২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আরও সংবাদ

  • মালিকের প্রেরণা সানিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তারকা খ্যাতিতে সানিয়া মির্জা যে শোয়েব মালিকের চেয়ে যোজন এগিয়ে এ নিয়ে খুব একটা বিতর্ক নেই। সানিয়াকে বলা হয় ভারতীয় টেনিসের ‘আইকন’। যাকে সামনে রেখে কোর্টে নামে হাজারো কিশোরী, হাজারো তরুণী। এবার সানিয়াকে প্রেরণা মানছেন স্বামী মালিক। ক’দিন আগে টেনিসের মর্যাদার আসর ইউএস ওপেন প্রমীলা দ্বৈতের শিরোপা জেতেন ইন্ডিয়ান-টেনিসকুইন। যেটিকে মালিক তার নিজের জন্য নব-প্রেরণা বলে মানছেন। এমন কি কোর্টে স্ত্রীর এ সাফল্যে ক্রিকেট মাঠে ভাল করতে এটিকে ‘বাড়তি চাপ’ বলেও স্বীকার করেছেন পাক-অলরাউন্ডার! ‘আমি খুবই গর্বিত, আনন্দে আপ্লুত। সানিয়া ভারতের মেয়ে। সেরা হওয়ার জন্য যে শতভাগ খিদে নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে। আবার ও যেহেতু আমার স্ত্রী, তাই পাকিস্তানেরও গর্ব। সানিয়ার ইউএস ওপেনের সাফল্য আমাকে জিম্বাবুইয়ে সফরে অনুপ্রেরণা যোগাবে। একই সঙ্গে ক্রিকেটে আরও ভাল করার জন্য এটা আমাকে কিছুটা চাপেও রাখবে!’ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ৩৩ বছর বয়সী মালিক। প্রসঙ্গত, ইউএস ওপেনে সুইস তারকা মার্টিনা হিঙ্গিসের সঙ্গে জুটি বেঁধে চার্লসটন খেতাব জয় করেন সানিয়া। টানা দ্বিতীবার এমন সাফল্য আর কোন ভারতীয়র নেই। ২৮ বছরের হায়দরাবাদী কন্যা প্রথম ভারতীয় প্রমীলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ওপেন দ্বৈথের শিরোপা বগলদাবা করেন।

হিঙ্গিসকে নিয়ে জেতা সানিয়ার এটি টানা দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসø্যাম। এব বছরই এপ্রিলে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে প্রমীলা ডাবলসে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান দখল করে ইতিহাস গড়েন দেশটির ক্রীড়াঙ্গনের আলোচিত এই তারকা। ২০১০ সালে সানিয়াকে বিয়ে করেন শোয়েব। রাজনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে বিশ্বের অন্যতম শত্রুদেশের দুই অঙ্গনের দুই খেলোয়াড়েরর পরিনয় তখন গোটা দুনিয়ায় আলোড়ন তৈরি করে। দক্ষিণ এশিয়ার এই তারকা দম্পত্তির তুলনা করা হয় ব্রিটিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম ও তার স্ত্রী পপগায়িকা ভিক্টোরিয়া জুটির সঙ্গে, অনেকে যাদের আদর করে ‘পশ এ্যান্ড বেকস’ বলে থাকেন। তবে ঝামেলাও কম হয়নি। শুরু থেকেই এ বিয়ের বিরোধিতা করে ভারতীয় কট্টর হিন্দু সংগঠন শিবসেনা।

কিছুদিন আগে ভারত সরকার সানিয়াকে এক সম্মাননা পুরস্কার দিলে নতুন করে ফুসলে ওঠে ওই সংগঠনটি। তারা সানিয়াকে ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যেতে বলেন, এমন কি হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। তবে এনডিটিভিতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আবেগজড়িত কণ্ঠে জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার অঙ্গীকার করেন সানিয়া।

সমস্যা কাটিয়ে হ্যান্ডবলের আশা...

