২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমেরিকার জনমত জরিপ ও কিছু কথা

  • আরিফুর সবুজ

আজ যার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী কালই হয়ত দেখা গেল তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এটা অস্বাভাবিক নয়। ঘটন-অঘটনের দুনিয়ায় জনপ্রিয়তার উত্থান-পতন ঘটতেই পারে। উত্থানে যে স্বপ্ন সৃষ্টি হয় পতনে তা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এক লহমায়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রে এ কথাটিই যেন সত্য হয়ে দেখা দিচ্ছে। ডেমোক্রেটদের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রডহ্যাম হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা এতই তুঙ্গে ছিল যে, তাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বীই মনে হয়েছিল। কিন্তু না। কয়েক মাসের ব্যবধানেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন, তিনি ছিটকে পড়তেও পারেন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পদ থেকে। ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে এ নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। রিপাবলিকান প্রার্থীদের বেলায়ও একই পরিস্থিতি। জেব বুশকেই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে জেব বুশের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে অরাজনৈতিক ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেন কারসন। প্রকাশিত জনমত জরিপ অনুযায়ী অধিক জনপ্রিয় ও প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে যাদের ভাবা হয়েছিল তাদের জনপ্রিয়তার পারদ নি¤œমুখী হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার টিকেট পেয়ে কে কে ২০১৬ সালের সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরবেন বিজয়মাল্য, তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

রিপাবলিকানদের মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকানই মনে করছে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পেরই সবচেয়ে বেশি আশা আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস জনমত জরিপ কিংবা সিবিএস নিউজ জনমত জরিপে দেখা যায়, প্রথাগত রাজনৈতিক নেতা জেব বুশ এবং স্কট ওয়াকারের চেয়ে তার জনপ্রিয়তার পারদ অনেক উর্ধমুখী। অবশ্য মনোনয়ন প্রতিযোগিতার প্রথম দিকে বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী ট্রাম্পের প্রতি তেমন কেউই আগ্রহ দেখায়নি। অনেকে আবার অরাজনৈতিক ব্যক্তি বলে নাকও সিঁটকিয়েছে। এখন সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা যায়, ৩৯% রিপাবলিকান প্রাইমারি ও ককাস ভোটারের পূর্ণ সমর্থন ট্রাম্পের প্রতি। তারা চায় ট্রাম্প কেবল প্রেসিডেন্ট প্রার্থীই নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক আরও সামনের দিকে। এই অরাজনৈতিক ব্যক্তিটি যেন শক্ত করে হাল ধরে রিপাবলিকান দলটির। মাত্র ১৫% মনে করে তিনি পার্টির স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে পারবেন না। আগস্টের জরিপে তার জনপ্রিয়তা ছিল ২৬%। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জনপ্রিয়তা বেড়েছে ১৩%। এ জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি বদলে দিয়েছে অনেক হিসাব-নিকাশ।

এখানে একটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য যে, রিপাবলিকানদের মাঝে প্রথাগত রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা কমে গেছে। এর প্রমাণ কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নন, বেন কারসনও। পেশায় ছিলেন নিউরোসার্জন। এখন অবসরে গেছেন। অতীতে রাজনীতি করেননি। এই অরাজনৈতিক ব্যক্তিটিই রিপাবলিকানদের মাঝে দ্বিতীয় সেরা জনপ্রিয়। সেপ্টেম্বরের জরিপে তার জনপ্রিয়তা ২৩%-এ দাঁড়িয়েছে। অথচ আগস্টে জনপ্রিয়তা ছিল মাত্র ৬%। জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির হারের দিক দিয়ে তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পেছনে ফেলে দিয়েছেন। তার সামাজিক রক্ষণশীল নীতির প্রচারের কারণেই এই জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি। তারপরেও এখনও ট্রাম্প থেকে বলা চলে অনেক পিছিয়ে আছেন। সে যাই হোক, এই দুই অরাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর রিপাবলিকানদের আগ্রহ এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, তারা প্রথাগত রাজনীতিবিদদের ওপর বিরক্ত। ফ্লোরিডার সাবেক গবর্নর জেব বুশের জনপ্রিয়তা কমছে। আগস্টের বিতর্কের পর জনপ্রিয়তায় যেন ভাটা পড়েছে। আগস্টের শুরুর দিককার জরিপে তার জনপ্রিয়তা ছিল ২৩ শতাংশ। এখন তা মাত্র ১১%। উইসকনসিনের গবর্নর স্কট ওয়াকারের জনপ্রিয়তাও তলানিতে ঠেকেছে। আগস্টেও যেখানে ৮ শতাংশ মানুষ তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিত, এখন তা মাত্র ২ শতাংশ। প্রথাগত এই রাজনীতিবিদদের জনপ্রিয়তা কেন এমন হ্রাস পাচ্ছে তার জবাব পাওয়া যায় কেরোলিন ডিলার্ড নামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী এক রিপাবলিকানের কথায়। তিনি বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে সমর্থন করছি। কারণ তিনি জাতীয় ঋণ সমস্যা ও অবৈধ অভিবাসী ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আমরা ইরানকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, অন্যদিকে আমাদের ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ছে। আমাদের রাজনীতিবিদরা একে কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে। আমরা চাই না সেরকম রাজনীতিক যাদের কাছে সবকিছু রাজনৈতিকভাবে সঠিক। আমার কাছে রাজনৈতিক গুণের চেয়ে নেতৃত্ব গুণই বেশি জরুরী মনে হয়। এ কারণেই আমার সমর্থন ট্রাম্পের দিকে।’ ব্লুফটনের প্রাক্তন চীফ ইনফরমেশন অফিসার ডাউগ মে একজন রিপাবলিকান। তিনি সমর্থন করছেন বেন কারসনকে। তিনিও কেরোলিনের মতো প্রথাগত রাজনীতিকদের প্রতি বিরক্ত। তিনি বলেন, ‘আমি বেন কারসনকে পছন্দ করি। কারণ তিনি সরকারে কোনকালেই ছিলেন না। আমি সরকারের প্রতি যারপরনাই বিরক্ত।’ রাজনীতিকদের প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত রিপাবলিকানরা ট্রাম্প ও কারসনের প্রতি তাই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী ট্রাম্পের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং ধনিক শ্রেণী ও কলেজ গ্রাজুয়েটরা আগ্রহ দেখাচ্ছে কারসনের প্রতি। এছাড়া প্রাক্তন বিজনেস এক্সিকিউটিভ কার্লি ফাইয়োরিনার প্রতি ৪% রিপাবলিকানের সমর্থন রয়েছে।

