১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্যালেন্টে বিশ্বাসী নন রোহিত

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড তার দখলে, একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে হাঁকিয়েছেন দু-দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। অনেকেই বলেন, গ্রেট শচীন টেন্ডুলকরের পর ভারতের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা। কিন্তু রোহিত নিজে সেটি মানেন না। তার কাছে ‘ন্যাচারাল ট্যালেন্ট’ বলে কিছু নেই, যা পাওয়ার তা কষ্ট করে অর্জন করতে হয়। পরিশ্রমকেই সাফল্যের চাবিকাঠি- তত্ত্বে বিশ্বাসী ২৮ বছর বয়সী মহারাষ্ট্র তারকা। মানুষ যখন বলে, ‘ছেলেটা আসলেই ট্যালেন্ট। আমি কিছুটা অবাক হই। ন্যাচারাল ট্যালেন্ট বলে কিছু নেই। তারা জানে না এ জন্য কী রকম পরিশ্রম করতে হয়’- বলেন রোহিত।

ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান মূলত ওয়ানডে স্পেশালিস্ট। ২০০৭ সালে আগামনের পর ১৩৮ ম্যাচে করেছেন ৪৩১২ রান। সেঞ্চুরি ৭ ও হাফ সেঞ্চুরি ২৬টি। ডাবল সেঞ্চুরি ২। সর্বোচ্চ ২৬৪। রঙিন পোশাকে সাফল্যের বেশিরভাগই পেয়েছেন ওপেনার হিসেবে। সে তুলনায় টেস্টে সুযোগ কমই হয়েছে। সম্প্রতি মহেন্দ্র সিং ধোনি অবসরে যাওয়ায় শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট দলে ছিলেন। যদিও ব্যাটিং করতে হয়েছে পাঁচ-ছয় নম্বরে। ছোটবেলার উদাহরণ টেনে রোহিত আরও বলেন, ‘ট্যালেন্ট শব্দটা আমার সঙ্গে যায় না। কারণ ছোটবেলায় আমি বোলার হিসেবে শুরু করেছিলাম। আজকের ব্যাটসম্যান হতে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়েছিল। সুতরাং ট্যালেন্ট বলে কিছু হয় না। সব মিডিয়ার তৈরি। সাংবাদিকদের আবেগী নাম!’

দীর্ঘ ২২ বছর পর শ্রীলঙ্কার মটিতে টেস্ট সিরিজ জেতে (২-১) বিরাট কোহলির ভারত। দুই হাফ সেঞ্চুরিতে সেখানে চতুর্থ সর্বোচ্চ ২০২ রান রোহিতের। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭৯। ভারতের হয়ে তার চেয়ে বেশি রান করেন কেবল কোহলি। সম্ভাবনা জাগিয়েও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। পেতে পেতেও পাননি সেঞ্চুরি। এ প্রসঙ্গে রোহিতের বক্তব্য, ‘এটা ঠিক আমার দু-একটি ইনিংস আরও বড় হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কান কন্ডিশনে গ্রিপ করতে সমস্যা হয়েছে। আশা করছি ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সেটি পারব। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।’ ২০০৭ সালে ওয়ানডে দিয়ে আগমন হলেও টেস্টে সুযোগ পেতে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয় রোহিতকে। ২০১৩ সাল থেকে সাদা পোশাকে খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ। ২ সেঞ্চুরিতে রান ৮৭০।

টেস্টে ওপেনিংয়ে দারুণ করছেন মুরলি বিজয়, রাহুল শর্মা, চেতেশ্বর পুজারারা। কোহলির টেস্ট দলে তাই ওপেন করার সুযোগ নেই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ওপেনারের। বিষয়টা মেনে নিয়েই এগোতে চান রোহিত। দলের প্রয়োজনে আট নম্বরে ব্যাটিং করতে সমস্যা নেই বলেও জানিয়েছেন। পাশাপাশি অকেশনাল স্পিন বোলিংয়ে প্রয়োজন মেটাতে চান। একই সঙ্গে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে এখনও বড়মাপের মনে করেন না রোহিত। এজন্য আরও বেশি খেলে নিজেকে তৈরি করে নিতে চান।

আমিরকে নিয়ে কোন অস্বস্তি নেই ॥ ব্রড

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূত্রপাত ঘটেছিল ২০১০ সালে। সে বছর জুলাইয়ে লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের তিন ক্রিকেটার সালমান বাট, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির স্পট ফিক্সিং কা- ঘটিয়েছিলেন। সে জন্য তাদের ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কারাদ-ও হয়েছিল। ফিক্সিং কা-ে কারাদ-ের ঘটনা সেটাই প্রথম। তবে সবকিছু কাটিয়ে এখন ক্রিকেটে ফেরার লড়াই শুরু করেছেন এ পাক ক্রিকেটত্রয়ী। অন্য দুই ক্রিকেটারের ফেরাটা কঠিন হলেও আমির বেশ দ্রুতই ফিরবেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। সেটা আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরেই হতে পারে। ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড দাবি করেছেন আমিরের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে অতীত কোন ঘটনা প্রভাব বিস্তার করবে না। তিনি মনে করেন আমিরকে অন্য যেকোন প্রতিপক্ষের মতোই মোকাবেলা করবে ইংল্যান্ড দল। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরের পর আর কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি আমির। তবে শাস্তি ও নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পথে রয়েছেন আবারও। আগামী অক্টোবরে আরব আমিরাতে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। পূর্ণাঙ্গ এ সিরিজে আছে তিন টেস্ট, চার ওয়ানডে ও তিন টি২০। তবে পাকিস্তান দলে নেই আমির। কিন্তু পরবর্তী বছর পাক দলের ইংল্যান্ড সফর রয়েছে। সে সময় এ তরুণ পেসারের ফেরার সম্ভাবনা আছে। আবারও আমিরের বিপক্ষে খেলার বিষয়ে ব্রড বলেন, ২০১০ সালের টেস্ট জয়ের ওপর অবশ্যই একটা কালো মেঘ আছে। কিন্তু আইসিসি এই খেলোয়াড়দের শাস্তি দিয়েছে, তারা এখন সেটা শেষ করে ফেলেছেন। আমি অনেক সাক্ষাতকারে শুনেছি তিনি অতীত ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।