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এসএ গেমসের জন্য প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন হ্যান্ডবল দলের ১২ খেলোয়াড়। ফলে অনেকাংশেই ব্যাহত হয় দলের প্রায় ২০ দিনের অনুশীলন। তবে ক্যাম্পের শুরুতেই দুর্ঘটনা হওয়ায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন কোচ ও খেলোয়াড়রা। হ্যান্ডবলে লাল-সবুজের পতাকা সবার উপরে ওড়াতে দুই বেলা কঠোর অনুশীলন করছিলেন ২৩ হ্যান্ডবলার। কিন্তু হঠাৎ সবকিছু এলোমেলো করে অসুস্থ হয়ে পড়ে ১২ খেলোয়াড়। পানিবাহিত ভাইরাস, নোংরা পরিবেশ, ম্যালেরিয়ার সঙ্গে মৌসুমী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হন ৫ খেলোয়াড়। তারা কিছুটা সুস্থ হলেও এসএ গেমসের জন্য ২৮ সেপ্টেম্বরের আগে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করতে পারছে না ফেডারেশন। খেলোয়াড়দের অসুস্থতাকে শাপেবর হিসেবেই দেখছেন কোচ ও খেলোয়াড়রা। ক্যাম্পের শুরুতেই নানা সমস্যা থাকলেও এখন বিওএ ও এনএসসি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। আলাদা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তাই দ্রুত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কাটিয়ে ছন্দে ফেরার আশা খেলোয়াড় ও কোচ নাসিরুল্লাহ লাভলুর।

২০১০ সালে ঘরের মাঠে প্রথম অংশ নিয়ে তাম্রপদক জিতেছিল বাংলাদেশে। এরপর আর সাফল্যের দেখা পায়নি এ দেশের হ্যান্ডবল। আগামী বছরের ১০ জানুয়ারি ভারতের শিলংয়ে শুরু হবে এসএ গেমসের দ্বাদশ আসর।

বেয়ার্নের সাবেক কোচ ক্রেমারের জীবনাবসান

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বেয়ার্ন মিউনিখের সাবেক কোচ ডেটমার ক্রেমার আর নেই। ৯০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। শুক্রবার ক্রেমারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মান জায়ান্ট বেয়ার্ন মিউনিখ। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ক্লাবটির চেয়ারম্যান কার্ল হেইঞ্জ রুমেনগে। তার মতে, ক্রেমার শুধু একজন ফুটবলারই যে ছিলে তা নয়। তার আচরণ ছিল বন্ধুসুলভ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষের কাছেই ক্রেমার স্পোর্টিং ব্যক্তিত্বের চেয়েও অনেক কিছু ছিলেন। আমার কাছে তিনি পিতৃতুল্য বন্ধু। পেশাগতভাবে যখন আমার ক্যারিয়ার শুরু করি তখন তার ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরও বিস্তারিতভাবে যদি বলি তাহলে ফুটবলার হিসেবে সফল হওয়ার পেছনে তার ভূমিকার বিকল্প ছিল না। তার মতো অসাধারণ মাপের একজন কোচের মৃত্যুতে বেয়ার্ন মিউনিখ গভীরভাবে শোকাহত। তার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে আমিও মর্মাহত।’ ক্রেমার ১৯৭৫ সালে বেয়ার্ন মিউনিখের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথম মৌসুমেই চমক উপহার দেন তিনি। সেবার বেয়ার্নকে ইউরোপিয়ান কাপ উপহার দেন ক্রেমার। শুধু তাই নয়, পরের মৌসুমেও শিরোপা নিজেদের করে রাখে তার দল। ক্রেমার ১৯৬৬ বিশ্বকাপে জার্মানির সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন। সেবার ইংল্যান্ডের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা।

