১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আয়কর মেলায় উৎসবের আমেজ

  • বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপচে পড়া ভিড়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন। আয়কর মেলার চতুর্থ দিন। এদিন ভোর থেকে মষুলধারে বৃষ্টি থাকলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমে আসে। তবে, দিনভর থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। এসব উপেক্ষা করে আয়কর মেলায় ছিল করদাতা আর দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকালে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও দুপুরে পর তা বাড়ে। এ সময় ছুটির দিনে সুযোগ কাজে লাগাতে মেলায় আসেন সরকারী-বেসরকারী চাকরিজীবী করদাতারা। অনেকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন ছেলে-মেয়েকে। আবার কেউবা নিয়ে নাতি-নাতনি। সবমিলিয়ে আয়কর মেলায় আসে উৎসবের আমেজ। এছাড়া আয়কর মেলা প্রতিদিন বিকেল ৫টায় শেষ হলেও শনিবারের ব্যাপারে এনবিআর ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। ছুটির দিনে চাকরিজীবী করদাতাদের কথা বিবেচনায় এনে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমন সিদ্ধান্ত চাকরিজীবী আয়কর দাতাদের জন্য বাড়তি সুযোগ এনেছে বলে মত দেন শনিবার বিকেলে মেলায় কর রিটার্ন দাখিল করতে আসা করদাতারা।

আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিতে আসা রাজধানীর বনশ্রী থেকে আসা ফাহিমা রহমান জানালেন, আয়কর মেলায় আসছেন শুনে ওনার ছেলে আবির আর মেয়ে তানিশা বায়না ধরেছে। তাদের দাবি, মায়ের সঙ্গে তাদেরও মেলায় আনতে হবে। বাধ্য হয়ে তাদেরও নিয়ে আসলেন। আবির জানাল আম্মুর সঙ্গে আসতে পেরে তারও ভাল লেগেছে।

দিলু রোডে থাকেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি জানালেন, তার নাতি মেলার নাম শুনেই কয়েকদিন ধরে দাদার পিছু নিয়েছে। সকালেই মেলায় আশার ইচ্ছা ছিল। সকালে বৃষ্টি থাকায় তাকে নিয়ে বের হননি। বিকেলে নাতিকে নিয়ে মেলায় এসে তিনি রিটার্ন দাখিল করলেন। শ্যামলি থেকে আসলেন ফাহমিদা রহমান। তিনি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। বিকেল ৫টার দিকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রাইভেট সিএনজি নিয়ে ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাতে বাধা দেন। ফাহমিদা জানালেন, তিনি জ্বরে ভুগছেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টিতে ভিজলে, ওনার জ্বর আরও বাড়তে পারে। তবে, নাছোড়বান্দা নিরাপত্তা কর্মী। তিনি জানালেন, ম্যাডাম আপনাকে বড় ছাতার নিচে করে মেলার স্টলে পৌঁছে দেব, আবার নিয়ে আসব। তবুও ম্যাডাম বাইরের গাড়ি মেলায় ঢুকতে দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। পরে ওই শিক্ষিকাকে ওই নিরাপত্তা কর্মী বড় একটা ছাতা দিয়ে কর রিটার্ন জমা দেয়া বুথে নিয়ে যান। এমন সেবা পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট দেখায় ফাহমিদা রহমানকে।

তিনি জানালে, বৃষ্টির কারণে সকালে আসেননি। ভিড় কম হবে ভেবে বিকেলের সময়টা বেছে নিয়েছিলেন। এমনিতে ঝামেলা ছাড়াই রিটার্ন জমা দিতে তিনি সব সময় বিকেলেই মেলায় আসেন। তাছাড়া আজ আরও তিন ঘণ্টা সময় বাড়ানোকে চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ সুযোগ হয়েছে বলে মনে করেন ফাহমিদা রহমান। মেলায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য স্নাতক কামরুজ্জামান জানালেন, আয়কর মেলায় এসেছেন ইটিআইএন নিবন্ধন করতে। কর দেয়ার মতো আয় না করলেও ভবিষ্যতে তা কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া তিনি অন্যদের কাছে শুনেছেন, কর অঞ্চলগুলোতে ই-টিআইএন নিতে ঝামেলা হয় বলে, তাই মেলায় এসেছেন ঝামেলা ছাড়া ই-টিআইএন নেয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত জনতা ব্যাংকের বুথ থেকে ১৮০ জন সেবা নিয়েছেন বলে জনকণ্ঠকে জানান সেখানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা আশরাফ উল আলম। তিনি বলেন, এদিন তাদের ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। এছাড়া মেলায় ই-পেমেন্টের বুথ থেকে জানা যায় প্রতিদিনই সোনালী ব্যাংকের ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কর দেয়ার হার বাড়ছে।

মেলার প্রথম দিনে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। দ্বিতীয় দিনে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকা, তৃতীয় দিনে ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা এবং চতুর্থ দিন (শনিবার) রাত পর্যন্ত তা ১০ লাখ টাকা অতিক্রম করতে পারে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। আয়কর মেলার সময় বাড়ানো প্রসঙ্গে এনবিআর’র জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ এ, মু’মেন জনকণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রিটার্ন দাখিলের সুবিধার্থে শনিবার আয়কর মেলায় সময় ৩ ঘণ্টা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী রবি, সোম ও মঙ্গলবার আয়কর মেলা যথারীতি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে।

গত বুধবার থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শুরু হয়েছে আয়কর মেলা। এবারই প্রথমবারের মতো উপজেলা পর্যায়েও হয়েছে মেলার আয়োজন। এবারের আয়কর মেলা সাতটি বিভাগীয় শহর, ৬৪টি জেলা শহর ও ৮৬টি উপজেলায় আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে এই মেলা চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। জেলা শহরে চারদিন এবং উপজেলাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ মেলা হবে। ২৯টি উপজেলায় দুইদিন এবং ৫৭টি উপজেলায় একদিন। এনবিআরের তথ্যমতে, এই মেলা থেকে আয়কর দাতাদের রিটার্ন দাখিল, নতুন ই-টিআইএন নেয়া, পুরনো করদাতাদের নতুন করে ই-টিআইএন করে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হবে।

এনবিআর’র ওয়েব সাইটের মাধ্যমে ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে কিভাবে করদাতারা নিজেদের কর হিসাব করতে পারবেন সে বিষয়েও সহায়তা দেয়া হচ্ছে মেলায়। ২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলার আয়োজন করে আসছে এনবিআর। করদাতাদের কর দেয়ায় উৎসাহিত করা ও আধুনিক কর ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সহযোগিতা করতে এ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।