২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নদীর পানি শোধন করে সরবরাহের উদ্যোগ রাজশাহীতে ওয়াসার মেগা প্রকল্প

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরবাসীর জন্য আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ করতে তিন হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজশাহী ওয়াসা এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ওই প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীর পানি শোধন করে নগরবাসীর কাছে সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের খসরা সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী চার বছরের মধ্যে রাজশাহীবাসী ঘরে ঘরে পাইপ লাইনে বিশুদ্ধ পানি পাবে।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্র জানায়, চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণ করবে রাজশাহী ওয়াসা। সেটি স্থাপন করা হবে মহানগরী থেকে প্রায় ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুরে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে। ২০১১ সালে রাজশাহী ওয়াসা প্রতিষ্ঠার আগে সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এ মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।

দীর্ঘমেয়াদি টেকশই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রকল্প নিয়ে এরই মধ্যে চিনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমে চার কোটি টাকার এ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে স্ট্যাডি করে তা তিন হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রজেক্ট করে তার খসড়া প্রতিবেদন দিয়েছে আইডব্লিওএম। রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ সরকার জানান, আশা করা হচ্ছে চাইনার সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কন্টাক্ট স্বাক্ষরিত হবে। চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক এ প্রকল্পে ঋণ দেবে। তিনি বলেন, কন্টাক্ট স্বাক্ষরিত হওয়ার পর অন্তত চার বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের সুফল পাবে রাজশাহী নগরবাসী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে রাজশাহী ওয়াসা প্রতিষ্ঠার এক বছর আগে তৎকালীন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেগা এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করেন। সে সময় তিনি সহযোগিতার জন্য চীন সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠান। বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দিতে চেয়েছে চীন সরকার। ওয়াসা সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা নদীর পানি নিয়ে শোধন করে সরবরাহ করা হবে। এ শোধনাগারটি স্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর। এছাড়াও বিকল্প স্থান হিসেবে পবার হরিপুর ও চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এ শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহের এলাকা ধরা হয়েছে সিটি রাজশাহী কর্পোরেশন ছাড়াও কাটাখালি ও নওহাটা পৌরসভা এবং এর আশপাশের ১১টি ইউনিয়ন। আর গোদাগাড়ীতে প্রকল্পটি স্থাপন করা হলে গোদাগাড়ী পৌরসভাও এ প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম জানান, ওই প্রকল্পের আওতায় নগরীর পুরনো পানি সরবরাহ লাইনগুলো সংস্কার করা হবে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ৯০ দশকে কোন পরিকল্পনা ছাড়াই রাজশাহী নগরীতে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি পানি শোধনাগার করা হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। সেগুলো এখন কোন কাজে আসছে না। এছাড়াও ১১ সালে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর শ্যামপুরে পদ্মা নদীর কোলঘেঁষে স্থাপন করা হয় শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান পানি শোধনাগার।

কিন্তু পদ্মায় চর পড়ে যাওয়ায় পানির অভাবে এক বছরের মাথায় সেই শোধনাগারটিও বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, অতীতের এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এই মেগা প্রকল্পটি স্থাপন করতে হবে। যেখানে সাধারণত পদ্মার গতিপথ পরিবর্তন হয় না, যেখানে সারা বছর পানি পাওয়া যায় এমন পয়েন্টে স্থাপন করতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজশাহীবাসী আয়রণ ও আর্সেনিকযুক্ত পানির অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে। ঘরে বসেই পাবে বিশুদ্ধ পানি।

নির্বাচিত সংবাদ