পাক-ভারত সিরিজের বিরুদ্ধে আফ্রিদি!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চলতি বছর শেষদিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজের ভাগ্য ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। দুই বোর্ডের আলোচনাতেও তেমন কোন অগ্রগতি নেই। এমন সময় পাকিস্তানের টি২০ অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিই পক্ষপাতী না ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে। তিনি মনে করেন ভারত না চাইলে সিরিজ খেলতে জোরাজুরির কোন প্রয়োজন নেই। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক প্রথম টি২০ আসর পাকিস্তান সুপার লীগ (পিএসএল) আয়োজন করবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টুর্নামেন্টটি কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আফ্রিদি মনে করেন পিএসএল পাকিস্তানেই হওয়া উচিত। স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এখন ফেরার লড়াইয়ে আছেন তিন ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির। তারা এ আসরে খেলতে মরিয়া। আগেভাগেই ক্ষমা প্রার্থনাসহ, আইসিসির বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিয়ে ফেরার পথটা সুগম করে ফেলেছেন আমির। একই প্রক্রিয়ার মধ্যে এখন বাট ও আসিফও আছেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টি২০ অধিনায়ক আফ্রিদির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বাট।

২০১২ সালের শেষে সংক্ষিপ্ত একটি সিরিজ খেলতে ভারত সফর করেছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এবার ফিরতি সিরিজ খেলার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) চাপাচাপি করছে পিসিবি। কিছুদিন আগে দুই বোর্ডের মধ্যে আগামী ২০২২ পর্যন্ত অন্তত ৬ সিরিজ অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু এবারের সিরিজটিই না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু হাল ছাড়ছে না পিসিবি এবং বিসিসিআইকে চাপের মধ্যে রেখেছে তারা। এ বিষয়ে আফ্রিদি বলেন, ‘আমি জানি না যে আমরা ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য বার বার জোরাজুরি করছি। যদি তারা না চায় তাহলে আমি ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না।’ আফ্রিদি এ কথা বললেন অবশ্য পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের মন্তব্যের পরই। তিনি আগের দিন বলেছিলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলা জরুরী নয়। তাদের বোর্ড রাজি, কিন্তু সরকার থেকে সবুজ সঙ্কেত পেতে হবে। এমন অবস্থায় আমাদের মনে হয় না সিরিজটা হতেই হবে।’

আত্মবিশ্বাসী কোচ ওয়াকার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সাফল্য আত্মবিশ্বাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সফরে দ্বিগভ্রান্ত হয়ে পড়া পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কায়। দ্বীপদেশ থেকে টেস্ট-ওয়ানডে দুই সিরিজেই সাফল্য নিয়ে ফিরেছে পাকিরা। আরব আমিরাতে আসন্ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে তাই আত্মবিশ্বাসী কোচ ওয়াকার ইউনুস। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে আকর্ষণের পূর্বাভাস দেয়া সেই দ্বৈরথ। তার আগে এ মাসেই জিম্বাবুইয়ে সফর। তবে জিম্বাবুইয়ে নয়, ওয়াকারের ভাবনায় কেবলই ইংল্যান্ড। বিশেষ করে টেস্ট। সেখানে তার স্পিনাররা নিয়ামক হয়ে উঠবেন বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় জিও সুপার চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকারে ওয়াকার বলেন, ‘জিম্বাবুইয়ে সফরের চেয়ে আমিরাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার চাওয়া গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড এবং সদ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাফল্যের পুনরাবৃত্তি।’

গত সপ্তাহে দল ঘোষণা করে পাকিস্তান নির্বাচকম-লী। দীর্ঘদিন পর ফেরানো হয়েছে ব্যাটসম্যান ফাওয়াদ আলমকে, অধিনায়ক মিসবাহ-উল হকের সঙ্গে ইউনুস খান, আজহার আলী, আসাদ শফিক, সরফরাজ আহমেদকে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং খুবই সমৃদ্ধ। কোচ ওয়াকার আরও বলেন, ‘আমিরাতে গতবার অসি ও কিউইদের সঙ্গে যেভাবে খেলেছি, তার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারলে ইংলিশদের বিপক্ষেও জয় সম্ভব। এখানকার পিচের সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত এবং ইউনুস, মিসবাহ, আজহারদের সেই সেঞ্চুরিগুলো হিসাব করলে আমি মনে করি আমরা ভাল করতে সক্ষম।’ এই আমিরাতেই পাকিস্তান আগেরবার যখন ইংল্যান্ডকে মোকাবেলা করে, ৩-০তে সিরিজ জয়ে মুখ্য ভূমিকা ছিল সাঈদ আজমলের। এবার দলে নেই সেই তারকা স্পিনার। ত্রুটিপূর্ণ এ্যাকশন শুধরে ফিরলেও ফর্মহীনতায় বাদ পড়েছেন আজমল।

