১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রায়নার সেঞ্চুরিতে সিরিজ ভারতের

রায়নার সেঞ্চুরিতে সিরিজ ভারতের
  • বৃষ্টি আইনে তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৫ রানে হার মুমিনুলদের, বাংলাদেশ-ভারত ‘এ’ ওয়ানডে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এক ওভারে ৭৮ রান করা সম্ভব! এমন টার্গেটই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সামনে দাঁড় হলো। বৃষ্টির বাগড়ায় তৃতীয় ওয়ানডেতে এমন বিপাকেই পড়ল মুমিনুল হকের দল। তাতে করে ভারত ‘এ’ দলের কাছে বৃষ্টি আইনে ৭৫ রানের বড় ব্যবধানে হারও হলো। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও ১-২ ব্যবধানে হেরে গেল বাংলাদেশ ‘এ’ দল।

বাংলাদেশ-ভারত ‘এ’ দলের মধ্যকার আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজ শেষ হয়েছে রবিবার। ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনের মারপ্যাঁচে পড়ে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৯৬ রানে জিতে ভারত ‘এ’ দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৫ রানে জিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সিরিজে ১-১ সমতা আসে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে অনেক আশা ছিল, সিরিজটিও জিতে নেবে মুমিনুল হকের দল। কিন্তু তা আর হলো না। ভারত ‘এ’ দল ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল।

যে দল জিতবে, সেই দলই সিরিজ জিতে নেবে। এমন অবস্থায় ভারত ‘এ’ দল বাজিমাত করল। সুরেশ রায়নাকে নিয়ে শুরু থেকেই ভয় ছিল। প্রথম দুই ওয়ানডেতে কিছুই করতে পারলেন না রায়না। অথচ সঠিক সময়ে এসেই জ্বলে উঠলেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এসে ৯৪ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ১০৪ রানের ইনিংস খেললেন। তার সঙ্গে সঞ্জু স্যামসনের ৯০ রানে, ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৯৭ রানের বড় স্কোরই গড়ে ফেলে স্বাগতিকরা। শফিউল ইসলাম ২ উইকেট নিতে সক্ষম হন।

এ বিশাল রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ৬ রান যখন স্কোরবোর্ডে জমা হয়, তখন বৃষ্টি পড়া শুরু হয়। খেলা বন্ধ হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত যখন খেলা শুরু হয়, বাংলাদেশের সামনে জিততে ৪৬ ওভারে ২৯০ রানের টার্গেট দাঁড় হয়। এ রান তুলতে গিয়ে যখন ১২৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ৩১ ওভারে ১৩৯ রান করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল, তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়। জিততে তখনও ১৪ ওভারে ১৪৯ রান লাগত। বোঝাই যাচ্ছে, হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলেরই হতো। এমন অবস্থায় আবার নতুন টার্গেট দাঁড় হয়। ৩২ ওভারে ২১৭ রানের টার্গেট দেয়া হয়। অর্থাৎ ৩১ ওভার এরইমধ্যে খেলে ফেলায় ১ ওভারে বাংলাদেশকে জিততে ৭৮ রান করতে হতো! শেষে বৃষ্টি থামার পর ১ ওভারে আর ২ রান যোগ করতে পারে মুমিনুলের দল। হার হয় বড় ব্যবধানেই। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪১ রান করেন সাব্বির রহমান রুম্মন। শ্রীনাথ অরবিন্দ ২ উইকেট নেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কী ঝলকই না দেখিয়েছিলেন নাসির হোসেন। একাই দলকে জিতিয়ে দিয়েছেন। শতক করেছেন। আবার ৫ উইকেটও তুলে নিয়েছেন। তাই বলে কী সবসময় নাসিরই খেলবেন? অন্যদের দলের জন্য কিছুই করার নেই। লিটন কুমার দাস প্রথম দুই ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে ২১ রান করেছেন। নাসির এবারও চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এদিন আর বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারেননি। ২২ রান করেই নাসিরকে থামতে হয়েছে।

রায়নার শতক ও স্যামসনের ৯০ রানের জবাবে একইরকম নৈপূণ্য দরকার ছিল। তাহলে ম্যাচ জেতা যেত। কিন্তু অর্ধশতকই কেউ করতে পারলেন না। মুমিনুল হকের কাঁধে নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে। ওয়ানডেতে যে মুমিনুল এখনও মানিয়ে নিতে পারছেন না, তা আবারও ধরা পড়ল। তৃতীয় ওয়ানডেতেও ঝলকহীনই থাকলেন মুমিনুল। করলেন ৩৭ রান। যেটি আবার দলের হয়ে এ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেরা। আর প্রথম ওয়ানডেতে ১৯ ও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাত্র ৩ রান করেছেন। ব্যর্থতার পর ব্যর্থ হয়ে চলেছেন মুমিনুল।

শুধু মুমিনুল কেন, নাসির ও লিটন বাদ দিলে আর কোন ব্যাটসম্যানই নজর কাড়তে পারেননি। শক্তিশালী ‘এ’ দল পাঠানো হয়েছে। যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অন্তত গড়তে পারে প্রতি ম্যাচেই। মুমিনুল হক তো ‘প্রতি ম্যাচেই জিততে চাই’ বলে গেছেন। অথচ প্রথম ও তৃতীয় ওয়ানডেতে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতার দেখাই মিলল না। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয় ছাড়া তাই আর কোন প্রাপ্তিই মিলল না। জাতীয় দলের আদলে পাঠানো ‘এ’ দল থেকে ওয়ানডে সিরিজে হতাশাই মিলল শুধু। ওপেনার সৌম্য সরকার ও রনি তালুকদার একটি ম্যাচেও নিজেদের মেলে ধরতে পারলেন না। সৌম্য তিন ওয়ানডে মিলিয়ে ৩৪ রান (৯, ২৪ ও ১ রান) করেছেন। নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি জাতীয় দলের এ ওপেনার। রনি তালুকদারের অবস্থা আরও করুণ! এ ওপেনার তিন ওয়ানডে মিলিয়ে মাত্র ২২ রান (১৩, ০ ও ৯ রান) করেছেন।

এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ভরসা ছিল। তিনিও হতাশই করলেন। ভরসার প্রতিদান দিতে পারলেন না। প্রথম ওয়ানডেতে ০, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৪ ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ১ রান করলেন। সাব্বির প্রথম দুই ওয়ানডেতে (২৫ ও ১ রান) জ্বলে উঠতে না পারলেও তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন। নাসির (৫২, ১০২ ও ২২) ও লিটন কুমার (৭৫, ৪৫ ও ২১) ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানরা সিরিজজুড়েই ব্যর্থ হলেন। তাতে করে শক্তিশালী দল পাঠিয়েও সিরিজ জেতা গেল না। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তো গড়া গেল না! তৃতীয় ওয়ানডেতে করুণ দশা হয় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। ৫০ রানের একটি জুটিরও দেখা মিলল না। সর্বোচ্চ জুটিটি হলো চতুর্থ উইকেটে। সাব্বির-নাসির মিলে ৪৪ রানের জুটি গড়লেন। ভারতে গিয়ে ব্যাটিং শক্তির পরীক্ষা দিতে হবে। তা সবারই জানা ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাতে পাস মার্কই মিলল না। একটি ম্যাচ জেতা গেছে। তাতে স্বস্তিও আছে। তবে দুই ম্যাচে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়া গেল না, সেটিই সবাইকে আক্ষেপে পুড়াচ্ছে।