২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজীবন সম্মাননায় ভূষিত সঙ্গীতশিল্পী লাকী আখন্দ

  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সঙ্গীত ভুবনের অনন্য এক শিল্পী লাকী আখন্দ। অনবদ্য কণ্ঠে গান গাওয়ার পাশাপাশি সুর ও সঙ্গীত পরিচালনার দক্ষতায় রেখেছেন স্বতন্ত্র প্রতিভার স্বাক্ষর। গুণী এই সঙ্গীতশিল্পীকে প্রদান করা হলো আজীবন সম্মাননা। তাকে এ সম্মাননা জানিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জি সিরিজ ও অগ্নিবীণা। রবিবার সন্ধ্যায় টিসিবি অডিটরিয়াম মিলনায়তনে শিল্পীকে এ সম্মাননা জানানো হয়। লাকী আখন্দ বর্তমানে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্ককে থাকায় তার পক্ষে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন শিল্পীর বড় বোন জেসমীন আখন্দ ও ভাতিজা দীপ। তাদের হাতে এ সম্মাননা স্মারক ও এক লাখ টাকার চেক তুলে দেন এ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ শিল্পী খালিদ হোসেন, পাপিয়া সারোয়ার, ফকির আলমগীর ও জি সিরিজের কর্ণধার নাজমুল হক ভুঁইয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসানুল হক ইনু বলেন, লাকী আখন্দ এমন একজন শিল্পী তাকে সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা নিজেরাই সম্মানিত বোধ করছি। তিনি গায়ক হলেও সঙ্গীতের পেছনের কারিগর হিসেবেও সুর সঙ্গীতায়োজনের কাজ করে গেছেন। তার সে সকল সৃষ্টি অমর। এখানে নবীন প্রবীণ অনেক শিল্পী আছেন। শিল্পীদের কাছে আসলে মনে হয় গোলাপের বাগানে এসেছি, যেখান থেকে সুবাস নিয়ে ফেরা যায়। শিল্পীদের সঙ্গে দেখা হলে মানুষের হৃদয় আরও প্রসারিত হয়। আমার হৃদয়ও প্রসারিত হলো।

মঞ্চস্থ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক লাল জমিন ॥ রবিবার সকাল থেকে হারিয়ে যায় যায় সূর্যিমামা। দিনভর মেঘলা আকাশ ছাপিয়ে ঝরেছে বারিধারা। তাই বলে বৃষ্টির দাপটে স্থবির হয়নি সংস্কৃতি ভুবন। জলমগ্ন দিনের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক লাল জমিন। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে শূন্যন রেপার্টরি থিয়েটারের দর্শকনন্দিত প্রযোজনাটির ৮৪তম মঞ্চায়ন হয়। মোমেনা চৌধুরীর অনবদ্য একক অভিনয়ের নাটকটি লিখেছেন মান্নান হীরা। নির্দেশনা দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে এক কিশোরীর অংশগ্রহণকে উপজীব্য করে আবর্তিত হয়েছে প্রযোজনাটির কাহিনী। গল্পের ভেতর দিয়ে উঠে আসে যুদ্ধের ভয়াবহতা ও মেয়েটির আত্মত্যাগ। সব শেষে কাক্সিক্ষত সেই স্বাধীনতা অর্জন দর্শকদের দাঁড় করিয়ে দেয় নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখে। এরপর কাহিনীর সূত্র ধরে যুক্ত হয় যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের ঘাতক-দালালদের বৃত্তান্ত ও একজন মুক্তিযোদ্ধা নারীর উপলব্ধি। নাটকের গল্পে আবির্ভূত হয় তেরো ডিঙিয়ে চৌদ্দ বছর ছুঁই ছুঁই এক কিশোরী কন্যা। কিশোরীর দুই চোখজুড়ে ভেসে বেড়ায় মানিক বিলের লাল পদ্মের প্রতি প্রেম। ঘটনাপ্রবাহে কিশোরীর কানে আসে বাবা-মায়ের মধ্যরাতের গুঞ্জন। শুধু দুটি শব্দ তার মস্তক আর মনে জেগে রয়Ñ মুক্তি ও স্বাধীনতা। অস্থির সময়ের ভেতরেই কিশোরী এক ছায়ার কাছ থেকে খুঁজে পায় প্রেম। এদিকে সবার অগোচরে বাবা চলে যায় যুদ্ধে। কিশোরীও নানা কৌশলে সশস্ত্র যুদ্ধে যাওয়ার আয়োজন করে। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বয়স তাকে দেয় না অনুমোদন। এবার কিশোরীর সেই ছায়া-প্রেম এসে সামনে দাঁড়ায়, সে চিনতে পারে তার সেনাপতিকে। শুরু হয় যুদ্ধযাত্রা। লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই পুরুষ যোদ্ধারা কেউ শহীদ হন, কেউ বা হারিয়ে যান নদীর জলে। পাঁচ যুবতীসহ যুদ্ধযাত্রী কিশোরীর জীবনে ঘটে নানা অভিজ্ঞতা। চৌদ্দ বছরের কিশোরীর ধবধবে সাদা জমিন যুদ্ধকালীন নয় মাসে রক্তরাঙা লাল হয়ে উঠে। এভাবেই এক কিশোরীর রক্তরাঙা অভিজ্ঞতার মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর এক নারীর সংগ্রামী জীবনের নাট্যপ্রকাশ হয়ে ওঠে লাল জমিন।

