১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদ ভাবনা

এবারই ঢাকায়-

‘প্রতিবছর ঈদে আমরা নানুর বাসায় যাই। কিন্তু এবার প্রথম সেখানে যাওয়া হচ্ছে না। ঈদ করবো ঢাকায়। এ জন্য আমার একটু মন খারাপ। মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ খানিকটা কমে যাবে। তবে যতটুকু সম্ভব, তার পুরোটুকু আনন্দই উপভোগ করতে চাই। যখন হাট থেকে গরু কিনে আনা হয়, তখন আমরা ছোটরা সবাই মিলে সেটাকে আদর-যতœ করি। কিন্তু ঈদের দিন যখন কোরবানি দেয়া হয়, তখন চোখের জল আটকে রাখতে পারি না।

কোরবানির সময়ে এবারও হয়তো কেঁদে ফেলব। কোরবানির মাংস দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হবে। সেটা খাব। নতুন জামা পরে পুরো ঢাকা ঘুরে বেড়াব। আত্মীয় ও বন্ধুরা যারা ঢাকায় থাকবে তাদের বাসায় ঘুরতে যাব। যারা বাসায় আসবে তাদের সঙ্গে সময় কাটাব।

আশা করি আমি যতটা ভাবছি, ঢাকায় ঈদ ততটা খারাপ কাটাবো না।

মীম নোশিন নাওয়াল খান

ভিকারুননিসা নূন স্কুল

নবম শ্রেণী (ইংরেজী ভার্সন)

মেঘনার তীরে ঘুরতে যাব

দুটি ঈদের মধ্যে ঈদ-উল-আযহা আমার বেশি প্রিয়। ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে প্রতিবছর আমার নানা পরিকল্পনা থাকে। এবারও আছে অনেক পরিকল্পনা। আগেই বলে রাখছি, এবারের ঈদটি আমরা গ্রামের বাড়িতে করব। আমাদের গ্রামের বাড়ি মেঘনা তীরবর্তী লক্ষ্মীপুর জেলায়। ঈদের দিনে আমার প্রথম পরিকল্পনাটি একটু অন্যরকম। আমি পরিবারের সবাইকে একটা সারপ্রাইজ দিব। সারপ্রাইজটি হলো– আমি সাধারণত ঘুম থেকে সবার পরে উঠি। ঈদের দিন সকালে আমি সবার আগে ঘুম থেকে জাগব। তারপর আম্মু ও দাদু নতুন আমার ছোট ভাই মাহমুদকে ঘুম থেকে জাগাব। তারপর দ্রুত গোসল করে ছোট মামার দেয়া ঈদের নতুন পাঞ্জাবিটি পরব। সবার আগে আমার দাদু ও আম্মুকে সালাম করব। তাদের কাছ থেকে সালামি আদায় করে বড়দের হাত ধরে ঈদগাহের দিকে রওনা হব। ঈদগাহে আমার অনেক বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে। অনেক মজা হবে তখন। ঈদের নামাজ শেষে দ্রুত বাড়িতে ফিরব। যেখানে গরু কোরবানি দেয়া হবে সেখানে যাব। ছোটখাটো কাজগুলোতে বড়দের একটি-আধটু সহযোগিতা করব।

ছোট চাচ্চু বলেছেন– দুপুরের দিকে আমাদের নিয়ে ঘুরতে বের হবেন। প্রথমে লক্ষ্মীপুর পৌর শিশুপার্কে নিয়ে যাবেন। সঙ্গে আমার আম্মু ও ছোট ভাইও থাকবে। বিকেলের দিকে মেঘনার তীরে ঘুরতে যাব। ছোট চাচ্চু বলেছেন এটা অনেক সুন্দর একটা জায়গা। বিকেলে এখানে অনেক মানুষ বেড়াতে আসে। ছোটবড় সবাই আসে এখানে। ছোট চাচ্চু বলেছেন– মেঘনার পশ্চিম কোণে সূর্য যখন ডুবতে শুরু করবে তখন বাড়ির পথ ধরে রওনা দিবেন। তবে এবারের ঈদে আমি আমার আব্বুকে অনেক মিস করব। আমার আব্বু সৌদি আরব থাকেন। ছুটি পাননি বলে আমাদের সঙ্গে ঈদ করতে পারবেন না।