এ প্রসঙ্গে কোচের বক্তব্য, ‘আমি মনে করি আমাদের স্পিনাররা বিশেষ করে ইয়াসির শাহ ও জুলফিকার বাবর সম্প্রতি ম্যাচগুলোতে খুবই ভাল করেছে এবং তারা আমাদের জন্য একই ধারা অব্যাহত রাখবে বলে বিশ্বাস। তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতোপূর্বে টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। আমাদের হাতে ব্যাকআপ হিসেবে ভাল মানের আরও দুই স্পিনার রয়েছে।’ প্রাথমিক দলে দুই বাঁ-হাতি স্পিনার জাফর গওহর অথবা মোহাম্মদ আসগরের মধ্য থেকে একজনকে দল ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ওয়াকার বলেন, ‘আমাদের স্পিন ভা-ার পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি বলে আমি মনে করি এবং পিচগুলো তাদের জন্য সহায়ক হবে। দুবাইর পিচ কিছুটা ভিন্ন ধর্মী। তবে একই সঙ্গে আমাদের পেস-আক্রমণও সমৃদ্ধ।’ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এ্যাশেজ ট্রফি পুনরুদ্ধার করেছে ইংল্যান্ড। ইংলিশদের তাই অবহেলার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন ওয়াকার, ‘ইংল্যান্ড দলে ভাল মানের কিছু ক্রিকেটার রয়েছে। তবে আমিরাতের কন্ডিশন আমাদের পক্ষে থাকবে।’

