২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঐতিহ্যের পোশাকে উৎসব-আনন্দ

  • পান্থ আফজাল

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা সন্নিকটে। ঈদের পোশাক কিনতে এরই মাঝে বিপণিবিতানগুলোতে নেমেছে মানুষের ঢল। দেশের ফ্যাশন হাউজগুলো ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতার চাহিদা মেটাতে। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড এগিয়ে চলেছে তার স্বকীয়তা নিয়ে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলেছে তার অবস্থান। ফ্যাশনের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু দক্ষ ফ্যাশন ডিজাইনার, তরুণ উদ্যোক্তা। তাদের মেধা আর মননের একাত্মতা ঘটিয়েছে আগ্রহী বেশ কিছু ফ্যাশন হাউস। ‘সউলস্টার’ তেমনি একটি লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্ম। এখানে গতানুতিক ধারার ফ্যাশন নয়, বরং গুরুত্ব পাচ্ছে নতুনদের চাহিদা আর রুচির সমন্বয়। ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে যায় মন মতো নতুন পোশাক না পেলে। তাই রোজা শুরুর আগে থেকেই জমে উঠে শহরের মার্কেটগুলো। ঈদ শুরুর আগে থেকেই বাজারে আসতে শুরু করে ঈদ কালেকশন। দেশীয় ফ্যাশন ঘরগুলোও ঈদ উপলক্ষে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নতুন পোশাকের পসরা সাজিয়েছে। হাল ফ্যাশন, দেশীয় সংস্কৃতি আর আরামের বিষয় মাথায় রেখেই ফ্যাশন ঘরগুলো মূলত পোশাকের নকশা তৈরি করে। বিভিন্ন ফ্যাশন ঘর, আর ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে এরই মধ্যে ঈদ আয়োজনের প্রায় সব পোশাকই চলে এসেছে। আপনি যদি এখনও ঈদের পোশাক না কিনে থাকেন তবে জেনে নিতে পারেন এবার ঈদে ঠিক কী ধরনের বা কী ডিজাইনের পোশাক চলছে। আর হালের ট্রেন্ডে জায়গা করে নিয়েছে কী ধরনের পোশাক।

ভিন্নতার ছোঁয়ায় সালোয়ার কামিজ

গরম আবহাওয়ায় সবাই চায় পোশাক পরে যেন স্বস্তি পাওয়া যায়। আর তাই এবার সবার পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করছে বিভিন্ন বাহারি লন আর সিøভলেস সালোয়ার-কামিজ। বাহারি রঙ আর ডিজাইনের এসব সালোয়ার-কামিজের চাহিদা রয়েছে প্রায় সকল বয়সী নারীর মাঝে। সুতি ওড়না ও হাতার লনও যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে শিফন জর্জেটের ওড়না ও হাতার লন। সেলোয়ার হিসেবে নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে “পেলাজো” বা চওড়া মুহুরির সেলোয়ার। চুড়িদারের চাহিদাও কিন্তু কম নয়। এই ঈদে সালোয়ার-কামিজের কাপড়, কামিজের হাতা এবং নেক-এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁতে বোনা সুতি কাপড়ে এমব্রয়ডারি, কারচুপি, কাঁথার কাজ ও এপ্লিকের অলংকরণ করা হয়েছে। কাট্-প্যাটার্ন ও ফিনিশিং এবং একসেসরিসের ব্যবহারে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সুতি থ্রিপিসগুলির মূল্যসীমা ২১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। এন্ডি কামিজে এমব্রয়ডারি, কারচুপির কাজ থাকছে, সাথে ওড়না ও সালোয়ারে প্রিন্ট। ফ্যাশন হাউস ইয়েলোতে এসেছে শরতের কালেকশন। প্রকৃতির বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙে সেজেছে পোশাক। সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি পোশাক পাওয়া যাবে ইয়েলোর নতুন এ কালেকশনে। সুতি, তাঁতজাত, ডবি, খাদি বিভিন্ন কাপড়ে তৈরি হয়েছে মেয়েদের ফতুয়া এবং স্কার্ট-টপ্স। ফতুয়ার মূল্যসীমা ৭৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা এবং স্কার্ট-টপ্স-এর মূল্যসীমা ১২০০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা। তবে, একটু কম দামে পেতে চাইলে যেতে পারেন ইসলামপুর বা নিউমার্কেটে।

