২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা শুরু, বৃষ্টিতে ভোগান্তি ॥ মহাসড়কে তীব্র যানজট

  • আজ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১ রুটে বিশেষ লঞ্চ ছাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে গাঁয়ের মানুষ। যদিও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি এবং কখনও মুষলধারে বৃষ্টিতে নির্বিঘœ ছিল না ঈদযাত্রা। বৃষ্টিতে মহাসড়কে গাড়ির চাকার ধীরগতি তীব্র যানজটের সৃষ্টি করে। এর সঙ্গে ঘরমুখো মানুষের গাড়ি আর ঢাকামুখী কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাকের চাপে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদের অগ্রিম যে টিকেট দিয়েছিল রবিবার থেকে সেসব ট্রেন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ঈদের বিশেষ ট্রেনের যাত্রাও রবিবার থেকে শুরু হয়েছে। আজ সোমবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১ নৌপথে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সব থেকে বেশি যাত্রী পরিবহনকারী সড়কের দূরপাল্লার বাস সার্ভিস আগে থেকে চলাচল করলেও ফেরি পারাপারে সমস্যা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের জন্য সুখবর হচ্ছে আজ সোমবার থেকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসার খবর জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি। এতে এই রুটে যাত্রা কিছুটা হলেও আরামদায়ক হবে।

রবিবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি ও কখনও মুষলধারে বৃষ্টি হয়। শনিবারের তুলনায় রবিবার বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায় রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তা দুপুরের আগেই পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষ। সড়ক ও মহাসড়কের গর্তগুলোতে জল জমে যায়। গাড়ির চাকার ধীরগতি তীব্র যানজট সৃষ্টি করে।

বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। গাবতলী, কল্যাণপুর, মহাখালী, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সামনে বৃষ্টির পানি আর কাদায় একাকার ছিল। এছাড়া কোরবানি ঈদ উপলক্ষে আসা পশুবাহী ট্রাকগুলোও বৃষ্টির ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

ঈদের চারদিন আগে রবিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় ঘরমুখো মানুষের তীব্র ভিড় রয়েছে। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে বিভিন্ন ট্রেন এক থেকে আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে। প্রথম দিনের বিলম্বিত যাত্রায় ঈদের আগের চারদিন রেলের সিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমলাপুর স্টেশনে ট্রেন সিগন্যাল রেজিস্ট্রার খাতায় সময়সূচী অনুযায়ী এদিন ভোর ৫টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল পর্যন্ত মোট কমলাপুর ছেড়েছে ৩৪টি ট্রেন। এর মধ্যে ঢাকা-খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে। এছাড়া অন্য ট্রেনগুলো সব ২০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।

সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী শায়লা শারমিন জানান, ঈদ এলেই সুন্দরবন এক্সপ্রেস সিডিউল ঠিক রাখতে পারে না। নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াতকারী শায়লা জানান, গত রমজানেও সুন্দরবনে সিডিউল বিপর্যয় ঘটে। শুধু সুন্দরবনই নয়, চিত্রাসহ খুলনাগামী ঈদের বিশেষ ট্রেন সার্ভিস গত ঈদেও নির্ধারিত সময়ের ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে রবিবার যে ট্রেনগুলো ছেড়েছে সেগুলোর টিকেট গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্রি হয়েছিল। রেলওয়ে ফিরতি টিকেট বিক্রির যে সিডিউল দিয়েছে তাতে দেখা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া যাবে সকল গন্তব্যের ফিরতি টিকেট। এদিন বিক্রি হবে ২৭ সেপ্টেম্বরের টিকেট। ২৪ সেপ্টেম্বর বিক্রি হবে ২৮ সেপ্টেম্বরের, ২৫ সেপ্টেম্বর বিক্রি হবে ২৯ সেপ্টেম্বরের, ২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ সেপ্টেম্বরের টিকেট এবং ২৭ সেপ্টেম্বর বিক্রি হবে ১ অক্টোবরের টিকেট।

এদিকে রবিবার বিকেলে কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, মানুষ যাতে নির্বিঘেœ ঈদে বাড়ি ফিরতে পারেন সেজন্য র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ছাড়াও রেলওয়ের দুটি নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। যাত্রী হয়রানি, অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা দেখা গেলেই তা প্রতিরোধ করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব ট্রেনই ঠিকমতো এসেছে। নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। দু-একটি ট্রেন কয়েক মিনিট দেরিতে ছাড়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন সারাদেশে এক লাখ ৮০ হাজার টিকেট বিক্রি করে রেলওয়ে। তবে ঈদ মৌসুমে অতিরিক্ত চাপ মোকাবেলায় প্রতিদিন সব ট্রেন মিলিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টিকেট বিক্রি করা হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এজন্য রেলের ৮৮৬টি কোচের সঙ্গে ঈদ উপলক্ষে ১৩৮টি কোচ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া ১৯৯টি চালু ইঞ্জিনের বহরে মেরামতকৃত আরও ২৫টি যোগ করা হচ্ছে।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য আজ সোমবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১ নৌপথে বিশেষ লঞ্চ চলাচল শুরু“ হবে। এতে মানুষের ভিড় বাড়ছে নদীবন্দরগুলোতে। যাত্রীরা শেষ মুহূর্তে টিকেটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

লঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের ৪১ নৌপথের চলাচলকারী লঞ্চের প্রায় সব কেবিন বুকিং শেষ হয়েছে। নদীপথের যাত্রীরা লঞ্চের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী কেবিনের অগ্রিম টিকেটের জন্য লঞ্চে লঞ্চে খোঁজ নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের সময় কেবিনের যাত্রী বেশি থাকে কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী লঞ্চ থাকে কম। অনেকেই অগ্রিম টিকেট বুকিং দিয়েছেন। তবে এ বছর টার্মিনাল এলাকায় স্থাপিত নতুন টিকেট কাউন্টার থেকে কিছু কিছু লঞ্চে অগ্রিম টিকেট বুকিং দেয়া হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা নদীবন্দরের সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন, যাত্রী হয়রানি রোধ, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের মতো বিষয়গুলো দেখা গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। লঞ্চের যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য সদরঘাট টার্মিনাল ও নদী এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ডের মতো নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করবে।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কোন অবস্থাতেই লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন লঞ্চে গুনে গুনে যাত্রী উঠাবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ হলে ফেরিতে তাঁদের পারাপার করা হবে।

ঈদের চার দিন আগেই রাজধানী থেকে ‘ঘরমুখো মানুষের গাড়ি’ ও ঢাকামুখী কোরবানির পশুর ট্রাকের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-মাওয়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে তেমন যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচ্ছিন্ন জটের কারণে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত সড়কে রবিবার যানবাহন চলছে ধীর গতিতে। ফলে সকাল থেকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। গোড়াই মহাসড়ক থানার ওসি মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, ভোরের বৃষ্টি এবং মহাসড়কে ঘরমুখো যাত্রীবাহী গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় কালিয়াকৈরের বংশাল ব্রিজ থেকে টাঙ্গাইলের বাসাইল পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির আরও জানান, চন্দ্রা ত্রিমোড় ও এর আশপাশ এলাকায় রাজধানীগামী কোরবানির পশু বোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়ি লেন ও রোড পরিবর্তন করতে গিয়েও গতি কমাতে হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনের গতি ধীর হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন। তবে মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, চন্দ্রা এলাকায় রেশনিং পদ্ধতিতে গাড়ি চলাচল করাতে হচ্ছে। এতে গাড়ি একদিকে সচল করতে গিয়ে অপরদিকে চলাচলে সাময়িক বিঘিœত হচ্ছে এবং গাড়ির গতি কমছে।