২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অক্টোবরে চার থেকে পাঁচ মামলার তদন্ত রিপোর্ট

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে চার থেকে পাঁচটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঈদের পর অক্টোবরের দিকে দেয়া হবে। এছাড়া তদন্ত সংস্থার হাতে যে সমস্ত মামলা রয়েছে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। সারাদেশ থেকে আসা ৩২২৯ আসামির বিরুদ্ধে ৫৮৫টি অভিযোগ এসেছে তদন্ত সংস্থায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল একটি নিষ্ক্রিয় রেখে একটি সচল করে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, এতে করে তদন্ত সংস্থার মামলা তদন্ত করতে কোন অসুবিধা হবে না। এর আগে যখন একটি ট্রাইব্যুনাল ছিল তখনও তদন্ত করা হয়েছে, দুটি হলেও তদন্ত সংস্থা মামলার তদন্ত করেছে। এখনও করে যাবে। বতর্মানে তদন্ত সংস্থার মামলা করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ স্থানীয়পর্যায়ে রাজাকারদের তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে অনেক পুরনো কাগজপত্র পাওযা যায় না। সে কারণে একটু দেরি হয়ে থাকে। তদন্ত সংস্থা সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৬ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পাশাপাশি মামলা তদন্ত করার জন্য তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। তদন্ত সংস্থা এর আগে প্রায় দুই ডজন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, যার ভিত্তিতে প্রসিকিউশনপক্ষ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দখিল করেছে। ইতোমধ্যে ২১টি মামলায় ২৪ জনকে বিভিন্ন ধরনের দ- দেয়া হয়েছে। তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক সানাউল হক জনকণ্ঠকে বলেছেন, ঈদের পর আমরা চার থেকে পাঁচটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারব বলে আশা করছি। তদন্ত প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশের পর প্রসিকিউটর দফতরে দাখিল করা হবে। এরমধ্যে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, মুক্তাগাছা, যশোর, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালীর মামলা রয়েছে। যদিও কিছু মামলায় কয়েকজন আসামির নাম এসেছে। তবে আমরা কৌশলগত কারণে এদের নাম প্রকাশ করছি না। তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি ট্রাইব্যুনাল একটি নিষ্ক্রিয় করার ফলে আমাদের তদন্তকাজের গতি পরিবর্তন হবে না। আগেও যেভাবে কাজ করেছি এখনও সেভাবেই করে যাচ্ছি।

তদন্ত সংস্থা যে সমস্ত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে তার মধ্যে রয়েছে গিয়াস উদ্দিন কাদের (গিকা) চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, মোঃ নাসির, আশরাফ হোসেন, আঃ খালেক তালুকদার, মহিবুর রহমান বড় মিয়া, সালামত উল্লাহ খান ওরফে আঞ্চুবর পাঁচাইয়া রাজাকার, আলাউদ্দিন চৌধুরী, মাওলানা আকমল আলী, লাল মিয়া, মোঃ মতিন মিয়া, আলবদর কমান্ডার শামছুল হক, রাজাকার কমান্ডার নেছার আলী, রাজাকার কমান্ডার ইউনুছ মৌলভী, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির, হাজী মোঃ আমজাদ আলী, রাজাকার আজিজ (হাবুল), রাজাকার আব্দুল মতিন, আবুল ফালাহ মুহাম্মদ ফাইজুল্লাহ, আবু ছালেহ মোঃ আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়া মারা আজিজ, লিয়াকত আলী, সৈয়দ মোহাম্মদ হুসাইন ওরফে হোসেন, এনায়েত মোল্লা, রাজাকার আমির আলী, আয়নাল খাঁ, মোঃ আশ্রাব আলী, এমদাদুল হক ওরফে টাক্কাবালী, মহসীন হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

যারা হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরিত, অপহরণ ও আটকের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল, তাদের বিচারের জন্য গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলার সংখ্যা বাড়া এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালে ২১টি মামলার রায় হয়েছে। তার মধ্যে ২৪ জনকে বিভিন্ন দ- প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭ জনকে মৃত্যুদ-, একজনকে যাবজ্জীবন কারাদ-, একজনকে ৯০ বছরের কারাদ- ও পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ দশটি এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এগারোটি রায় প্রদান করেছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া দ-ের বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে পাঁচটি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলেও এখন পর্যন্ত তিনটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়নি।

ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ বছর পাঁচ মাস ২০ দিন পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় একটি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বিচারপতি আনোয়ারুল হককে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেনÑ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২-এ কর্মরত সদস্য বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম ও সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী। তবে অপর ট্রাইব্যুনালটি পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত অগঠিত অবস্থায় থাকবে। এদিকে, আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক ১৭ সেপ্টেম্বর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মামলার সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুটি ট্রাইব্যুনালের মধ্যে একটি আপাতত অকার্যকর রাখা হয়েছে। যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন আছে তাতে একটি ট্রাইব্যুনাল দিয়ে কাজ করা যায়। যখনই মামলা বাড়বে প্রয়োজন হলে দুটি নয়, একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।