২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরবানির চামড়ার মূল্য নির্ধারণ

এবারের কোরবানিতে পশুর চামড়া ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী যে অবস্থান নিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সরকার কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করতে জোরালো অবস্থান নিয়েছে, তা ইতিবাচক ও কল্যাণকর। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না বলে যে দাবি তুলেছেন তা অযৌক্তিক বলে প্রতীয়মাণ হচ্ছে। কেননা কোন ব্যবসার ক্ষেত্রে সরকার নিয়ন্ত্রণ বা মূল্য নির্ধারণ করবে না এটা মেনে নেয়ার মতো নয়। বরং প্রচলিত বাজারের নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন ও সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার শামিল।

প্রতিবছর কোরবানির চামড়া নিয়ে যে নিয়মবিরুদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় তা যেন এক রকম নিয়মেই দাঁড়িয়ে গেছে। পবিত্র কোরবানি ও ধর্মীয় উৎসবের আমেজ তথা অনুভূতিকে তোয়াক্কা না করে কিছু অতি লোভী ও মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের কায়েমী স্বার্থ উদ্ধার করতে একচেটিয়া এবং ইচ্ছেমতো ব্যবসা করার চেষ্টা করে। নানা রকম ধুয়া তুলে ব্যবসার নিয়ম-নীতি না মানার প্রবণতা দেখানো হয়- যা মোটেও শোভন নয়। পাশাপাশি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে প্রবৃত্ত হয় কালোবাজারি চক্র। চামড়া পাচারের মতো গর্হিত কাজের সুযোগ নেয় তারা। এবারও এ চক্রটি সক্রিয়। মূলত এদের অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- মূল্য নির্ধারণ করা- যাতে গরিবের ন্যায্য হক আদায় হয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও চামড়া পাচার প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। ব্যবসায়ীদের যাতে কোন আর্থিক ক্ষতি না হয় বা চামড়ার মূল্যের মাধ্যমে এতিম-গরিবের হক আদায় হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পদক্ষেপ নেয়ার যে কর্মপন্থা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার উদ্যোগ রয়েছে তাতে সরকারের সদিচ্ছারই বহির্প্রকাশ ঘটছে। পাশাপাশি এ খাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এবং যাতে তারা লাভবান হন সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ব্যবস্থাও রয়েছে। যদি এই বিষয়টি ওই ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ভুলে যায় তবে তা হবে অকৃতজ্ঞতার শামিল। ব্যবসায়ী নামধারী কিছু অর্থগৃধœু সর্বশেষ যে অবস্থান নিয়েছে তাতে হীন মানসিকতার পরিচয় ঘটেছে বলেই দৃশ্যমান হচ্ছে। এ প্রবণতা নিন্দনীয়। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কোরবানির মাংসের সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার হকও গরিব-মিসকিন, এতিমদের রয়েছে। এবারের কোরবানিতেও তাদের হক পরিপূর্ণ আদায় হবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা। এতিমখানা, মাদ্রাসা বা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের মাধ্যমে এটা আদায়ের পন্থা রয়েছে। তবে কথা হচ্ছে সেখানে চামড়া বা চামড়ার মূল্য দানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এসবের ছদ্মাবরণে জঙ্গী, নাশকতাকারী মৌলবাদী শক্তি যেন পৃষ্ঠপোষকতা না পায় সেদিকে নজর রেখে দান-খয়রাত করাই হবে উত্তম। সবচেয়ে ভাল হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কোরবানির চামড়া দান করা।

এ প্রসঙ্গে সরকারের উচিত হবে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন রকম ছাড় না দেয়া, চামড়া দান বা ব্যবসার মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগী, ফড়িয়া শ্রেণী যেন গরিবের হকে ভাগ না বসায় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সর্বাত্মক গুরুত্ব দেয়া জরুরী চামড়া পাচার রোধের ক্ষেত্রে। সীমান্তসমূহে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এ ব্যাপারে সতর্কতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।