১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেতাজীকে নিয়ে কোন রহস্যই নেই নথিতে ॥ কৃষ্ণা বসু

মানিকতলা ডিসি অফিসে শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সংগ্রহশালায় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন, ‘আমি এই রিপোর্টের কয়েকটা পাতা দেখেছি। তাতে ১৯৪৫ সালের আগস্টের পরেও নেতাজী বেঁচেছিলেন এমন ইঙ্গিত রয়েছে।’ শনিবার অধিকাংশ ফাইল খতিয়ে দেখে সাবেক তৃণমূল এমপি ও বসু পরিবারের সদস্য কৃষ্ণা বসু বলেন, ‘মানুষের ধারণা ছিল যে, তিনি বিমান দুর্ঘটনার পর সন্ন্যাসী হয়েছেন অথবা রাশিয়া চলে গেছেন। সেই সব তথাকথিত রহস্যের কিছুই নেই।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

একটি ফাইলের নথি বলছে, ১৯৪৮ সালের ৫ মার্চ নয়াদিল্লীর তথ্য ও সম্প্রচার দফতরের চীনা কর্মী চৌ হুয়াও কুং নেতাজীর ভাইপো অমিয়নাথ বসুকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি, উনি বেঁচে আছেন।’ কিন্তু বিশ্বাসের উল্টো দিকে অন্য তথ্যও রয়েছে। ওই ফাইলেই আছে, ১৯৪৭ সালের ১৬ নবেম্বর নিমতলাঘাট স্ট্রিটের কাছে সুভাষ চন্দ্রের মূর্তি উদ্বোধন হয়। আজাদ হিন্দ বাহিনীর শাহনেওয়াজ খান সেই মূর্তিকে স্যালুট করেছেন, শহীদদের স্মরণে সমবেত জনতা দু’ মিনিট নীরবতা পালন করে।

প্রকাশিত ২৮ নম্বর ফাইলে বলা হচ্ছে, ১৯৪৬ সালে কলকাতায় আজাদ হিন্দ দিবসে সুভাষের ছবিতে মালা পরিয়ে মিছিল করা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর তিন বছর আগের বক্তৃতা বাজিয়ে শোনানো হয়। অমিয়নাথ বসুর ছেলে চন্দ্র বসুও আক্ষেপ করে বলেন, ‘ফাইল থেকে জোরালো কিছু পাওয়া যায়নি।’ হার্ভার্ডে বসে কৃষ্ণা বসুর পুত্র, সংসদ সদস্য সুগত বসুরও মনে হয়েছে, ‘জোরালো কিছু পাওয়ার কথাও ছিল না। জানতে পেরেছি, দু’ একটা ফাইলে কিছু থাকতে পারে। তবে নতুন কিছু নয়। যুদ্ধের সময় পুলিশ রিপোর্টে এসব গুজব উল্লেখ করা হয়ে থাকে।’

সুগত বসুর লেখা নেতাজীর জীবনী ‘হিজ ম্যাজেস্টিজ অপোনেন্ট’-এ ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইহোকুতে নেতাজীর মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সুগত। তিনি বলেন, ‘হিজ ম্যাজেস্টিজ অপোনেন্ট’ লেখার জন্য ২০১০ অবধি প্রকাশিত প্রায় সব ফাইল আমি পড়ে ফেলেছিলাম। ফলে ডিক্লাসিফায়েড ফাইলে আমি নতুন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য আশা করিনি।’ নেহেরু থেকে নরেন্দ্র মোদি পর্যন্ত সব প্রধানমন্ত্রীই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রের মহাফেজখানায় থাকা ১৮০টি ডিক্লাসিফায়েড ফাইল প্রকাশ করেনি।