২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কিশোরগঞ্জের ৫ রাজাকারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে আদেশ আজ

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের দুই সহোদর নাসিরউদ্দিন ও শামসুদ্দিন আহম্মেদসহ পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশ প্রদান করা হবে আজ । চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী । গত ১৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। সে সময় ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক (বর্তমানে চেয়ারম্যান)।

এই মামলায় পাঁচ আসামির মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন এ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ। পলাতক চারজন হচ্ছেন শামসুদ্দিনের সহোদর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোঃ নাসিরউদ্দিন আহমেদ, গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। রবিবার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন শামসুদ্দিনের আইনজীবী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ও পলাতক চার রাজাকারের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান।

গত ১৩ মে পাঁচ রাজাকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। আসামিরা কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার বিদ্যানগর, আয়লা, ফতেরগুপ বিল, পীরাতন বিল ও আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষয়ে প্রসিকিউশনের ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ মামলায় তদন্ত সংস্থা ২০১৪ সালের ২৫ নবেম্বর কিশোরগজ্ঞের দুই সহোদর ক্যাপ্টেন (অব) নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী শামসুদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে। এ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৬ জুন তদন্ত শুরু হয়। দীর্ঘ এক বছর পাঁচ মাস ১৮দিন তদন্ত করে গত ২৪ নবেম্বর তদন্ত কাজ শেষ হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ অভিযোগের (চার্জ) মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের ২৭ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ থানাধীন আয়লা গ্রামে নাসিরউদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী লুণ্ঠন, আটক ও নির্যাতন করে মুক্তিযোদ্ধার পিতা আব্দুল বারেকসহ মোঃ হাবিবুল্লাহ, শেখ চান্দু মিয়া, শেখ মালেক, আফতাব উদ্দিন, সিরাজ উদ্দিন, আব্দুল জব্বার ও আব্দুল মালেককে গুলি করে হত্যা করে। পরে (সকলের) মোট আট জনের লাশ পাওয়া গেছে। ১১নবেম্বর এটিএম নাছিরের নেতৃত্বে করিমগঞ্জ থানাধীন আয়লা গ্রামে মিয়া হোসেন নামে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জের কলালি গ্রামে নাসিরউদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী আব্দুল গফুর নামে একজনকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে খুদির জঙ্গল ব্রিজে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। ২৩ আগস্ট করিমগঞ্জের বাজারঘাট থেকে নাসিরউদ্দিন ও শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনী ফজলুর রহমান মাস্টারকে আটক করে কিশোরগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পে প্রেরণ করে। সেখানে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর করিমগঞ্জের রামনগর গ্রামে শামসুদ্দিনের নেতৃত্বে তার সহপাঠী পরেশ চন্দ্র সরকার নামে একজনকে আটক করে নির্যাতনের পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।