বাহারি গাউন ও লেহেঙ্গা

তরুণীদের মাঝে এবার গাউন কেনার আগ্রহ বেশ দেখা যাচ্ছে। পশ্চিমা দেশের এই পোশাকটিকে দেশীয় চাহিদায় ক্রেতাদের কাছে নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যেই দেশীয় বুটিক হাউসগুলো পার করছে ব্যস্ত সময়। এছাড়াও মেয়েদের সিøভলেস লেহেঙ্গা আর সিøভযুক্ত লেহেঙ্গাও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। আড়ং, কে ক্র্যাফট, রঙসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে সুতির গাউন ও লেহেঙ্গা। কাটছাটে আছে ভিন্নতা। ক্রেতাদের স্বাস্থ্য, উচ্চতা সবদিক খেয়াল রেখেই বিক্রেতারা গাউনের আর লেহেঙ্গার যোগান রেখেছেন। আর তাই তো তরুণীরা লুফে নিচ্ছে নিজের পছন্দমতো। জায়গা ভেদে এসব গাউনের দাম পড়বে আড়াই হাজার থেকে দশ হাজার পর্যন্ত। অনেকে আবার গজ কাপড় কিনে নিজের ইচ্ছেমতো ডিজাইনে বানাচ্ছেন গাউন। আর লেহেঙ্গার দাম আট হাজার থেকে শুরু হয়ে পঁচিশ হাজার পজন্ত। গজ কাপড় কিনতে চলে যেতে পারেন আজিজ সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট এর মতো জায়গাগুলোতে।

শাড়িতে নারীর অহংকার

শপিং মলগুলো ঘুরে দেখা যায়, এবার নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে শিফন জর্জেট, কাতান আর জামদানির শাড়ি। ব্লাউজে চলছে পেছন দিয়ে খোলামেলা কাট। শাড়িতে জরি, পুতি, ভারি স্টোনের কাজও এবার বেশ চোখে পড়ছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের ঈদ আয়োজযাঈদ আয়োজনের পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে নিজস্ব ডিজাইনে উইভিং করা তাঁতের কাপড়, সুতি, এ্যান্ডি, জয়সিল্ক, বেক্সি ভয়েল, বেক্সি জর্জেট, বেক্সি পপলিন, ক্রেপসিল্ক, এ্যান্ডিসিল্ক, ধুপিয়ানসিল্ক, বলাকাসিল্ক এবং মসলিন।

স্ক্রিন প্রিন্ট, ব্লক, হাতের কাজ দিয়ে পোশাক ডিজাইন করা হয়েছে। তাছাড়া পোশাক অলংকরণে আরও ব্যবহৃত হয়েছে ইয়োক, পুঁথি, চুমকি, কারচুপি ইত্যাদি। ঈদের উৎসবের আমেজ ধরে রাখতে রংয়ের ক্ষেত্রে বেছে নেয়া হয়েছে উজ্জ্বল রংগুলো। উজ্জ্বল নীল, ম্যাজেন্টা, বাদামি, লাল, সি-গ্রিন, নীল ও সবুজের বিভিন্ন শেড প্রাধান্য পেয়েছে পোশাক। শাড়ির দাম স্থান ও উপাদান ভেদে ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০০ পর্যন্ত রয়ছে। তরুণীদের অনেকে পছন্দ করছেন ইন্ডিয়ান আনারকলি শাড়ি। বসুন্ধরা সিটিতে এসব শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৩০ হাজার টাকায়। তবে খুব বেশি ভারি কাজের শাড়িগুলোর জন্য আপনাকে ব্যয় করতে হবে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। কমদামে ভাল শাড়ি পেতে চলে যেতে পারেন মিরপুরের বেনারসি পল্লীতে। অসাধারণ কারিগরি নিপুণতা এবং নান্দনিক বয়ন নকশার “জামদানি” আমাদের তাঁতশিল্পের এক উজ্জ্বলতম উদাহরণ। মসলিনের পর বহির্বিশ্বে আমাদের বয়নশিল্পের গৌরব ধরে রেখেছে এই জামদানি। এমন কোন বাঙালী মেয়ে বোধ করি খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার আলমিরাতে অন্তত পক্ষে একটি জামদানি শাড়ি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এখন প্রায় সব ডিজাইনার হাউস যেমন- আড়ং, রঙ, ড্রেসিডেল, জয়ীতা, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির অনেক ভাল ভাল কালেকশন রাখে জামদানির। চাইলে বিয়ের জামদানিও খুঁজে নিতে পারেন এখান থেকে। আর সবচেয়ে ভাল হয় রূপগঞ্জ অথবা সোনারগাঁও এর জামদানি পল্লীতে যেতে পারলে। অসংখ্য রঙ আর ডিজাইন থেকে একেবারে মনের মতো জামদানিটি নিয়ে আসতে পারবেন।

সোনামনিদের পোশাক

প্রতিবারই ছোটদের পোশাকের ভেরিয়েশন থাকে চোখে পড়ার মতো। এবারও আবহাওয়া উপযোগী ছোটদের পোশাক প্রতিটি শপিংমলে শোভা পাচ্ছে। টপস,্ জিন্স, গেঞ্জিসেট, ফ্রক ও লেহেঙ্গা আপন মহিমায় শোভা পাচ্ছে। দামও হাতের নাগালে।

ছবি: মানস সেন

মডেল : সেলিম, আইরিন, রেইন, নিহারীকা ও অহনা।

পোশাক : গ্ল্যামগার্ল