২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেঁতুলিয়ায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন

  • পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, পঞ্চগড় ॥ পঞ্চগড়ের তেঁতলিয়ায় বোমা মেশিন (ড্রিল ড্রেজার) দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও রাতের আধারে নানা কৌশলে দুর্বৃত্ত চক্র বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ওই চক্রটি খাস জমিতে এবং নদীতে বোমা মেশিন বসিয়ে কোটি কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করলেও নিরব প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, পাথর বিক্রির টাকার অংশ চলে যায় কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের পকেটে। বোমা মেশিন মালিকরা এতোই ক্ষমতাধর যে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ প্রতিবাদকারীদের মারধরেরও শিকার হতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ভজনপুর ইউপি চেয়ারম্যান খুনিয়াগছ এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে বোমা মেশিন বন্ধ করতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনায় অবশ্য তিনি ১৪ জনকে আসামি করে তেঁতুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এ পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি।

অভিযোগে জানা যায়, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। অনেকেই জেলও খেটেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামসহ হত্যাকা-ের ঘটনাও ঘটেছে। তবুও বন্ধ হয়নি বোমা মেশিন। তবে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টের একটি রায়ের পর কিছুদিন থেমে ছিল বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি চক্র সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে আবারও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব শুরু করেছে।

জানা গেছে, রাতের আধারে ভজনপুরের খুনিয়াগছ এলাকায় বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে এমন খবরে মঙ্গলবার রাত ৯টায় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন, ইউপি সদস্য এবং কয়েকজন গ্রাম পুলিশসহ খুনিয়াগছ এলাকায় বোমা মেশিন উদ্ধারে যায়। এ সময় ওই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে হারুন, ফজলু, ফরিদ এবং শাহিনুরসহ বোমা মেশিন মালিক পক্ষ তাদের রাতভর আটকিয়ে রেখে শারীরিক নির্যাতন করে। বোমা মেশিনে পাথর উত্তোলনকারী এই চারজন একে অন্যের ভাই বলে জানা গেছে। অবরুদ্ধ অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বারবার ফোন করেও কোন সহযোগিতা পাননি। তবে ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মেশিন মালিকরা পালিয়ে যায়। এসময় ৪০ হর্সের একটি বোমা মেশিন উদ্ধার করে ইউপি চেয়ারম্যান। একই দিন তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার বোমা মেশিন মালিক আরিফ হোসেন মেশিনে পাথর উত্তোলনের সময় ইউনিয়ন পরিষদের অভিযানে ধরা পড়লেও মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। স্থানীয়রা জানায়, ৪০ হর্সের একটি বোমা মেশিন দিয়ে এক রাতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার পাথর উত্তোলন করা হয়। তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর, শিবচন্ডি, বুড়াবুড়ি, মাঝিপাড়া এলাকায় রাতের আধারে অর্ধশত বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে পাথর উত্তোলন চলছে।

বেনাপোল সীমান্তে আটক ২৬

স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল ॥ বেনাপোল-পুটখালী সীমান্ত পথে অবৈধ পরাপারের সময় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৬ বাংলাদেশীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত পৃথক ৩টি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক হয়। আটকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ২১ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন- রিনা খাতুন (২৯), মিনি শেখ (৩০), ডলি খাতুন (২৬), রাশেল খান (২০), লিপি খান (৩৬), জাহানারা (২৭), রুনা আক্তার (৩০), রেজাউল (৩২), শারমিন (২২), রসু শেখ (২৮), মর্জিনা (২৫), মালেক (৪৪), পলাস (২৬), সালমা (২৯), বাচ্চু শেখ (২৬), জেমি আক্তার (২৪), চন্দন বিশ্বাস (২৫), মনুতোষ বিশ্বাস (১৮), সুখরিয়া মহাজন (৩৪), ইমরান (১৮) ও গাজীপুরের বাবুল খান (৪৮)।

বিজিবি জানায়, তাদের কাছে গোপনে সংবাদ আসে সীমান্ত পথে বেশ কিছু নারী-পুরুষ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পারাপার হচ্ছে।