কয়েক মাস আগেও মনে হয়েছিল হিলারি ক্লিনটন নির্বিঘেœ প্রেসিডেন্ট মনোনয়নে ডেমোক্রেট পার্টি থেকে টিকেট পাবেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সে কথা বলছে না। তার জনপ্রিয়তা কমছে হু হু করে। কেবল পুরুষ নয়, মহিলাদের কাছেও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ছে। মহিলাদের কাছে সাত শতাংশ জনপ্রিয়তা কমে গেছে। একদিকে তার জনপ্রিয়তা কমছে, অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্স ও জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ৪৭ শতাংশ ডেমোক্রেট হিলারিকে সমর্থন করছেন আর ২৭ শতাংশ করছেন স্যান্ডার্সকে এবং ১৫ শতাংশ মানুষ সমর্থন করছেন জো বাইডেনকে। ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স থেকে তিনি ৪১ শতাংশ বেশি এগিয়ে ছিলেন কয়েক মাস আগেও। এখন সেখানে মাত্র ২০ শতাংশ এগিয়ে। ধারাবাহিকভাবে স্যান্ডার্স হিলারিকে পেছনে ফেলে দিচ্ছেন। মজার বিষয় হলো, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার প্রার্থিতা এখনও ঘোষণা করেননি। কিন্তু জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে তিনি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। দশজন ডেমোক্রেটের মধ্যে ছয়জনই চাচ্ছেন, জো বাইডেন প্রার্থিতা ঘোষণা করুক এবং লড়ুক। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক জরিপে সৎ ও বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে দু’দলের মধ্যে জো বাইডেন শীর্ষে আছেন। এক্ষেত্রে তিনি ৮১% মানুষের সমর্থন পেয়েছেন, বেন কারসন ৭৯%, জেব বুশ ৭২%, হিলারি ৬৪%, বার্নি স্যান্ডার্স ৫৮% এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫৫%। সৎ ও বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ মার্কস পাওয়া জো বাইডেন শেষ পর্যন্ত সার্বিকভাবে এখনও সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হিলারিকে পেছনে ফেলে দেবেন না তা বলা যায় না। জো বাইডেনের সমর্থন বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছেন কিন্তু হিলারিই। হিলারির কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী ছাড়া যারা তাকে মোটামুটি পছন্দ করতেন কিংবা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে হিলারিকে ব্যতিক্রম ও তুলনামূলক অধিক যোগ্য মনে করতেন কিংবা যারা কোন নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেতে চাইতেন তারা হিলারির ই-মেইল ইস্যু নিয়ে নাটক পছন্দ করেননি। আর এ কারণে তাদের অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন হিলারির দিক থেকে। এ বিষয়ে নিউ জার্সির ডেমোক্রেট সমর্থনক জন কার্নের ভাষ্য প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, ‘বাইডেনের আগে আমি হিলারি ক্লিনটনকেই সমর্থন করতাম। যদিও আমি তার খুব বড় ফ্যান নই। তিনি যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন লিবিয়ার বেনগাজীতে আমেরিকান রাষ্ট্রদূতকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি কিছুই করতে পারেননি।’ এরকম আরও অনেক অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হিলারি।

