১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শক্তি সঞ্চয়ে প্রয়োজন বিদেশ সফর ॥ বিজয়

শক্তি সঞ্চয়ে প্রয়োজন বিদেশ সফর ॥ বিজয়

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ঘরের মাটিতে যেকোন দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ ভারতীয় ক্রিকেট দল। ভারত সফরে বিশ্বের যেকোন দল এসেই নতি স্বীকার করে। কিন্তু উল্টোটা ঘটে যখন ভারতীয় দল বিদেশ সফরে যায়। সেটা গত চার বছরের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। ২০১১ সালের পর প্রথম কোন সফরে টেস্ট সিরিজ জিততে পেরেছে ভারত। গত মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়টাও লঙ্কান মাটিতে ২২ বছরে প্রথম জয়ের ঘটনা। তবে এমন জয় পেতে হলে, নিজেদের সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য এবং একটি সুসংবদ্ধ দলে পরিণত হওয়ার জন্য বেশি বেশি বিদেশ সফর প্রয়োজন বলেই মনে করেন ভারতীয় দলের ওপেনার মুরালি বিজয়। দেশের মাটিতে খেলার চেয়ে বিদেশের মাটিতে খেললেই প্রতি ক্রিকেটারের সক্ষমতা, দুর্বলতা আর যোগ্যতা বেরিয়ে আসে বলে দাবি তার।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা সফর করেছে। সবমিলিয়ে খেলেছে ১৭ টেস্ট। এর মধ্যে মাত্র তিন টেস্ট জিততে পেরেছে তারা। সফলতম সফর ছিল গত মাসে শ্রীলঙ্কায়। ২২ বছর পর লঙ্কাভূমিতে টেস্ট সিরিজ জয় করে এসেছে বিরাট কোহলির দল। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘সত্য কথা হচ্ছে, গত দেড় মৌসুমে আমরা দেশের বাইরে যত খেলেছি সেটাই আমাদের বেশি সংঘবদ্ধ করতে পেরেছে। এই চিন্তা পদ্ধতিটা সবার মধ্যেই একই। সবাই একই লক্ষ্যে এগোতে চায়। এ কারণে অনেক ভাল বিষয় আমাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে। যখন আমরা হারছিলাম তখনও পরিবেশটায় পরিবর্তন আসেনি। সবাই অনেক কিছু শিখেছে এবং যা কিছু ঘটেছে সে জন্য হতাশায় নিমজ্জিত হয়নি। সবাই একটা বিষয় চিন্তা করেছে সেটা হচ্ছে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কারণ সবাই একই পর্যায়ের এবং একই বয়সের। এ কারণে কঠিন পরিস্থিতিতেও মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা সম্ভব হয়েছে এবং সবাই সময়গুলো উপভোগ করেছে। ঘরের বাইরে থাকার কারণে পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়াটা বেড়েছে এবং সুযোগ করে দিয়েছে সঠিক পথ খুঁজে বের করার।’

গত কয়েক বছরে ভারতীয় দল কয়েকজন ভাল ব্যাটসম্যান পেয়েছে। আগামী দিনে দলের তারাই হাল ধরবেন। বিজয় ছাড়াও ভারত পেয়েছে শিখর ধাওয়ান, চেতেশ্বর পুজারা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে ও রোহিত শর্মার মতো নির্ভরতা পাওয়া সম্ভব এমন কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে দলে এখন যারা আছেন তারা সবাই বেশ মেধাবী এবং টিকে থাকার জন্য ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতাও আছে।’ এখন আর ভারতীয় দল একজন ক্রিকেটার নির্ভর দল নয়। তবে সে জন্য কেউ কাউকে প্রতিপক্ষও ভাবছে না। এ বিষয়ে বিজয় বলেন, ‘আমি কখনই এভাবে চিন্তা করি না। যদি শিখর রান পেতে থাকে আমি তাকে কৃতিত্বটা দেয়ার জন্য প্রস্তুত। আমি তার প্রশংসা করে বলতে চাই-তুমি দারুণ ব্যাট করেছ। সেটা তিনিও আমার ক্ষেত্রে করেন। এটা কোন ব্যাপার নয় যে একজন ১৫০ করেছে আর আমি ১৮০ করেছি। অন্যতম বিষয় হচ্ছে একসঙ্গে উইকেটে যাওয়া এবং দলের জন্য ভাল কিছু করা।’ বিজয় বর্তমানে রবি শাস্ত্রী, বি অরুন, আর শ্রীধর ও সঞ্জয় বাঙ্গারকে নিয়ে গঠিন কোচিং স্টাফের কর্মকা-েরও যথেষ্ট ভূমিকা দেখছেন। তিনি মনে করেন দলের মধ্যে একটি সুন্দর মানসিকতা তৈরিতে তাদের অবদান প্রচুর। তিনি বলেন, ‘আমরা ড্রেসিংরুমে দারুণ এক পরিবেশ পেয়েছি। রবি ভাই সবাইকে উজ্জীবিত করতে শতভাগ চেষ্টাই করেন। সবাই নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েই আমাদের ভাল একটি পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।’