২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অপরাধীদের দখলে ॥ জামালপুর রেলস্টেশন

নিজস্ব সংবাদদাতা জামালপুর, ২০ সেপ্টেম্বর ॥ জামালপুর রেলস্টেশনের জঞ্জাল অবৈধ স্থাপনা। রেলস্টেশন ক্যাম্পাসের দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনায় ঘাঁটি গেড়েছে টিকেট কালোবাজারি, পকেটমার, ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতা।

জানা গেছে, জামালপুর রেলওয়ে ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। এসব স্থাপনায় মনিহারী দোকান, হোটেল, রেস্তরাঁ, ফলের দোকান, তাবিজ বিক্রির আসর, মুচির দোকান, পান দোকান, চেনাচুর, বুটবাদাম ও ফ্লেক্সিলোডের দোকান, ক্যানভাসার ও গেস্ট হাউজের নামে পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ পতিতালয়। রেলওয়ে ক্যাম্পাসের ওইসব অবৈধ স্থাপনায় ঘাঁটি গেড়ে প্রায় ২৪ ঘণ্টাই জোট বেঁধে আড্ডা দেয় টিকেট কালোবাজারি, পকেটমার, ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, মাদকসেবী ও মাদক বিক্রেতাসহ ভ্রাম্যমাণ পতিতারা।

অপরদিকে ক্যানভাসারদের উচ্চবাক্য, ভ্রাম্যমাণ পতিতা ও হিজরাদের নোংরামিসহ অপরাধীদের অশ্লীল আচরণে প্লাটফর্মটিতে সার্বক্ষণিক বিরাজ করে অস্বস্তিকর পরিবেশ। এছাড়া দিনরাত গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণে স্টেশন প্লাটফর্মটি হয়ে উঠেছে গরু ছাগলের ফার্ম। এদিকে স্টেশনে যাত্রীদের সেবায় নির্মিত বিশ্রামাগারগুলোও বন্ধ থাকে প্রায় সর্বক্ষণই। এতে প্লাটফর্মের নোংরা ও অস্বস্তিকর পরিবেশে জায়গার অভাবে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কষ্ট করে। এছাড়া এ স্টেশন থেকে টিকেট কালোবাজারিদের পরিকল্পিত ভিড় উপেক্ষা করে সাধারণ যাত্রীরা রেলের কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে পারে না। যাত্রীরা প্রতি টিকেট নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে তিনশ থেকে পাঁচশ’ টাকা বেশি দিয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। তাই নিম্ন আয়ের সাধারণ যাত্রীরা সিট ছাড়া টিকেট নিয়ে ঠাসাঠাসি করে ট্রেনে দাঁড়িয়ে অথবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে যাতায়াত করে। এসব কারণে জামালপুর রেলস্টেশন ক্যাম্পাসের অপরাধ চিত্র দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। অথচ রেলওয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় না বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জামালপুর রেলস্টেশন মাস্টার জহুরুল ইসলাম জানান, ‘স্টেশনের অবৈধ দখলসহ সকল অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব জিআরপি পুলিশের। আর ট্রেনের টিকেট কালোবাজারি বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে বিভিন্ন ট্রেনের টিকেট বিক্রির সময় কাউন্টারের সামনে হুমড়ি খেয়ে লাইন ধরে মুহূর্তেই সকল টিকেট কিনে কালোবাজারি ও তাদের ভাড়া করা লোক। তাই সাধারণ যাত্রীরা কাউন্টার থেকে সিটসহ টিকেট সংগ্রহ করতে পারে না। তবে তিনি প্রতিদিনই কিছু টিকেট সংরক্ষণে রেখে নিয়মিত ভিআইপি যাত্রীদের সমস্যা সমাধান করেন বলে জানান।