২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হেমন্তকে বহিষ্কার করলেন কোচ লোপেজ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নতুন কোচ ফ্যাবিও লোপেজের পাঠশালায় তালিম নেয়া অব্যাহত আছে মামুনুলদের। ফিফা বিশ্বকাপ ও এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী ম্যাচ (এ্যাওয়ে) আগামী ১৩ অক্টোবর কিরগিজস্তানের বিপক্ষে। এই ম্যাচকে সামনে রেখেই প্রথম এ্যাসাইনমেন্ট পেয়েছেন নতুন এই ইতালিয়ান কোচ। গত সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ৪১ জনের প্রাথমিক দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এদের নিয়ে একটি আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প মঙ্গলবার থেকে মতিঝিলে অবস্থিত বাফুফে ভবনে শুরু হয়। বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ফুটবলারদের নিয়ে নেমে পড়েন দলের নতুন হেড কোচ ফ্যাবিও লোপেজ (ইনজুরির কারণে হেমন্ত ভিনসেন্ট ও দেশের বাইরে থাকায় জামাল ভুঁইয়া হাজির ছিলেন না)। ঘোষিত বিশাল স্কোয়াড নিয়ে যাত্রা শুরু করেন লোপেজ। প্রথমে ঠিক ছিল তার অধীনে আপাতত ঢাকাতেই পাঁচ দিনের অনুশীলন চলবে। ৪১ ফুটবলারকে যাচাই-বাছাই করবেন নতুন কোচ। কোচিং স্টাফদের নিয়ে লোপেজ ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সাভারের জিরানির বিকেএসপিতে শুরু করতে পারেন আবাসিক ক্যাম্প। তবে নতুন খবর হচ্ছে, আজ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দলবহর নিয়ে বিকেএসপি যাচ্ছেন না লোপেজ। যাবেন ঈদের পর। ঈদে অবশ্য দিন দুয়েকের ছুটি দেয়া হতে পারে ফুটবলারদের।

রবিবার প্রাথমিক দলকে দুই ভাগ করে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলাবেন লোপেজ। ম্যাচটি হবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব মাঠে। তবে বৃষ্টি হলে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাফুফে আর্টিফিসিয়াল টার্ফে। বিকেএসপি যাওয়ার আগেই কিছু খেলোয়াড়কে ছেঁটে ফেলতে চান লোপেজ। তখন ছোট হয়ে যাবে দল। তারপর বিকেএসপিতে ক্যাম্প হলে শেষদিকে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষিত হবে ২৩ জনের। পরে চূড়ান্ত দল নিয়ে আগামী ৯ অক্টোবর কিরগিজস্তানের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ দল।

বৃহস্পতিবার প্রথম দিন লোপেজ ফুটবলারদের করিয়েছেন ফিজিক্যাল ট্রেনিং। বল ছাড়া অনুশীলন কমই করান। গত ৮ সেপ্টেম্বর জর্দানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যেসব ফুটবলার খেলেছিলেন, তাদের নিয়ে একটি গ্রুপ এবং যারা খেলেননি বা দলে নতুন মুখÑ তাদের নিয়ে আরেকটি গ্রুপ করে তারপর অনুশীলন করিয়েছেন। তীব্র গরমের কারণে দেড় ঘণ্টার বেশি কোচ অনুশীলন করাতে পারেননি। সমস্যাটা খেলোয়াড়দের নয়, কোচের। কারণ বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়ার সঙ্গে এখনও খাপখাইয়ে নিতে পারেননি তিনি। জর্দানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলের খেলা দেখে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি লোপেজ। তিনি নাকি কিরগিজস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে দলে বেশকিছু পরিবর্তন আনতে পারেন।

বাংলাদেশ দলের নতুন দুই কোচ (সহকারী কোচ কস্তানতিনো জুকারিনি এবং ফিটনেস কোচ এ্যাঞ্জেলো পাভিয়া। দুজনেই ইতালিয়ান) বাংলাদেশে এসেছেন বৃহস্পতিবার এবং অনুশীলনেও তারা ছিলেন।

জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প শুরু হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে শুরু থেকেই অনুপস্থিত হেমন্ত ভিনসেন্ট বিশ্বাস। কারণ হিসেবে সবার জানা ছিল তিনি ইনজুরিতে। তবে শনিবার ক্যাম্পে যোগ দিতে গিয়ে জানা গেল প্রকৃত ঘটনা। কোচ লোপেজ তাকে ক্যাম্প থেকে বের করে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, অসুস্থ থাকাকালীন অন্যত্র ভাড়াটে (খেপ) খেলোয়াড় হিসেবে ঢাকার বাইরে (দিনাজপুরে) খেলতে গিয়েছিলেন তিনি। এজন্য বাফুফে ইতোমধ্যে তাকে শোকজও (কারণ দর্শানোর নোটিস) করেছে। তার জবাব শনিবারই দিয়েছেন হেমন্ত। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ জানান, ‘যতদূর জানি, হেমন্ত লিখিতভাবে তার দোষ স্বীকার করেছে।’ হেমন্ত ফেডারশেনকে অসুস্থতার কথা জানালেও তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোচ লোপেজ তাকে ক্যাম্পে স্থান দিতে অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে হেমন্ত বলেন, ‘আমি আসলে ভাই কোনদিনই খেপ খেলিনি। তবে যেটাতে খেলেছি, আসলে ওটা ভাড়ায় খেলা বলা চলে না। আমার এলাকাতেই জাতীয় দলের সম্মানার্থেই একটি প্রীতিম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলাম।’ বাফুফের শোকজ প্রসঙ্গে হেমন্ত বলেন, ‘হ্যাঁ নোটিস পেয়েছি, তার জবাবও দিয়েছি আমি।’ এখন সিদ্ধান্ত বাফুফের। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ও ন্যাশনাল টিম কমিটি ব্যাপারটি তদন্ত করে তাকে অনুমতি দিলেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে স্থান দেয়া হবে তাকে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে লেবাননের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই পর্বের প্রথম রাউন্ড খেলতে যাওয়ার আগে বিকেএসপিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে একদিনের ছুটি পেয়ে মানিকগঞ্জে পৌর মেয়র গোল্ডকাপে ভাড়ায় (খেপ) খেলতে গিয়েছিলেন মিঠুন চৌধুরী এবং জাহিদ হাসান এমিলি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাদের ঘরোয়া ফুটবলে পাঁচ ম্যাচ বহিষ্কার সঙ্গে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটি। পরে এই দুই ফুটবলারের তখনকার ক্লাব বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র কর্তৃক বাফুফে সভাপতি বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন এমিলি-মিঠুনের শাস্তি মওকুফ করে দেন। এখন দেখার বিষয়, হেমন্তর ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।