সাইদ আল সাহাব

বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, সিলেট, ৬ষ্ঠ শ্রেণী

শহরে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছি

বরাবর গ্রামে থাকতাম তাই সেখানেই ঈদের প্রস্তুতি নিতাম। কিন্তু এবার শহর থেকে প্রস্তুতি আর গ্রামে গিয়ে ঈদ করা হবে। কারণ আগে থাকতাম গ্রামে, এখন ঢাকায় কলেজে পড়ছি। তাই অপেক্ষা কলেজ ছুটির। বাড়ি গিয়ে নিজে সঙ্গে থেকে গরু কিনব। আর কোরবানির সময় সামনে তো থাকবই। কোরবানির শেষে ইচ্ছা মতো ঘোরাঘুরি করব বন্ধুদের সঙ্গে। ঠিক পাখির মতো ডানা মেলে উড়ব। ঝিলিমিলির বন্ধুদের জানাই ঈদ মোবারক।

দেওয়ান ফাহিম ফয়সাল

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা

সেলামি একটু বেশি নেব

ঈদের বাকি আছে হাতেগোনা কয়েকদিন। রোজার ঈদের পর থেকে অনেক উত্তেজনা নিয়ে ঈদ-উল-আযহার অপেক্ষায় ছিলাম। আমার কাছে ঈদের দিন মানে বিশেষ ভাবনা, ব্যতিক্রম কিছু আর নানা পরিকল্পনা। বছরের দুটি ঈদ দুই ধাঁচের হলেও উদযাপনের ধরন কিন্তু প্রায় একই রকম। বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাত, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর বিনোদন। তবে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ঈদ-উল-আযহার দিনের বেলায় সময় পাওয়া যায় কম। কারণ সকাল থেকে দুপুরের সময়টা কোরবানির মাংস তৈরির আশপাশে থাকতে হয়। তবে সবার মতো আমিও ভাবনার ছকে এঁকেছি ঈদের দিনকে নিয়ে নানা পরিকল্পনা।

প্রবাসী বড় ভাইয়া ঈদের ছুটিতে দেশে এসেছেন। তার উপস্থিতি এবারের ঈদে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। সাতসকালে গোসল সেরে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য তৈরি হব। তারপর প্রথমে আম্মু ও বড় ভাইয়াকে সালাম করব। ক্রমান্বয়ে বড়দের সবাইকে সালাম করে সালামি আদায় করব। আর হ্যাঁ, বড় ভাইয়ার কাছ থেকে সেলামি একটু বেশিই নিব। যেহেতু ঈদ-উল-আযহা তাই ঈদগাহ থেকে এসেই গরু কোরবানি দেব। মাংস কাটার কাজে বড়দের একটু-আধটু সাহায্য তো অবশ্যই করব। সকালের দিকে কোথায়ও না বের হলেও বিকেলের দিকে ঠিকই বের হব। সন্ধ্যার পর সুরমা পাড়ের কিনব্রিজের নিচে বসবে বন্ধু আড্ডা। স্কুল কলেজের সব বন্ধুরা সেখানে আসবে। চটপটি আর ফুচকার প্লেট হাতে নিয়ে অনেক সময় ধরে চলবে সেই আড্ডা। আর রাতে বাসায় ফিরে আম্মুর হাতের গরম গরম গরুর মাংস সাবাড় করার প্রতিযোগিতায় নেমে যাব। তারপর টিভি সেটের সামনে বসে যাব। সব চ্যানেলেই আছে বিশেষ ঈদ আয়োজন। আশা করি এগুলোই ঈদটাকে রঙিন করে তুলবে।

শিশির মনির

সিলেট সরকারী কলেজ, বিজ্ঞান বিভাগ, সিলেট