১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জলজট যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

জলজট যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী
  • সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ লঘুচাপের প্রভাবে সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হয়েছে রবিবার। দিনভর বৃষ্টি, জলজট ও যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী। ঢাকায় রেকর্ড হয়েছে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। রাজধানীর সচিবালয়সহ বেশিরভাগ এলাকাতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও কোমরপানি। রাস্তাঘাট ও অলিগলি হয়ে ওঠে কর্দমাক্ত। চরম দুর্ভোগে পড়ে রাজধানীর মানুষ। স্কুলগামী ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। রাজধানীর জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হয়। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের প্রবল অবস্থায় রয়েছে। দেশের সমুদ্রবন্দরসমূহকে তিন নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আর আগামী এক থেকে দু’দিন আবহাওয়ার খুব বেশি পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সাগর উত্তাল রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, আজ সোমবার খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী এবং সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণ হতে পারে।

রবিবার রাজধানীবাসীর সকাল শুরু হয় বৃষ্টির মধ্য দিয়ে। হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত চলতে থাকে সারাদিন। মাঝে মাঝে নেমে আসে ভারি বর্ষণ। তারপর থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে রাত পর্যন্ত। সকালে বৃষ্টিতে প্রথমে দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসগামী নগরবাসীরা। ঝিরঝিরে বৃষ্টি, আবার কখনও মুষলধারে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটেছেন তারা। নগরীর অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে ওই সব খানাখন্দ। এসব জায়গায় পা রাখতে গিয়ে অনেক পথচারীই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ফুটপাথের দোকানপাট উঠে গেছে। অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে ভিজে যাচ্ছে রিক্সাযাত্রীদের পা। পানির নিচে থাকা খানাখন্দের ভয়ে পথচারীর চলাচলও কমে যায়। পানির কারণে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক সিএনজি চালিত অনেক অটোরিক্সার। এভাবে দিনভর ভারি বর্ষণে রাজধানীর নিম্নাঞ্চলসহ অনেক জায়গা ডুবে গেছে। এভাবে রবিবারের বৃষ্টিতে হাজারীবাগের নিম্নাঞ্চল, রাজধানী সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট, ধানম-ির অনেক স্থানেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পুরান ঢাকা, পীরেরবাগ, সেনপাড়া পর্বতা, শ্যাওড়াপাড়া, আদাবর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, মিরপুর, টিকাটুলি, বাসাবো, মুগদা, মধুবাগ, শ্যামলী, রামপুরা, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, মতিঝিলসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার অজুহাত দেখিয়ে চালকরা অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে দেন রিক্সা, অটো সিএনজি ও ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া।

রাজধানীর অনেক এলাকার মতো প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়েও অল্প বৃষ্টিতেই পা ডুবছে পানিতে। রবিবার বৃষ্টিতে সচিবালয়ের ভেতরে চার জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে জলাবদ্ধতার এই চিত্র সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমছে এবং তা আটকে থাকছে দীর্ঘ সময়। এতে চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। দুপুরে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের মূল প্রবেশ পথে সবচেয়ে বেশি পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া ৩ নম্বর ভবনের পূর্ব পাশ ও মাঝের বাগানে; ৫ নম্বর ভবনের পশ্চিম দিকে ফটকের সামনে এবং সচিবালয়ের ক্লিনিক ভবনের পেছনেও পানি দেখা যায়। গাড়িতে চড়ে যারা ৬ নম্বর ভবনে এসেছেন, তাদের একেবারে ভবন ঘেঁষে গাড়ি দাঁড় করিয়ে নামতে দেখা যায়। অনেককেই দেখা যায় এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যাচ্ছেন জুতা-সেন্ডেল হাতে নিয়ে। দুপুরে ইস্কাটন গার্ডেন গলিতে দেখা গেছে হাঁটু পানি।

এদিকে, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলিতে যানজট ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান। জনকণ্ঠের প্রতিবেদকরা জানান, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন সড়ক, কাকরাইল, মৎস্য ভবন মোড়, শান্তিনগর, মিন্টো রোড, মগবাজার, রামপুরা শাহবাগ চত্বর, সায়েন্সল্যাব, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা ও উত্তরার পথে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় থমকে থাকে। বেলা সাড়ে ৪টায় মহাখালী ফ্লাইওভারের ওপর যানবাহনের দীর্ঘ জট দেখা যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানির সঙ্গে নর্দমার কাদা একাকার হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথও কঠিন করে তুলেছে। পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম থেকে বিকেলে জানান হয়, বৃষ্টির কারণে রাজধানী জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মহাখালী, বিজয় সরণি, বাংলা মোটর, ফার্মগেট, শাহবাগ, মগবাজার এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় ভিআইপি সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত বহু অটোরিক্সার ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকে থাকতে দেখা গেছে। এসব বিকল বাহন যানজট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানান। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড ও আশপাশের প্রতিটি সড়কে যানজট দেখা গেছে। অনেকে বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করায় গলিপথেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পানির কারণেই যানজট ছাড়ানো যাচ্ছে কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান বাংলা মোটর মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কেও পানি জমে যায়। কিছুক্ষণ পর ওই সড়কের পানি নেমে গেলেও যানজট থেকে যায়। ফার্মগেট থেকে সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কটির দুই পাশে হাঁটুপানি দেখা গেছে। উত্তরা থেকে মহাখালী আসার পথে কাকলিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় যানজটে আটকে থাকতে হয় বলে জানা গেছে।