১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রিজার্ভের টাকায় পদ্মাসহ বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে ॥ গবর্নর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে রিজার্ভেরর টাকা বিনিয়েগ করবে বাংলাদেশ ব্যংক। এটি পদ্মা সেতুসহ যে কোন বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্ণর ড. আতিউর রহমান। তিনি বলেন, সরকার যখন নিজ তহবিলে পদ্মা সেতু তৈরির ঘোষণা দিয়েছে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমান ২৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। যা দক্ষীণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বচ্চ। শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৫-২০১৯’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তথ্য জানান। মিরপুর বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমীতে এটি অনুষ্ঠিত হয়। কেউ যদি টেকশই অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৭ বা ৮ বিলিয়ন মূল্যমানের বড় প্রকল্প নিয়ে আসলে সেখানে রিজার্ভ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গবর্ণর এস কে সুর চৌধুরী। তিনি বলেন, নিয়ম আছে, একটি দেশের আমাদানি ব্যয় মেটানোর জন্য কমপক্ষে তিন মাসের টাকা রিজার্ভে রাখার। আমাদের যে ২৬ বিলিয়ন আছে তা দিয়ে প্রায় ৭ মাসের ব্যয় মেটানো সম্ভব। এতে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জল হচ্ছে। কারণ আমরা এখন সার্কের মধ্যে রিজার্ভে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছি। আমাদের এ টাকা পদ্মা সেতু তৈরিতে ব্যয়ের একটা প্রস্তুতি রয়েছে। যে পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হবে তা এখান থেকে দেয়া হবে। পলিসি অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়নে এখান থেকে টাকা ব্যবহার করা হবে। তাই দেশের মধ্যে যারা অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে তাদের দেড় থেকে ২ শতাংশ সুদে এ টাকা দেয়া হবে।’ পদ্মাসেতুর তৈরির মোট সময়কে ভাগ করে নিয়ে ধাপে ধাপে এ টাকা ছাড় করা হবে বলেও জানান ডেপুটি গভর্নর।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য তৈরি করা কর্মপরিকল্পনা কেমন হবে তার বর্ণনা করতে গিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘অন্তুর্ভূক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিচক্ষণ মুদ্রানীতি গ্রহণ, রেগুলেটরী ও নজরদারি কাঠামো আরও জোরদারকরণ, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক দায়বোধ প্রণোদিত, অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৫-১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় মোটাদাগে ১৪টি কৌশল, এসব কৌশল বাস্তবায়নে ১০৫টি উদ্দেশ্য এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ৩২০টি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারন করেছি। কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়নে ৩৯৫টি সূচকও নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল বিভাগকে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

ব্যবস্থাপনা পরামর্শর জাহাংগীর কবিরের সঞ্চলনা ও ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, নির্বাহী পরিচালক মো. আহসানউল্লাহ। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা।