২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের সঙ্কট বাড়ছেই, শীঘ্র উত্তরণের সুযোগ নেই

  • মিলছে চাহিদার অর্ধেক ॥ গৃহস্থালি কাজে দুর্ভোগ

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ সঙ্কট কেবলই বাড়ছে। শিল্প কারখানার পর আবাসিক এলাকায়ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে সঙ্কটের কারণে। কিন্তু বর্তমানে সঙ্কট এতই তীব্রতর হয়েছে যে, শিল্প কারখানাগুলো গ্যাসের অভাবে যেমন ধুঁকছে, তেমনি আবাসিক এলাকার গৃহস্থালী কাজেও চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত নটা পর্যন্ত এ সঙ্কট লেগেই থাকে। সঙ্কট উত্তরোত্তর বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জানা গেছে, আগামী ২০১৭ সালের আগে এ সঙ্কট উত্তরণের কোন সুযোগ নেই। সঙ্কট উত্তরণের বিকল্প হিসেবে মহেষখালির মাতারবাড়ির এলএনজি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

এ অবস্থায় গেল একসপ্তাহ ধরে এ সঙ্কট মারাত্মক রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবাহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ( কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, জাতীয় গ্যাস গ্রীড থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের সরবরাহ হয়ে থাকে। গেল কিছুদিন আগে আশুগঞ্জে একটি গ্যাস কম্প্রেসারে বড় ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে সঙ্কট পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস সূত্রে জানানো হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাসের চাহিদা ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আশুগঞ্জে কম্প্রেসার ত্রুটির কারণে শুক্রবার পর্যন্ত তা ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। রবিবার গ্যাসের চাপ কিছুটা বেড়ে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। গ্যাস সঙ্কটের কারণে সরকারী মালিকানার সার উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এমনিতেই বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বহুজাতিক মালিকানার কাফকোতে (কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি) গ্যাস সরবরাহ চুক্তি নবায়ন হয়েছে। ফলে এ সংস্থাকে গ্যাস সরবরাহ দেয়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এ কোম্পানির জন্য গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং তা ৫২ থেকে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামে গ্যাস চালিত শিল্প কারখানা ও আবাসিক এলাকার গ্যাস লাইনে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক আইয়ুব খান চৌধুরী রবিবার সন্ধ্যায় জনকণ্ঠকে জানান, এ অঞ্চলে গ্যাসের সঙ্কট বহু আগে থেকে সৃষ্ট। গ্যাসের চাহিদা দিন দিন যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। ফলে সঙ্কট দিন দিন বেড়ে চলেছে। তার মতে, মহেষখালির মাতারবাড়িতে সরকার যে এলএনজি প্রকল্প কাজ শুরু করেছে তা শেষ না হাওয়া পর্যন্ত এ সঙ্কটের পুরোপুরি অবসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, ২০১৭ সাল নাগাদ এলএনজি প্রকল্প থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সঙ্কটের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোম্পানির অপর একটি সূত্র জানায়, দেশের শেষপ্রান্তে গ্যাস সরবরাহের অবস্থান চট্টগ্রাম অঞ্চলে। গ্যাস গ্রীডের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে গ্যাসের ঘাটতি শুরু হয়। মাঝপথে সাগরপ্রান্তিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে। গ্যাস গ্রীডে গ্যাস সঞ্চালন লাইন হয়ে চট্টগ্রামে গ্যাস পৌঁছতে গ্যাসের চাপ ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে এ অঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিপূর্ণভাবে গ্যাস সরবরাহ হয় না। এ অবস্থায় শিল্পাঞ্চলের গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বর্তমানে তা আঘাত হানছে আবাসিক এলাকার গৃহস্থালির কাজেও। গত প্রায় পাঁচদিন ধরে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার আবাসিক চুলায় সুষ্ঠু গ্যাস সরবরাহ চরমভাবে বিঘিœত হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস মিলেছে ২৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। রবিবার তা ২৫০ এ উন্নীত হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আগে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণ সমাধান এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত যে হবে না তা নিশ্চিত। উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে কাফকো, সিইউএফএল, ২১০, ১৫০ ও ৬০ মেগাওয়াটের যে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো রয়েছে সেগুলোর কোন না কোনটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। পাশাপাশি যে বড় দুটি সার উৎপাদন কারখানা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে বর্তমানে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।