২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গতি পায়নি এডিপি বাস্তবায়ন

  • দুই মাসে বাস্তবায়ন ৩ শতাংশ

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ অর্থবছরের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি আসেনি। বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে তিন শতাংশে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ অর্থবছরে সর্বোচ্চ এক লাখ কোটি টাকার এডিপি হাতে নেয় সরকার। তবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) কাক্সিক্ষত বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আইএমইডি সচিব শহীদ উল্লাহ খন্দকার বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের জন্য কঠোর অবস্থানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বৈঠক করেছেন। আইএমইডির পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সব মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কোন প্রকল্পে বিশেষ কোন সমস্যা থাকলে সেটি সমাধানে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নজরদারি বাড়ানোর কারণে বাস্তুবায়ন চিত্র পাল্টে যাবে। বছর শেষে এডিপি শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

আইএমইডির প্রতিবেদন অনুসারে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কোন অর্থ ব্যয় করতে পারেনি এমন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা নয়টি। এর মধ্যে রয়েছেÑ পানিসম্পদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, প্রতিরক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান, তথ্য, পররাষ্ট্র এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর বাইরে আইন ও বিচার বিভাগে উন্নয়ন কর্মকা-ে স্থবিরতা থাকায় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।

শীর্ষ ১০টি সংস্থার বাস্তবায়ন চিত্র ॥ স্থানীয় সরকার ছাড়া এডিপিতে বরাদ্দ পাওয়া অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়ন অবস্থা খারাপ। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দশমিক ৩ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১ শতাংশ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয় দশমিক ৩৪ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২ শতাংশ ও বিদ্যুত বিভাগ ৩ শতাংশ। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ শীর্ষ বরাদ্দ পাওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে এডিপিতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে।

এডিপিতে শীর্ষ বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রথম দশটি সংস্থার অন্যতম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্থাটিকে ৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেলেও অর্থাভাবে পুরোদমে কাজ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পুরাতন প্রকল্পেও প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় অর্থ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় জরুরীভিত্তিতে কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা চেয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অর্থ চেয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে চিঠিও দিয়েছেন। যদিও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এক টাকাও ব্যয় করতে পারেনি মন্ত্রণালয়টি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বলছে, চলতি অর্থবছরে তিন বছরের মধ্যে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়। যা সেই সময় মূল এডিপির ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নে হার ছিল ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ হার মাত্র ৩ শতাংশ। একই সময়ে ৫৩ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রায় ১২শ’ প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। তবে আরও খারাপ অবস্থা বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত অর্থ ব্যবহারে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় সরকারের নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হলেও বৈদেশিক সাহায্য ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র। ব্যতিক্রম ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোন মন্ত্রণালয় অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক সাহায্য খরচ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, নতুন অর্থবছর থেকে (অর্থাৎ চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর) এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। যাতে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়ন হয়। তিনি জানান, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা যায় না। এটি বাস্তবতা ও যুক্তিসঙ্গত।

পরবর্তীতে ওই তিন মাসের কাজ মেকাপ করতে গিয়ে অর্থবছরের শেষদিকে বাস্তবায়ন বেশি মনে হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একই কথা বার বার বলতে ভাল লাগে না। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় কাজ হয়ে যায়, কিন্তু বিল পরিশোধ বাকি থাকে। অর্থবছরের শেষদিকে এসে ওই বিল পরিশোধ করা হয় বলে একবারেই অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যায়। ফলে শেষ মাসে এসে সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন বেশি হয়।