২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশী নজরদারিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসামির লাশ পাওয়া গেল নদীতে

  • হবিগঞ্জে তোলপাড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ, ১৯ সেপ্টেম্বর ॥ পুলিশের কর্মকর্তার নির্দেশে নজরদারি অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছালাম মিয়া নামে এক হত্যা মামলার আসামির মৃতদেহ নদীতে পাওয়া নিয়ে হবিগঞ্জের সর্বত্র তোলপাড় চলছে।

সম্প্রতি বাড়ির জমি সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে সদর উপজেলার শরীফপুর গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে মাসুক আলী নামে একজন গুরুতর আহত হন। ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে মারা যান। মাসুক মারা যাওয়ার পর তাৎক্ষণিক কোন মামলা হয়নি। তবুও প্রতিপক্ষের মৌখিক কথাবার্তায় সদর থানার ওসি নাজিম উদ্দিনের নির্দেশে কামরুল হাসান ও ছালামকে আটক করলে অজ্ঞাত কারণে তারা আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে ওসি নাজিমের নির্দেশে দুজনকেই হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। সেই সঙ্গে তাদের পুলিশী প্রহরায় কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পরিবার। শুক্রবার হাসপাতালের খাতায় চিকিৎসাধীন থাকলেও আব্দুস ছালামের মৃতদেহ হবিগঞ্জ শহর সংলগ্ন খোয়াই নদীতে ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয় লোকজন তা দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করলে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ছালামের ঘাড় মচকানো ও দেহের অন্যান্য স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় উদ্ধারকারী এসআই কৃষ্ণ মোহন ও স্থানীয় লোকজন।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা ছালাম কিভাবে হাসপাতাল থেকে অন্যত্র গেল বা করুণ মৃত্যু হলো-তা নিয়ে সর্বত্র চলছে গুঞ্জন। এ অবস্থায় একজন জনপ্রতিনিধির নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাবশালী ওসি নাজিম উদ্দিনের সাফ বক্তব্য- তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তারপর সে মামলা হওয়ার ভয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে, নাকি হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওসির এই বক্তব্য ছালামের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। অনেকেই একে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার শামিল বলে মন্তব্য করে বলছেন, পুলিশ হেফাজতে থাকলে কিভাবে এক ব্যক্তি নিজে অন্যত্র চলে গিয়ে লাশ হয়। সাধারণ মানুষের অভিমত, হয় তো আসামিপক্ষের সঙ্গে কোন গোপন আঁতাতের মাধ্যমে সুকৌশলে ছালামকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে সহায়তা করে এবং তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার পর নদীর পানিতে ফেলে দেয়া হয়। ‘ছালামের মৃত্যু’ এখন ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে। ছালামের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর পর প্রভাবশালী চক্র ও পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার যেমন চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি ছালামের পরিবারের লোকজনও ভয়ে এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।