নেইমার, কাকাকে ছাড়াই ব্রাজিল দল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আশা পূরণ হলো না কাকার। তারকা এই মিডফিল্ডার দীর্ঘ আট মাস পর ফিরেছিলেন ব্রাজিল জাতীয় দলে। খেলেন কোস্টারিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ। কিন্তু জয় করতে পারেননি কোচের মন। যে কারণে তার খেলা হচ্ছে না আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাই ফুটবলে ব্রাজিলের হয়ে। অথচ বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলার স্বপ্নের কথা কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন সাবেক ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার। আগামী মাসে চিলি ও ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচের জন্য বৃহস্পতিবার দল ঘোষণা করেন দুঙ্গা। ২৩ সদস্যের দল থেকে বাদ পড়েছেন ব্রাজিল অধিনায়ক নেইমারও। তার বাদ পড়ার কারণ অবশ্য নিষেধাজ্ঞা। যে কারণে প্রথম দুই ম্যাচে তাকে দর্শক হয়েই থাকতে হবে। তবে দলে ফিরেছেন চেলসি মিডফিল্ডার অস্কার। কোস্টারিকা ও যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে বাছাইপর্বের প্রস্তুতি ভালভাবেই সেরেছে ব্রাজিল। ৮ অক্টোবর চিলি ও পাঁচ দিন পর ভেনিজুয়েলার মুখোমুখি হবে রেকর্ড সর্বোচ্চ পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কোপা আমেরিকার গত আসরে না খেলা কাকা ব্রাজিলের সর্বশেষ দুই ম্যাচে ছিলেন। কোস্টারিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে থাকা অরল্যান্ডো সিটির এই মিডফিল্ডারকে বাছাই পর্বের আসল লড়াইয়ের দলে রাখেননি দুঙ্গা। দুঙ্গা অবশ্য অধিনায়ক নেইমারের শূন্যতা নিয়ে ভাবতে চাইছেন না। দলে থাকাদের ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তার মতে, নেইমার নেই বলে ব্রাজিল দল মাঠে দুর্বল থাকবে, এমন হওয়া চলবে না। নেইমারকে ছাড়াই গত বছর নিজ মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের দুঃখ ভুলতে হবে ব্রাজিলকে। বাছাইপর্বের খেলা সামনে রেখে শিষ্যদের এমন নির্দেশনাই দিয়েছেন সেলেসাও কোচ। দল ঘোষণার পর দুঙ্গা বলেন, এখন অবশ্যই আমাদের দৃষ্টি পরিবর্তন করতে হবে। গত বছর বিশ্বকাপে যা ঘটেছে তা ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের প্রতিচিত্র। এটা এমন এক দুঃখ যা চিরকালই থেকে যাবে। কিন্তু এই বাস্তবতা আমাদের মেনে নিতেই হবে। এমনকি যখন ব্রাজিলের সেরা দলও মাঠে খেলেছে, তখনও আমাদের বাছাইপর্বেই কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আমরা পারি। কঠিন সময় আসবেই, কিন্তু আমরা অবশ্যই তা জয় করব। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক আরও বলেন, বর্তমান দলে যারা আছে তারা সেরা বলেই জায়গা পেয়েছে। তবে একটি দল কেবল মাত্র একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে জিততে পারে না। ১৯৭০ সালে পেলে ছিলেন সবচেয়ে বড় তারকা। কিন্তু জোয়ারজিনহো কিন্তু সেখানে ৭ গোল করেছিলেন। তাই কেবল একজন নয়, সাফল্য পেতে পুরো দলকে সংঘবদ্ধ হতে হয়। নেইমারকে আমরা দলে রাখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। তাই বর্তমানে যারা দলে আছে তাদের মিলিত শক্তিতেই পরিণত হতে হবে। আমরা সবাই মিলেই গোল পাওয়ার চেষ্টা করব।

ব্রাজিল দল ॥ গোলরক্ষকÑ জেফারসন, মার্সেলো গ্রোহি, এ্যালিসন, ডিফেন্ডারÑডেভিড লুইজ, মিরান্ডা, মার্কিনহস, জিউ, ফ্যাবিনহো, রাফিনহা, ফিলিপে লুইস, মার্সেলো, মিডফিল্ডারÑলুইজ গুস্তাভো, ফার্নান্ডিনহো, অ্যালিয়াস, রেনাটো আগুস্টো, লুকাস লিমা, লুকাস মাউরো, ফিলিপ কাউটিনহো, অস্কার, উইলিয়ান, ডগলাস কোস্টা, ফরোয়ার্ডÑরবার্তো ফিরমিনো, হাল্ক।

রাশিয়া বিশ্বকাপের ক্ষণ গণনা শুরু

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শুরু হয়ে গেল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ক্ষণ গণনা। শুক্রবার মস্কোর রেড স্কয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে এক হাজার দিনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল থেকে পরবর্তী বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর এক হাজার দিন। এ উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়েছিল অনুষ্ঠান স্থলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের রথী-মহারথীরা। উল্লেখ্য, রাশিয়া বিশ্বকাপ হবে দেশটির ১১ শহরে।

অবসর ভাবনায় মিসবাহ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অবসর নিয়ে ভাবছেন ৪১ বছর বয়সী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মিসবাহ-উল হক। আরব আমিরাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। আগামী মাসের ১৩ তারিখ শুরু হবে ওই সিরিজ। ‘এখনই ভাবছি না, তবে ইংল্যান্ড সিরিজের পর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করব।’ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন পাকিস্তান টেস্ট অধিনায়ক।

