। এর জন্য সমালোচিত হতেই পারেন কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী। কেননা, ম্যাচের আগের দিন তিনি দাবি করেছিলেনÑ দল নির্ভার হয়েই খেলবে, গত ম্যাচের ভুল এ ম্যাচে হবে না, পজেটিভ ফুটবল খেলবে দল, মাঠে নামবে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। শুক্রবার বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা ঠিকমতো বল রিসিভই করতে পারে না, শুকনো মাঠে হুমড়ি খায়, আক্রমণে পরিকল্পনা নেই, রক্ষণভাগ বলতেও কিছু নেই।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে আমিরাত ৭০ নম্বরে। যাদের সিনিয়র দল ১৯৯০ বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলেছে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৩। দুই দেশের ফুটবলের আকাশ-পাতাল ব্যবধানটা ধরা পড়ে বয়সভিত্তিক দলেও। মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠনেও দেখা যায় অনেক পার্থক্য। সেক্ষেত্রেও প্রতিপক্ষরাই এগিয়ে স্বাগতিকদের থেকে। বাংলাদেশের সুবিধা বলতে শুধু নিজেদের চেনা মাঠ আর সমর্থক। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি।

১২ মিনিটে আলী খামাসের পাসে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের আলতো টোকায় লক্ষ্যভেদ করে আমিরাতের ফরোয়ার্ড আল নাকবি (১-০)। ১৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে হামাদ জসিমের ক্রস রিসিভ করে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক নূর আলমকে পরাস্ত করে আমিরাত অধিনায়ক মাজিদ রশিদ (২-০)। ২২ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আলী সালেহের কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করে ডিফেন্ডার সুলতান (৩-০)। ৩৮ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে খামিসের ক্রসে বল নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে উঁচু শটে জালে পাঠায় মিডফিল্ডার আলী সালেহ (৪-০)। ৫২ মিনিটে বাঁপ্রান্ত থেকে সরোয়ার জামান নিপুর পাসে বক্সে বল রিসিভ করে দুর্দান্ত শটে গোল করে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশের মিডফিল্ডার মোহাম্মদ শাওন (১-৪)। ৬২ মিনিটে মাজিদ রশিদের পেনাল্টি শটে আবারও ব্যবধান বাড়ে (৫-১)। ৬৭ মিনিটে বক্সের প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে মাজিদ রশিদ (৬-১)।