১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কোন অগ্রগতি নেই

  • পাবলিক ভার্সিটি শিক্ষকদের পে-স্কেল ইস্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজ বাসভবনে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেও পে স্কেল ইস্যুতে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পুরোপুরি ‘শান্ত’ করতে পারেননি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, শীঘ্রই সব সমস্যার সমাধান হবে। শিক্ষকরা সবাই হাসিমুখে ঘরে ফিরবেন। আর শিক্ষকরা বলেছেন, ‘ঈদের আগেই আমরা আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাই। দাবিতে আন্দোলনও চলবে, আলোচনাও চলবে’।

এদিকে, বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশের সরকারী কলেজ (৩০৫) ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে চলছে দু’দিনের কর্মবিরতি। নতুন পে স্কেল নিয়ে শিক্ষক আন্দোলনের শুরু থেকেই এবার সরকারী সফরে দেশের বাইরে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নানও। শুক্রবার তাঁরা দেশে ফিরেছেন। শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা চললেও এ বিষয়ে এতদিন কোন আলোচনা হয়নি। তবে শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী দেশে ফেরার পর শিক্ষক নেতারা তাঁর সঙ্গে আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। এরপরই শিক্ষামন্ত্রী তাঁর হেয়ার রোডের বাসভবনে শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামালসহ চারজন শিক্ষক নেতা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেও আন্দোলনরত শিক্ষকদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শিক্ষকরা নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীকে। ফলে শিক্ষকদের আন্দোলন চলমান থাকবে, সেই সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুষ্ঠিতব্য অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবে শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাবে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। বলেছেন, ইতিবাচক মনোভাব হলে অবশ্যই দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি আশা করছি, শিক্ষকদের সব সমস্যা অতিদ্রুতই সমাধান হবে এবং তাঁরা খুব শীঘ্রই হাসিমুখে ঘরে ফিরবেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের ব্যাপারে সরকারের উর্ধতন ব্যক্তিরা ওয়াকিবহাল আছেন। আমরাও এর দ্রুত সমাধান চাচ্ছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি কয়েকদিন দেশের বাইরে ছিলাম। কিন্তু প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছি। সেজন্যই কাল (শুক্রবার) দেশে ফিরেই আজ (শনিবার) তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি। শিক্ষকদের সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতোমধ্যেই শিক্ষকদের বেতন ও পদমর্যাদা পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকদের মূল দাবি অনুযায়ী পৃথক বেতন কাঠামো করা হবে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার এটি প্রত্যাখ্যান করেনি। আলোচনা হবে। তবে শিক্ষকদের মর্যাদা কোনভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আশা করছি ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোন সমস্যা হবে না। আমাদের আলোচনা চলমান থাকবে। বৈঠক শেষে শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, গত চার মাস ধরে বেতন কাঠামোর বিষয়টি নিয়ে সরকারের দৃষ্টি আর্কষণ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ আমরা দেখিনি। আমাদের প্রথম ও প্রধান দাবি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো। এ দাবিতে আন্দোলনও চলবে, আলোচনাও চলবে। ভর্তি পরীক্ষার বিষয়টি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে।

মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, আমরা বলেছি পৃথক বেতন কাঠামোর জন্য অবিলম্বে একটি কমিশন গঠন করতে হবে। তবে ঈদের আগেই আমরা আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চাই। আর অর্থমন্ত্রী এ মাসের শেষে দেশের বাইরে যাচ্ছেন, তিনি ফিরবেন আগামী মাসের ১৯ তারিখে। এ সময়কালে বেতন ও পদমর্যাদা পর্যালোচনা কমিটির কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে- সেটাও কিন্তু আমরা জানি না।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দাবি ছিল একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রণয়ন করা। কিন্তু সরকার সেটা মেনে না নিয়ে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনিষ্পন্ন বিষয়গুলো পর্যালোচনায় বেতন বৈষম্য দূর করা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে সরকারের বেশকিছু মন্ত্রী ও আমলাকে সদস্য করা হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর কাছে আগে যেহেতু আমরা সুবিচার পাইনি, আগামীতেও সুবিচার পাব বলে আশা করি না।

অচলাবস্থা সকল সরকারি কলেজে ॥ এদিকে, বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে সারাদেশের সরকারি কলেজ (৩০৫) ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে চলছে দু’দিনের কর্মবিরতি। আজ কর্মসূচির শেষ দিন। শিক্ষকদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’দিনের সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে কোন সরকারী কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। দেশের সকল সরকারী কলেজের শিক্ষক, সরকারি কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিটি) কলেজ, গভর্নমেন্ট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রকল্পে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলছে। কর্মবিরতি চলাকালে কলেজ শিক্ষকরা সব ধরনের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পরীক্ষা বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে সরকারী কর্ম কমিশনের (পিএসসি) একটি নিয়োগ পরীক্ষা কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা।

বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল সরকারী কলেজে দু’দিনের কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকরা। শনিবার সকালে কর্মসূচীর পর থেকে নগরী ও জেলার কলেজগুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২০টি সরকারী কলেজের শিক্ষকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি সমাবেশও করছেন। সকালে নগরীর চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহম্মদ মুহসীন কলেজ, সরকারী কমার্স কলেজ, সিটি কলেজ ও নাসিরাবাদ সরকারী মহিলা কলেজে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এছাড়া গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজ, পটিয়া কলেজ, কক্সবাজার সরকারী কলেজ, কক্সবাজার মহিলা কলেজ ও তিন পার্বত্য জেলার কলেজগুলোতেও কর্মসূচী পালনের খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পে স্কেলে বৈষম্যের চিত্র দেখে গত সপ্তাহেও একদিনের কর্মবিরতি পালন করেছেন সারাদেশের সরকারী কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে চলছে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি। দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে সমিতির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, নতুন পে স্কেলে টাকা বাড়লেও মর্যাদার দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন তারা। সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকারী কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেড থেকে অবসরে যাবেন, এতে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উচ্চ পদগুলোতে আসবেন, এটা বৈষম্যমূলক। এ সমস্যা সমাধান না করলে দীর্ঘমেয়াদী কঠোর কর্মসূচীর দিকে যাবেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা।

শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলছিলেন, ২৭০টি সরকারী কলেজ, তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও ১৬টি কমার্শিয়াল কলেজে এ কর্মবিরতি চলবে। তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজের অধ্যাপকরা (সর্বোচ্চ পদ) চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন আংশিক অধ্যাপক গ্রেড-৩-এ যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় এখন এই পথ বন্ধ হয়ে গেল।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সরাসরি গ্রেড-৩-এ উন্নীত হন। অথচ শিক্ষকদের বেলায় গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি হওয়ার পর গ্রেড-৪-এ উন্নীত করা হয়। এই বৈষম্য নিরসনেরও দাবি করে আসছেন তাঁরা। কিন্তু সেটা নিরসন না করে উল্টো সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ২৭২টি সরকারী কলেজ, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), ১৬টি সরকারী কমার্শিয়াল কলেজ ও চারটি সরকারী মাদ্রাসা-ই-আলিয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ আছে ১৫ হাজার ২৪৬টি। এরমধ্যে অধ্যাপকের পদ ৬৩৪টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ৪০৩টি, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২১৪টি ও প্রভাষকের পদ সাত হাজার ৯৯৫টি।

পে স্কেলে প্রভাষকরা বেতন পাবেন নবম গ্রেডে, সহকারী অধ্যাপকরা সপ্তম গ্রেডে, সহযোগী অধ্যাপকরা পঞ্চম গ্রেডে এবং অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেডে। তবে মোট অধ্যাপকের অর্ধেকের সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বেতন পান তৃতীয় গ্রেডে। যেহেতু এখন আর সিলেকশন গ্রেড থাকবে না সেহেতু বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। আর এমন বৈষম্যের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

জানা যায়, সরকারী কলেজের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগে। এরপর সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হতে লাগে আরও তিন বছর। আর সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হতে সময় লাগে আরও দুই বছর। মোট ১০ বছরে অধ্যাপক হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় লাগে ১৮ থেকে ২২ বছর। আর সিলেকশন গ্রেড পেতে সময় লাগে আরও কয়েক বছর।

শিক্ষকরা জানান, অষ্টম বেতন স্কেলে তাদের বেতনের টাকা বাড়লেও পদের দিক দিয়ে অবনমন হচ্ছে। তাঁরা মোট চারভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তাঁরা আর তৃতীয় গ্রেডে উঠতে পারবেন না। এতে ৩০ বছর চাকরি করেও তাঁদের চতুর্থ গ্রেডে থেকেই অবসরগ্রহণ করতে হবে। অথচ প্রশাসনের উপসচিব পদ পঞ্চম গ্রেডের। তাঁরা পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম-সচিব হয়ে এক ধাপ ডিঙ্গিয়ে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে চলে যান। এতে দুই ক্যাডারের বৈষম্য বাড়বে।

কর্মবিরতি প্রাথমিকেও ॥ বেতন স্কেল পুনর্নির্ধারণসহ ছয় দফা দাবি পূরণে দেশের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের চারটি সংগঠন শনিবার থেকে কর্মবিরতি পালন করছে। আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং মঙ্গলবার সারাদিন কর্মবিরতি পালন করবেন তারা। শুক্রবার শিক্ষকদের চারটি সংগঠন- বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফোরাম কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।

নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৫ দফা ॥ জাতীয় বেতন কাঠামোতে সৃষ্ট বৈষম্য দূরীকরণে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সাড়ে তিন লাখ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। শনিবার সকালে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সরকারী কর্মকর্তা পরিষদের মহাসচিব মোঃ জিন্নাত আলী বিশ্বাস।