দেশটির সফল অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও মিসবাহর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেকের মতে মাঠে তিনি ‘অতি’ রক্ষণাত্মক। তবে নিজের দায়িত্বে গর্বিত মিসবাহ বলেন, ‘পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেয়া সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। আর সেই চ্যাঞ্জেটা নিতে পেরে আমি গর্বিত। ২০০৯ সালের পর থেকে নিজেদের মাটিতে না খেলেও আমরা স্মরণীয় কিছু সাফল্য অর্জন করেছি।’ বিশ্বকাপ খেলে রঙ্গিন পোশাকের ক্রিকেটকে বিদায় জানানো মিসবাহ পাকিস্তানের হয়ে ৫৮ টেস্ট ও ১৬২ ওয়ানডে খেলেছেন। টেস্টে এই চল্লিশোর্ধ বয়সেও ব্যাট হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভক্ত থেকে শুরু করে পাকিস্তান বোর্ড কর্তারাও তাই চাইছেন সাদা পোশাকে খেলে যান মিসবাহ।

লিভারপুলের ড্র, নেপোলির গোলবন্যা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লীগে ঠাঁই হয়নি। খেলতে হচ্ছে তাই উয়েফা ইউরোপা লীগে। কিন্তু এখানেও শুরুটা ভাল হলো না লিভারপুলের। বৃহস্পতিবার রাতে ‘বি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে দ্য রেডসরা। ফরাসী ক্লাব বোর্ডেক্সের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে লিভারপুল।

তবে বড় জয়ে মিশন শুরু করেছে ইতালিয়ান ক্লাব নেপোলি। ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে দিয়াগো ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাব ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বেলজিয়ামের ব্রুজকে। জয় পেয়েছে জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডও। তারা ২-১ গোলে হারিয়েছে রাশিয়ার ক্রাসোনডারকে।

বোর্ডেক্সের মাঠে প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোন দলই। বিরতির পর ৬৫ মিনিটে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন ইংলিশ মিডফিল্ডার এ্যাডাম লালানা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার ফেরেইরা জুসির গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। বল দখলের লড়াইসহ আক্রমণের দিক থেকে দু’দলই ছিল প্রায় সমানে সমান। আরেক ম্যাচে ক্রাসোনডারের বিপক্ষে দাপুটে ফুটবল খেলেও জয়ের জন্য ডর্টমুন্ডকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। ইনজুরি সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ান ডিফেন্ডার জো-হো পার্কের গোলে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত হয়। এর আগে ম্যাচের ১২ মিনিটে রাশান ক্লাবটিকে এগিয়ে নেন পাভেল মামায়েভ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জয়ের নায়ক পার্কের ক্রসে হেডে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান তরুণ জার্মান ডিফেন্ডার মাথিয়াস গিন্টার।

নেপোলির বড় জয়ে দুই স্ট্রাইকার জোসে ক্যালাজান ও ড্রায়াস মার্টেন্স জোড়া গোল করেন। সাওপাওলো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর পঞ্চম মিনিটে ক্যালাজনের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক নেপোলি। ২৫ মিনিটে তার পাসে স্বাগতিকদের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন মার্টেন্স। ছয় মিনিট পর জোড়া গোল পূর্ণ করেন ২৮ বছর বয়সী এ বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মাওরিজিও সারির শিষ্যরা। বিরতির পর ৫৩ মিনিটে দলের হয়ে চার নম্বর গোল করেন সেøাভাকিয়ান মিডফিল্ডার মারেক হামসিক। ৭৭ মিনিটে নিজের জোড়া গোল করেন সাবেক রিয়াল ফুটবলার ক্যালাজন।

প্রথম স্তর

ঢাকা-খুলনা ম্যাচ ॥ খুলনায় টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা দিনশেষে মাত্র ১৭৪ রান তুলতেই হারিয়েছে ৮ উইকেট। তরুণ পেসার মুস্তাফিজ ও অভিজ্ঞ রাজ্জাকের স্পিনে বেসামাল হয়ে যায় তারা। সাইফ হাসান সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। মুস্তাফিজ ও রাজ্জাক তিনটি করে উইকেট নেন। নাদিফ চৌধুরী ৩৫ রানে ব্যাট করছেন। দীর্ঘ তিন বছর পর জাতীয় ক্রিকেট লীগে খেলতে নেমে সাকিব আল হাসান ১ উইকেট শিকার করেছেন।