কুইন্নিপিয়াক জনমত জরিপে দেখা যায়, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে মাত্র চার পয়েন্ট এগিয়ে। তার পয়েন্ট ৪৫ আর ডোনাল্ডের পয়েন্ট ৪১ এবং মারকো রোবিও থেকে মাত্র এক পয়েন্ট এগিয়ে তিনি। এ রকম বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পেছনে বেশিরভাগই সরকারী কাজে তার ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভার ব্যবহারকে দায়ী করছেন। এক-চতুর্থাংশ ডেমোক্রেট ভোটার ই-মেইলের এই অপব্যবহার নিয়ে তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। নেতৃত্বগুণের মাপকাঠিতে তিনি এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও সততার দিক থেকে তার অবস্থান আগস্টের পর সেপ্টেম্বরে ১০ শতাংশ কমে গেছে। তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ার পেছনে ই-মেইল ইস্যু উল্লেখযোগ্য কারণ হলেও সবটা নয়। মানুষের মাঝে এখন এস্টাব্লিসমেন্টবিরোধী মনোভাব প্রকট হচ্ছে। এমন একটা সময়ে হিলারি এস্টাব্লিসমেন্টেরই একজন সদস্য হিসেবে ক্যাম্পেন করছেন। এস্টাব্লিসমেন্টবিরোধী মনোভাবের বৃদ্ধি তার জনপ্রিয়তা হ্রাস করতে ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া হিলারির ক্যাম্পেনের মাঝে বৈচিত্র্য নেই, নেই কোন রোমান্টিকতা। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম রোমান্টিক ক্যাম্পেন হিলারির মনোনয়ন প্রত্যাশার ক্যাম্পেন। ক্যাম্পেনগুলোতে হিলারিকে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিল ক্লিনটনের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তাকে ডিফেন্স করতে হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে তিনি স্ক্যান্ডাল নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ছেন। বেশ রক্ষণাত্মক ঢংয়ে তিনি এসবের মোকাবেলা করছেন। কিন্তু তাতেও যেন মরচে পড়ছে। তার বক্তব্যের মধ্যে মানবিকতা থেকে রাজনীতিই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। দিন দিন মানুষ যেখানে প্রথাগত রাজনীতি থেকে সরে আসছে সেখানে হিলারি প্রথাগত রাজনীতিকেই ধারণ করে আছেন। এটা অনেক ভোটারের মাঝে তাকে নেতিবাচক করে তুলেছে। আবার তার ব্যক্তিত্বও অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি অনমনীয়, উগ্র। তিনি সমালোচকদের সহ্য করতে পারেন না। ব্যঙ্গাত্মক মনোভাবে সমালোচনার জবাব দেন। এসব ব্যক্তিগত আচরণের কারণেও অনেকেই হিলারির প্রতি সমর্থন উঠিয়ে নিয়েছেন। হিলারি ক্লিনটন এখনও ভোটারদের মাঝে কোন মহাকাব্যিক পরিবর্তন আনতে পারেননি। তেমন কোন স্বপ্নও দেখাতে পারেননি। বরং দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে স্ক্যান্ডালের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমে যাচ্ছে তার জনপ্রিয়তা। এসব কারণে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে হিলারি টিকেট নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তার কট্টর সমর্থকরাও সন্দিহান।

রিপাবলিকানদের মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেন কারসনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, জেব বুশ ও স্কট ওয়াকারের জনপ্রিয়তায় ধস এবং ডেমোক্রেটদের মধ্যে হিলারির জনপ্রিয়তা হ্রাস, বার্নি স্যান্ডার্স ও জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, এ সবকিছুই জনমত জরিপের হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনের এখনও এক বছরের বেশি সময় বাকি। এমন অবস্থায় জনমত জরিপের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে কোন ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ এই সময়টাতে অনেক পটই পরিবর্তন আসতে পারে। আট বছর আগের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীদের কথা যাদের মনে আছে তারা এসব জরিপের ওপর আস্থা নাও রাখতে পারেন। রোডোলফ ডব্লিউ গিউলিয়ানি ও ফ্রেড ডি থমপসন রিপাবলিকানদের মাঝে সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে প্রথম দিককার জনমত জরিপে উঠে এসেছিল। কিন্তু ধোপে তারা টেকেননি। প্রাথমিক থেকেই বাদ পড়ে যান। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ধারাবাহিকভাবে উঠে যান জন ম্যাককেইন, মাইক হুকাবে, মিট রমনী এবং রন পল। আবার হিলারিও বারাক ওবামা থেকে জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে প্রথম দিকে ১৮ শতাংশ এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিটকে পড়েছিলেন। এরকম অনেক কিছু এখনও ঘটতে পারে। অনভিজ্ঞ ট্রাম্প ও বেন কারসনকে নিয়ে এখন যতই মাতামাতি হোক না কেন সময়ের প্রয়োজনে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন দিতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে জেব বুশ কিংবা স্কট ওয়াকার আবারও চলে আসতে পারেন আলোচনায়। আবার ডেমোক্রেটদের বেলায়ও এমন কথাই প্রযোজ্য। হয়ত হিলারি ক্লিনটন তার হারানো জনপ্রিয়তা ফিরে পেতেও পারেন কিংবা বার্নি স্যান্ডার্স আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন কিংবা দেখা যাবে যে, জো বাইডেন নিজের প্রার্থিতাই ঘোষণা করেননি, তিনিই হয়ে উঠেছেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী। সবই ভবিতব্য।

সূত্র : বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ডেইলি মেল অবলম্বনে