২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবিতা

জঙ্গলে টাইফুন

সৈয়দ রফিকুল আলম

মেঘদূত গোলবৃত্তে থমকে আছে আকাশ, গ্রে-রংয়ে

কালিমাসিক্ত মিশেলে সটান দাঁড়িয়ে বনবৃক্ষ-

পাখিদের উড়াউড়ি বা সরিসৃপে ছুটাছুটি;

গুমধরা বাতাসের নিস্তব্ধ নিরেটে একটিও

পাতার প্রশ্বাস নেই, হঠাৎ চাবুকের মত ঝিলিক

চমক্্ে ক্ষণিকে বিদ্যুত আঁকশির চলাকলা,

তড়িৎ বজ্রের ঢালে কালোচিতি নাগিনীর মতো

শোঁ শোঁ শীৎকার ফণা, কটেজের চাল উড়ে যায়

দিকবিদিক শূন্যের গোলপাকে শতবর্ষী বৃক্ষ

ডালাপালাশুদ্ধ উপড়ে যায় নিশ্চিত আঁধারে, শুধু-

ভাসে লাঠির গর্জন, জোড়া বৃক্ষে টরে টক্কা ডংকা।

তিতির ডানায় জমে থাকা মেঘ সরে সরে যায়

আকাশ গোঙানী থেমে যায়ঃ বহিরঙ্গ দৃশ্যমানে

ফুটে ওঠে গোলার্ধের কিয়দ্দূর নির্মূল নিশ্চিহ্নে।

অবয়ব বন্ধু

জাফর ওয়াজেদ

যে তুমি পড়ছো শুয়ে এই স্ট্যাটাস কিছু পরে লাইক দেবে

কমেন্টস করবে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়, সবকিছুতে যদিও

দিতে নেই মতামত-এমন ভাবাপন্ন হলে সীমাবদ্ধ থেকে

যাবে লাইক পর্যন্তই- কিবোর্ডে হাতের স্পর্শময়তার সুগন্ধ

কিংবা আরও দূর এগিয়ে হয়তো করবে স্ট্যাটাসই শেয়ার

এমন দুর্ভাবনার পুকুরে নেমে ডুব সাঁতারে হয়তো তা নয়

তবুও তোমার কমেন্টস পেলে পরের বাক্যে নামবো জলে...

যে-তুমি স্ট্যাটাসাসক্ত ভেবেও আমাকেও কারোনি ব্লক

এমনকি আনফ্রেন্ড সেও নয়- তবে তো তুমি অবয়ব বন্ধু

অভিমান ঝগড়ারই ভেতর থেকেও পাই যার সতেজ ঘ্রাণ

যার দূরাগত ধ্বনি মনে কম্পন তোলে আর রক্তে মাতায়

হয় তো তোমারও ক্ষরণ ঘটে যায় মনোজগতের ভেতরে

আমি প্রতিদিন ভেবে ভেবে দেই যে নিত্য নতুন স্ট্যাটাস

যাতে তুমি অন্তত কমেন্টস করে যেতে পারো ভাষ্যেরÑ

যে-তুমি পড়ছো শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে কিংবা হেলান দিয়ে

কেবল ‘লাইক’ দিয়ে থাকার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অবদান যতটুকু

কমেন্টসহীন পাঠাও আমাকে- প্রতীক্ষারত হয়তো আমি

এভাবে অবয়ব বন্ধু হয় না গ্রহান্তরেওÑ ভূমিকাতেও নয়

তার চেয়ে তুমি নিজেই দাও স্ট্যাটাসÑ বরং কৃতার্থ হই

মতামত দিতে দিতে রাত ভোর হয়ে সন্ধ্যা ফিরে আসুক।

শেফালি স-নেট

মারুফ রায়হান

শরৎ এসেছে বুঝিÑ শব্দহীন! তাই বলি, কেন

প্রেমের কবর ফুঁড়ে বেলফুল উড়ে চলে মেঘে

জিহ্বার উত্তাপ নিতে মত্ত চীল্ড্ বীয়ারের ক্যানও

বাকপরিমিতি আজ পুনঃপুন উঠছেন রেগে!

শ্বাস বন্ধ রাখে হাওয়া, কোথাও কি বাতাস বিষোবে?

বন্যবরাহের সঙ্গে কোথাও সবুজ কুঁড়ি শোবে!

বহু দূরে শীত, তবু প্রস্তুতিপর্বেই শীতনিদ্রা

মুহূর্তে বদলে নেবে পা-ুলিপি প্রতিবাদী মুদ্রা

আশ্বিনে আশিশ্ন-শির সুরাময়Ñ সঘন সন্ধ্যায়

ফেরে মন্দাক্রান্তা ছন্দ পুনরায় মন্থর মন্দায়

খোঁজো দাহমৃত্তিকায় সুর ভুলে মিহি কাশবন

ডিভোর্সি ডিভান কাঁদে: ভস্ম কর, ও আকাশবন

বিরহী সরোদে সেই পুরাতন শারদ সনেট

লুকোচুরি খেলে ধরা দেন খোদ শেফালি স-নেট

ফাঁদ

কাজী আলিম-উজ-জামান

ভৈরবকে দেখে বড্ড মায়া হয়

শরীর শুকিয়ে কাঠ,

ন্যাড়া মাথায় কীটপতঙ্গের স্বেচ্ছাচার

অবশ্য ভরা যৌবন রূপালি চাঁদ কখনো ছিল না ও

লিকলিকে শরীরে বয়ে চলত নিজের সংসারে

বাজার-সদাই করত, দুবেলা খেত, স্তন্য দিত

লকলকে বেড়ে উঠত শস্যভা-ার

শক্তি যতক্ষণ আছে,

বুক পেতে ঠাঁই দিত অপরের মালসামানা

ধরে নিয়েছিলাম,

ভৈরব আছে উন্নয়নের মহামিছিলে

ছেলেপুলে নিয়ে দিব্বি কাটিয়ে দিচ্ছে

ঘোলাজলের সংসার

ওমা একি! সে দেখি বাকল খসিয়ে

রক্তহীন ফ্যাকাশে শরীরে

মৃত্যুর অপেক্ষায় দিন গুনছে

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যদিও বা না মেলে,

কেউ কি আছে ওকে ঢাকা মেডিকেলের

জরুরি বিভাগে ভর্তি করাতে পারে!