২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দস্যুদের তৎপরতা থামছে না

  • সুন্দরবনে সাত বছরে নিহত ৭৬

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গত সাত বছরে বাহিনী প্রধানসহ ৭৬ দস্যু নিহত ও ৩৭০ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও জল ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থামছে না। দস্যু বাহিনী প্রধান নিহত হলেও আবার নতুন নামে বাহিনী গঠন করে ডাকাতি চলছে। বন্ধ করা যাচ্ছে না বনজসম্পদ পাচার এবং বাঘ-হরিণ নিধন।

একাধিক সূত্র মতে, সুন্দরবনে এখনও প্রায় এক ডজন দস্যু বাহিনী তৎপর। এসব সশস্ত্র বাহিনীতে দুই শতাধিক বনদস্যু ও জলদস্যু সক্রিয়। যাদের কাছে দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। বনজীবী ও জেলেদের ধরে মুক্তিপণ আদায় এদের মূল লখ্য। দাবিকৃত টাকা না পেলে তারা ট্রলারে হামলা চালিয়ে জাল-মাছসহ মালামাল লুটে। জেলে-বনজীবীদের অপহরণ করে। মুক্তিপণের টাকা না পেলে পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেয়। কখনও কখনও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হাত-পা বেঁধে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে। গুলি করে হত্যা করে। দস্যুদের বেপরোয়া তা-বের কারণে সাগর ও বনের ওপর নির্ভরশীল জেলেরা আতঙ্কিত থাকে। তারা অতিষ্ঠ হয়েও নিরুপায়। প্রতিবছর দস্যুরা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর থেকে শত শত জেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে। লুটে নেয় মাছ, জাল, মালামাল।

র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফরিদুল আলম জানান, ২০০৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শুধু র‌্যাবের অভিযান ৩শ’ ৭০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এ সময়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে ৭৬ বনদস্যু। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুন্দরবন থেকে বনদস্যুদের তৎপরতা বন্ধ করতে হলে সবার আগে সুন্দরবন উপকূলীয় বনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ইলিশ মৌসুমে জেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। বনবিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বনজীবীদের সার্বিক সহয়তা করা প্রয়োজন। তাদের মতে, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবীদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব ও দস্যুদের অত্যচার-নির্যাতনের ফলে উপকূলের হাজার হাজার পরিবার মানবেতর জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। বাঘ-হরিণসহ বন্যপ্রাণী ও জলজ সম্পদ যথাযথ রক্ষা করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, দস্যুতা দমন ও সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য যুগপোযোগী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বনরক্ষীদের পাশাপাশি দস্যুদের তৎপরতা রুখতে পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সক্রিয় অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমানে বনদস্যুদের তৎপরতাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ১১০ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সদর উপজেলার বহর এলাকায় ১১০ ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ভিটেমাটি নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একটি ভূমিখেকো চক্র বসতভিটে থেকে তাদের উচ্ছেদে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো তাদের নিরাপত্তা বিধানে সিলেট জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার বহর পশ্চিম মৌজায় খাস খতিয়ানের ৩০ একর টিলা ভূমিতে ১১০ মুক্তিযোদ্ধা ও ভূমিহীন পরিবার বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি স্থানীয় একটি ভূমিখেকো চক্র তাদের উচ্ছেদ ও উৎখাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওই চক্র খাস খতিয়ানের টিলা ভূমি কর্তনসহ চারদিক থেকে প্রতিবন্ধতা সৃষ্টি করে তাদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। পাশাপাশি হামলা ও মিথ্যে মামলা দিয়ে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে হয়রানি করছে।