২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলেজ অচল ॥ শিক্ষক ধর্মঘটের মুখে সারাদেশ

কলেজ অচল ॥ শিক্ষক ধর্মঘটের মুখে সারাদেশ
  • বেতন স্কেলে বৈষম্য প্রতিবাদী করে তুলছে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদেরও

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে অচল সারাদেশের সরকারী কলেজ, শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতর। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে শনি ও ররিবারের পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি দেশের ৩০৫ সরকারী কলেজের কোথাও। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুদিনের সকল পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। দাবি আদায়ে ঈদের পরই ধর্মঘট ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ঘেরাও কর্মসূচী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এদিকে অস্থিরতা বাড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। ঘোষিত ছয় দফা দাবিতে আগামীকাল কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি না মানলে ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় ১৫ হাজার সদস্যের সংগঠন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে দুদিনের কর্মসূচী শেষে ররিবার রাতে নতুন কর্মসূচী দিয়ে বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবর স্ব স্ব কলেজে মানববন্ধন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়। ১০ অক্টোবরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৪ ও ১৫ তারিখ কর্মবিরতি। এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১৮ অক্টোবর মাউশিতে অবস্থান। শিক্ষকরা বলেছেন, আমরা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছি। আগের পদমর্যাদা থেকে আমাদের অবনমন করা হয়েছে। এটা কেউ মানতে পারবে না। পারে না।

অচলাবস্থা সকল সরকারী কলেজ, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদফতরেও ॥

বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে অচল সারাদেশের সরকারী কলেজ (৩০৫) ও সংশ্লিষ্ট দফতর। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে দুদিন ধরে চলছে কর্মবিরতি। গেল সপ্তাহেও পালন করা হয়েছে কর্মবিরতি। এবারের কর্মসূচিতে সঙ্কটে পড়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষকদের ডাকা কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুদিনের সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের সরকারী কলেজে কর্মবিরতির কারণে কোন ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শিক্ষক অসন্তোষে ক্ষুব্ধ প্রায় বিসিএস ক্যাডারের ১৫ হাজার শিক্ষক কর্মকর্তা। দেশের সকল সরকারী কলেজের শিক্ষকরা সরকারী কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিটি) কলেজ, গবর্নমেন্ট কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট, শিক্ষাবোর্ড, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রকল্পে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।

বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি এবং টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের প্রতিবাদে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল সরকারী কলেজেও দুই দিনের কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২০টি সরকারী কলেজের শিক্ষকরা কর্মবিরতির পাশাপাশি সমাবেশও করেছেন। নগরীর চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ, সরকারী কমার্স কলেজ, সিটি কলেজ ও নাসিরাবাদ সরকারী মহিলা কলেজে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া গাছবাড়িয়া সরকারী কলেজ, পটিয়া কলেজ, কক্সবাজার সরকারী কলেজ, কক্সবাজার মহিলা কলেজ ও তিন পার্বত্য জেলার কলেজগুলোতেও কর্মসূচী পালনের খবর পাওয়া গেছে। কর্মসূচী চলাকালে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজের শিক্ষকরা বলেছেন, সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকারী কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেড থেকে অবসরে যাবেন, এতে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উচ্চপদগুলোতে আসবেন। এটি শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা আরও বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সদ্যঘোষিত পে-স্কেলে ইচ্ছাকৃতভাবে এ বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন। পে- স্কেল ঘোষণার পর আমাদের বেতন বেড়েছে, কিন্তু মর্যাদা কমেছে। এজন্য এত সুন্দর পে-স্কেল পাবার পরও শিক্ষকরা খুশি হতে পারছেন না। এজন্য আমরা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূূচী পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

নাসিরাবাদ সরকারী কলেজের প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়া সাতকানিয়া সরকারী কলেজের অধ্যাপক আমিনুল আনোয়ার বলছিলেন, নতুন যে বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে তাতে আমাদের পদমর্যাদার অবনমন হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে একজন শিক্ষককে চতুর্থ গ্রেডে থাকা অবস্থাতেই অবসরে চলে যেতে হবে। এটা মেনে নেয়া যায় না। মহিলা কলেজের সমাবেশে থাকা কুমিল্লা শহীদ নজরুল কলেজের উপাধ্যক্ষ শাহ মোঃ আলমগীর বলেন, নতুন স্কেলে তো অধ্যাপক, সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক সবাই একই গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারী সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক অ্যালেক্স আলীম বলেন, আমরা বৈষম্যের শিকার। আগের পদমর্যাদা থেকে আমাদের অবনমন করা হয়েছে। হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোঃ ইদ্রিস আলী বলেন, নতুন স্কেলে বেতন বাড়লেও সেটা আমরা উপভোগ করতে পারছি না। কারণ, এটা আমাদের সম্মানের প্রশ্ন। শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। আশা করি, সরকারও আমাদের দাবি মেনে নেবে।

এদিকে দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে সমিতির নেতৃবৃন্দ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, নতুন পে স্কেলে টাকা বাড়লেও মর্যাদার দিক দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন তারা। সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার মধ্য দিয়ে সরকারী কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের যে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, তা কোন অবস্থায় মেনে নেয়া যায় না। সিলেকশন গ্রেড না থাকায় অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেড থেকে অবসরে যাবেন, এতে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা উচ্চ পদগুলোতে আসবেন, এটা বৈষম্যমূলক। এ সমস্যা সমাধান না করলে তারা দীর্ঘমেয়াদী কঠোর কর্মসূচীর দিকে যাবেন।

শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলছিলেন, ২৭০টি সরকারী কলেজ, তিনটি আলিয়া মাদ্রাসা, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ ও ১৬টি কমার্শিয়াল কলেজে এ কর্মবিরতি চলবে। তিনি বলেন, বর্তমানে কলেজের অধ্যাপকরা (সর্বোচ্চ পদ) চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন আংশিক অধ্যাপক গ্রেড-৩-এ যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় এখন এই পথ বন্ধ হয়ে গেল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সরাসরি গ্রেড-৩ এ উন্নীত হন। অথচ শিক্ষকদের বেলায় গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি হওয়ার পর গ্রেড-৪ এ উন্নীত করা হয়। এই বৈষম্য নিরসনেরও দাবি করে আসছেন তারা। কিন্তু সেটা নিরসন না করে উল্টো সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ শিক্ষক নেতা সৈয়দ সাদিক জাহিদুল ইসলাম বলছিলেন, শিক্ষকবান্ধব সরকার হিসেবেই সকলেই বর্তমান সরকারকে জানে। সরকার শিক্ষক সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। শিক্ষকদের মর্যাদা, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সময় আমাদের বৈষম্যের শিকার হলে তা হবে কষ্টদায়ক। তিনি বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, এমনিতেই শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যরা বৈষম্যের শিকার। এখন সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বাতিল করায় শিক্ষকরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে ২৭২টি সরকারী কলেজ, ১৪টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (টিটিসি), ১৬টি সরকারী কমার্শিয়াল কলেজ ও চারটি সরকারী মাদ্রাসা-ই-আলিয়া রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ আছে ১৫ হাজার ২৪৬টি। এর মধ্যে অধ্যাপকের পদ ৬৩৪টি, সহযোগী অধ্যাপক দুই হাজার ৪০৩টি, সহকারী অধ্যাপক চার হাজার ২১৪টি ও প্রভাষকের পদ সাত হাজার ৯৯৫টি।

পে স্কেলে প্রভাষকরা বেতন পাবেন নবম গ্রেডে, সহকারী অধ্যাপকরা সপ্তম গ্রেডে, সহযোগী অধ্যাপকরা পঞ্চম গ্রেডে এবং অধ্যাপকরা চতুর্থ গ্রেডে। তবে মোট অধ্যাপকের অর্ধেকের সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বেতন পান তৃতীয় গ্রেডে।

যেহেতু এখন আর সিলেকশ গ্রেড থাকবে না সেহেতু বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। আর এমন বৈষম্যের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। জানা যায়, সরকারী কলেজের প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগে। এরপর সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হতে লাগে আরও তিন বছর। আর সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হতে সময় লাগে আরও দুই বছর। মোট ১০ বছরে অধ্যাপক হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় সময় লাগে ১৮ থেকে ২২ বছর। আর সিলেকশন গ্রেড পেতে সময় লাগে আরও কয়েক বছর। শিক্ষকরা জানান, অষ্টম বেতন স্কেলে তাদের বেতনের টাকা বাড়লেও পদের দিক দিয়ে অবনমন হচ্ছে। তারা মোট চারভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সিলেকশন গ্রেড না থাকায় তারা আর তৃতীয় গ্রেডে উঠতে পারবেন না। এতে ৩০ বছর চাকরি করেও তাদের চতুর্থ গ্রেডে থেকেই অবসর গ্রহণ করতে হবে।

অথচ প্রশাসনের উপসচিব পদ পঞ্চম গ্রেডের। তারা পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব হয়ে এক ধাপ ডিঙিয়ে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে চলে যান। এতে দুই ক্যাডারের বৈষম্য বাড়বে।

প্রাথমিকে লাগাতার কর্মবিরতির হুমকি শিক্ষকদের ॥ ঘোষিত জাতীয় বেতন কাঠামোর বেতনক্রমে একাদশ গ্রেড দেয়াসহ ছয় দফা দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সারা দেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে চার সংগঠনের জোট ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফেডারেশনের’ নেতারা এ ঘোষণা দেন। সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি চলার মধ্যে তাদের এই ঘোষণা এলো। লিখিত বক্তব্যে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমিন বলেন, আমরা ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর সারা দেশে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছি। ২২ সেপ্টেম্বর সারা দেশে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন কর্মসূচীর ঘোষণা দেন তিনি। দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষকরা বলেন, আমরা সহকারী শিক্ষকগণ ক্রমাগত বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৮ম জাতীয় পে- স্কেল ঘোষণার পূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সভায় বলেছিলেন বেতনের বৈষম্য কমানো হবে। কিন্তু তার কথা অমান্য করে বৈষম্য আরও বৃদ্ধি করা হলো।

এদিকে ৫ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দাবি না মানা হলে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে তারা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচী পালন করার হুমকি দিয়েছেন । তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা বাস্তবায়ন ও জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এ দাবিগুলো মেনে নেয়া না হলে সব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। একই সঙ্গে নবেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার দায়িত্ব বর্জন করারও হুমকি দিয়েছেন শিক্ষকরা।