১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়াহিদের পাইলটবিহীন বিমান তৈরি

চমক দেখালেন মির্জা ওয়াহিদ হোসেন। টাঙ্গাইল শহরের করের বেতকার মেধাবী যুবক ওয়াহিদ হোসেন এলাকায় তাপস হিসেবে পরিচিত। হিসাববিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনী শক্তি ওর ভেতরে প্রচুর। স্বাপ্নিক এ যুবকের স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়ার। সেই স্বপ্ন থেকেই পাইলটবিহীন বিমান তৈরি করে ওড়ালেন আকাশে।

মির্জা ওয়াহিদ হোসেন জানান, আড়াই ফুট লম্বা ডেপ্রন ফোম দিয়ে তিনি বিমানটি তৈরি করেছেন। এর ভেতরে ২৫০ ওয়াটের মোটরসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। সব যন্ত্রপাতিই চীন থেকে আমদানি করা। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ১ মাস। খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি শহরের মিরের বেতকা বিল এলাকায় তিনি ওড়ান বিমানটি। ওয়াহিদের তৈরি বিমানটি সত্যি-সত্যিই আকাশে উড়ছেÑ এটি দেখে অভিভূত হন এলাকাবাসী।

মির্জা ওয়াহিদ হোসেন ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র। তিনি এসএসসিতে জিপিএ-৫, এইচএসসিতে জিপিএ-৪.৭ পান। বৃত্তি পেয়েছিলেন ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে। তিনি এবার সরকারী সা’দত কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে (অনার্স) ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। তার পিতার নামÑ মির্জা মালেক হোসেন। তিনি কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। পুত্রের এ উদ্ভাবনে তিনি গর্বিত। তিনি জানান, তার ছোট ছেলে ওয়াহিদের ছোট বেলা থেকেই ইলেট্রনিক্সের প্রতি ঝোঁক ছিল। সে লাইট, ফ্যান থেকে শুরু করে সাউন্ড সিস্টেমÑ কম-বেশি সব কিছু নিয়েই কাজ করত। ২০০৮ সালে জাতীয় বিজ্ঞানমেলায় তার নিজস্ব প্রজেক্ট দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। এছাড়া তার প্রিয় শখের মধ্যে রয়েছে শূটিং। এ পর্যন্ত টাঙ্গাইল রাইফেলস ক্লাবের পক্ষ থেকে ৬ বার জাতীয় শূটিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ গেমসেও অংশ নিয়েছেন। ফটোগ্রাফিতেও তিনি দারুণ চৌকস।

বিমান তৈরির বিষয়টি কিভাবে মাথায় এলোÑ এ প্রশ্নের উত্তরে তরুণ উদ্ভাবক মির্জা ওয়াহিদ হোসেন বলেন, আকাশে ওড়ার স্বপ্ন থেকেই মূলত বিমান তৈরির বিষয়টি তার মাথায় আসে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ তার এই এই স্বপ্নপূরণের পথকে সহজ করে। তিনি জানান, এ স্বপ্নপূরণের বিষয়টি বেশ ব্যয়বহুল। টিউশনির টাকা থেকে কিছু কিছু জমিয়ে তাকে এ বিমান তৈরির ব্যয় মেটাতে হয়েছে। এ কাজে তার পিতা-মাতাসহ পরিবারের সবাই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বন্ধু-বান্ধবরাও দিয়েছে উৎসাহ।

মির্জা ওয়াহিদ হোসেন বলেন, এ ধরনের কাজের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সম্ভাবনা ও বাজার রয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে সীমান্ত এলাকা ও যুদ্ধক্ষেত্রে এখন ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আমি যে ধরনের বিমান তৈরি করেছি একই পদ্ধতিতে ড্রোন তৈরি করা সম্ভব, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে পারবে। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খুব বেশিদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।