স্কোর ॥ ঢাকা বিভাগ প্রথম ইনিংস- ১৭৪/৮; ৬২.২ ওভার (সাইফ হাসান ৬৮, নাদিফ চৌধুরী ৩৫*; মুস্তাফিজ ৩/২৪, রাজ্জাক ৩/৬০, রবিউল ১/২১, সাকিব ১/৫৩)।

ঢাকা মেট্রো-রংপুর ম্যাচ ॥ টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম দিনেই মাত্র ২৩৮ রানে শেষ হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিসের প্রথম ইনিংস। শামসুর রহমান, মার্শাল আইয়ুব ও ইলিয়াস সানিসহ তিনটি অর্ধশতকের পরও বাকিদের ব্যর্থতায় এত দ্রুত শেষ হয়ে যায় মেট্রোর ইনিংস। রংপুরের মাহমুদুল হাসান ৫ উইকেট নেন। দিনশেষে ব্যাট করতে নেমে রংপুর বিনা উইকেটে ১২ রান তুলে এখনও পিছিয়ে ২২৬ রানে।

স্কোর ॥ ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস-২৩৮/১০; ৭৮.৪ ওভার (মার্শাল ৬৫, শামসুর ৫৪, সানি ৫২*; মাহমুদুল ৫/৪৪, সাজেদুল ২/২৮, সাদ্দাম ২/৩১)।

রংপুর প্রথম ইনিংস- ১২/০; ৭ ওভার (তানভীর ৫*, সায়মন ১*)।

দ্বিতীয় স্তর

রাজশাহী-বরিশাল ম্যাচ ॥ রাজশাহীতে প্রথম দিনেই ভাল অবস্থানে চলে গেছে বরিশাল। মোসাদ্দেকের সেঞ্চুরি এবং ওপেনার শাহরিয়ার নাফীস ও সোহাগ গাজীর অর্ধশতকে ৩০২ রানে প্রথম ইনিংস শেষ করে তারা। মোসাদ্দেক ১৪৯ বলে ১১ চার ও ৬ ছক্কায় ১২২ রান করেন। সাঞ্জামুল ৬ উইকেট নেন। দিনশেষে রাজশাহী ব্যাট করতে নেমেই বিপর্যয়ে পড়েছে। ২ উইকেটে ১৯ রান করেছে তারা। বরিশাল এগিয়ে ২৮৩ রানে।

স্কোর ॥ বরিশাল প্রথম ইনিংস- ৩০২/১০; ৭৮.৩ ওভার (মোসাদ্দেক ১২২, শাহরিয়ার ৭৫, সোহাগ ৫২; সাঞ্জামুল ৬/১২৩)।

রাজশাহী প্রথম ইনিংস- ১৯/২; ৯ ওভার (জহুরুল ৮*, ফরহাদ ৪, নিহাদুজ্জামান ৪*; তৌহিদ ১/৫, সোহাগ ১/৯)।

চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচ ॥ বেশ সতর্কভাবে প্রথম দিন শেষ করেছে সিলেট। ফতুল্লায় টস হেরে দিনশেষে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান তুলেছে তারা চট্টগ্রামের বিপক্ষে। ১১১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর রাজিন সালেহ ও রুম্মান আহমেদের অপরাজিত জোড়া অর্ধশতক দলকে ভাল অবস্থানে পৌঁছে দেয়।

স্কোর ॥ সিলেট প্রথম ইনিংস-২৪০/৪; ৯০ ওভার (রাজিন ৭২*, রুম্মান ৭০*, ইমতিয়াজ ৩৭; মিরাজুল ২/৩৫, নাবিল ২/৭২)।