প্রযোজনাটির পোশাক পরিকল্পনা করেছেন ওয়াহিদা মল্লিক। সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন জুলফিকার চঞ্চল ও রামিজ রাজু। সঙ্গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী, রামিজ রাজু, নীলা সাহা। দেশের নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর লক্ষ্যে বহুল প্রশংসিত ‘লাল জমিন’ নাটকটি বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে মঞ্চায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে শূন্যন থিয়েটার। যেসব স্কুল-কলেজ কর্তৃপক্ষ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত নাটকটি তাদের ছাত্রছাত্রীদের দেখাতে আগ্রহী তাদের শূন্যনের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

মঞ্চস্থ ‘যা নেই ভারতে’ ॥ মহাভারতের কাহিনী অবলম্ব^নে সময়কে ধারণ করে নির্মিত নাটক ‘যা নেই ভারতে’। রবিবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে নাটকটির ১১তম মঞ্চায়ন হয়। কণ্ঠশীলন প্রযোজিত নাটকটি লিখেছেন মনোজ মিত্র। নির্দেশনা দিয়েছেন মীর বরকত।

মহাভারত আশ্রয় করে রচিত হলেও নাট্যকার ঘটনাপ্রবাহ একটু অন্য রকমভাবে বর্ণনা করতে চেয়েছেন। রাজা বিচিত্রবীর্যের মৃত্যু সময় থেকে রাজপুত্র ধৃতরাষ্ট্রের ১০০ পুত্রের জন্ম পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলো ফুটে উঠেছে নাটকটিতে। কাহিনীর প্রয়োজনে মূল মহাভারত থেকে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে কয়েকটি কাল্পনিক চরিত্র। ক্ষমতাধর ও ক্ষমতালোভী রাষ্ট্রগুলোর ক্ষমতালিপ্সা, সার্বভৌমত্বের নামে সাম্রাজ্যবাদী আচরণ, একের পর এক রাষ্ট্র দখল ও লুণ্ঠনের বিষয় এসেছে নাটকটিতে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় ধর্মীয় লেবাসধারী ব্যক্তিদের অযাচিত হস্তক্ষেপ যে দেশ ও সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করেÑ তাও তুলে ধরা হয়েছে গল্পে। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দিয়েছেনÑ আবদুর রাজ্জাক, একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহেল রানা, সালাম খোকন, অনন্যা গোস্বামী, জেএম মারুফ সিদ্দিকী, নিবিড় রহমান, কামরুল হাসান, তনুশ্রী গোস্বামী, নাজনীন আক্তার শীলা, তাসাউফ-ই-বাকি বিল্লাহ রিবিন, সুমন কুমার দে, তৃপ্তি রানী ম-ল, ফারিয়া আক্তার সোমা, শামীম রিমু, মাহমুদুল হাসান, শাহানা রহমান, মেহেরুন্নেছা অনীক, আফরিন খান প্রমুখ।