১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিনিয়োগকারীদের নগদ টাকার চাহিদা কমে যাওয়ায় সূচকের উত্থানে ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। ঈদ উল আযহার ছুটির আগের সপ্তাহে শেয়ার বিক্রির চাপ কিছুটা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ কোম্পানিরই দরই ছিল উর্ধবমুখী। যার কারণে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের চার কার্যদিবসই বেড়েছে সূচক।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পরে ডিএসইর সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স বেড়েছে ১.২৫ শতাংশ বা ৫৯.৩১ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ১.৬৩ শতাংশ বা ১৯.০১ পয়েন্ট এবং ডিএসই৩০ সূচক বেড়েছে ১.৮৫ শতাংশ বা ৩৩.৫৩ শতাংশ।

পুরো সপ্তাহে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩২৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১৫৪টির, দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টির এবং লেনদেন হয়নি ১ টির। আর টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২৫৬ কোটি ৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ টাকা।

এর আগের সপ্তাহ শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক কমেছিল ০.১২ শতাংশ বা ৫.৫৮ পয়েন্ট, ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছিল ০.৮০ শতাংশ বা ৯.৪৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই৩০ সূচক কমেছিল ০.৪৭ শতাংশ বা ৮.৮৫ পয়েন্ট। আর টাকার অংকে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ২১৬ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ৯৫৬ টাকা। সেই হিসেবে আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে ১.৮১ শতাংশ বা ৪০ কোটি ১০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৫ টাকা।

আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৮টি। আগের সপ্তাহে যার পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি ৫৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৯টি। সেই হিসেবে ডিএসইতে গত সপ্তাহে শেয়ার লেনদেন কমেছে ৮ শতাংশ। এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯০৫ টাকা। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিলো ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৮৮ কোটি ১৬ লাখ ২১ হাজার ১৪৩ টাকা। সে হিসবে আলোচিত সপ্তাহ বাজার মূলধন কমেছে ০.৯৫ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯০.২৭ শতাংশ, ‘বি’ ক্যাটাগরির ২.৯১ শতাংশ, ‘এন’ ক্যাটাগরির ৬.০২ শতাংশ এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ০.৮০ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে বস্ত্র খাতের কোম্পানি মতিন স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছিল। গত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা ও লভ্যাংশ ঘোষণার হার দুটোই বেড়েছে।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : বে´িমকো ফার্মা, ইসলামী ব্যাংক, আমান ফিড মিলস, বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড ও এসিআই লিমিটেড।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক, কাসেম ড্রাইসেল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, ইফাদ অটোস, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, অলিম্পিক ইন্ড্রাস্টিজ, বে´িমকো ফার্মা ও বিএসআরএম স্টিল।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : মুন্নু সিরামিক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মিরাকল ইন্ড্রাস্টিজ, আরামিট সিমেন্ট, ফু-ওয়াং সিরামিক, লিগ্যাসি ফুটওয়ার, বিডি অটোকারস, রহিমা ফুড ও সিনো বাংলা ইন্ড্রাস্টিজ।