২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমতলীর একটি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মচারী ১১ জন, ছাত্রীর ১০

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী (বরগুনা) ॥ বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনয়নের কালিবাড়ী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ছাত্রী পাওয়া গেছে মাত্র ১০জন। শিক্ষক কর্মচারী ১১ জন । উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসলে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী ধার এনে হাজিরা সন্তোষ জনক দেখাচ্ছে। এভাবেই কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে চলছে ৩০ বছর।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৭২ সালে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নে কালিবাড়ী নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৮৫ সালে এ বিদ্যালয় এমপিওভূক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রী শূন্য এ বিদ্যালয়টি। পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় থেকে ছাত্রী প্রক্সি এনে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজের মাধ্যমে বছরের পর বছর শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারী অংশের বেতন ভাতা ব্যাংক থেকে তুলে নিচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে ছাত্রী সংখ্যা কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে ১৩৪ জন। বাস্তবে রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২। শিক্ষক ৮ জন, কারনিক ১ ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী ২ জনসহ মোট ১১ জন। এর মধ্যে বেতনভূক্ত ১০ জন। ১ জন সদ্য নিয়োগ পেয়েছে । এখনো তার নাম এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষক কর্মচারীরা বিদ্যালয় আসলেও স্বাক্ষর দিয়ে চলে যায় নিজের কাজে।

শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় দুই শিক্ষক শ্রেনী কক্ষে পাঠদান করাচ্ছেন। দুইজন শিক্ষক ছূটিতে আছেন । সাতজন শিক্ষক কর্মচারী হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর থাকলেও তাদের বিদ্যালয়ে দেখা যায়নি। দুই জন শিক্ষক শ্রেনী কক্ষে পাঠদান করালেও ছাত্রী সংখ্যা মাত্র ১০ জন।

অষ্টম শ্রেনীর কক্ষে কোন ছাত্রী দেখা যায়নি। অষ্টম শ্রেনীর একজন ছাত্রী স্কুলে আসলেও তাকে পড়ানো হচ্ছে সপ্তম শ্রেনীতে। সপ্তম শ্রেনীতে দুইজন ছাত্রী উপস্থিত রয়েছে। অষ্টম শ্রেনীর এক জনসহ মোট তিন জন ছাত্রীকে শিক্ষক কেশব চন্দ্র পড়াচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী সংখ্যা মাত্র সাত জন। শিক্ষক শাহআলম ক্লাসে পাঠদান করাচ্ছে। কাগজে কলমে ষষ্ঠ শ্রেনীতে ছাত্রী সংখ্যা ৪২ জন, সপ্তম শ্রেনীতে ৪৫ জন ও অষ্টম শ্রেনীতে ৪৭ জন ছাত্রী দেখানো হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীদের হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানো হয়েছে ২৪ জন কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ৭ জন। সপ্তম শ্রেনীতে দুইজন উপস্থিত থাকলেও খাতায় কোন উপস্থিতি নেই। অষ্টম শ্রেনীতে একজন উপস্থিত কিন্তু খাতায় কোন উপস্থিতি নেই। তারপরও এ বিদ্যালয়ে ৫জন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হয়।