২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শম্বুক গতিতে চলছে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ

তৌহিদ আক্তার পান্না, ঈশ্বরদী ॥ প্রায় চল্লিশ বছরের প্রতীক্ষিত এবং বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঈশ্বরদী মাজগ্রাম, নগরবাড়ী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা যাচ্ছে না। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার আনুমানিক ধারণা নিয়ে ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে এ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। অতিবর্ষণ ও মাটি পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় এবং কাজের গুণগতমান পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানাবিধ কারণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার আনুমানিক সময় নির্ধারণ করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে মাটি ভরাট কাজ শেষ না হওযায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

প্রকল্পের দায়িত্বশীল সূত্রমতে, বর্ষায় মাটি ভরাটে সমস্যা, মাটি পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় ব্যয়সহ নানাবিধ কারণে ২০১৬ সালের জুনের মধ্যেও এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়ত সম্ভব হবে না। এ প্রকল্পে এ পর্যন্ত প্রায় শতকরা ৪৫ থেকে ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মাঝগ্রাম থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ১’শ ২টি ছোট ব্রিজ এবং ১১টি বড় ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত ৩৬টি ছোট ও ২টি বড় ব্রিজ এবং পাবনা থেকে ঢালারচর পর্যন্ত ৭৬টি ছোট ও ৯টি বড় ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ফেজে পাঁচটি প্যাকেজে ১শ’ ৫৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, রেললাইন স্থাপন, রেলক্রসিং গেট, পাবনা পর্যন্ত স্টেশন নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। গত ৪ মার্চ নিয়মিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্পে ৬৪ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বানের অনুমোদন দেয়া হয়। সে মোতাবেক কাজ চলছে। এর আগে ওই বছরেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি পাস করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯শ’ ৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীর অদূরে মাঝগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ১১টি রেলস্টেশন নির্মাণ করা হবে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের সময় এক টেলিকনফারেন্সে পাবনায় রেলপথ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেই অনুযায়ী প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এ রেলপথ নির্মাণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের আমূল পরিবর্তন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। রেলপথে পণ্য পরিবহনে স্বল্প খরচের কারণে এ অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে সবজি চাষে বিখ্যাত ঈশ্বরদী ও আশপাশ অঞ্চলের চাষীদের আর্থিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন আসবে। মানুষজনও অল্প সময় ও কম খরচে যাতায়াত করতে পারবে।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া