২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদে বাড়ি ফেরা

ঈদে বাড়ি ফেরা
  • মাহবুব শরীফ

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে দুই ঈদ অন্যতম। সারা বছর গ্রামে না ফিরলেও এ সময়ে সবাই নিজ নিজ গ্রামের দিকে ছুটে। সকলকে নিয়ে ঈদ করার মজাই আলাদা। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নামাজে যাওয়া নামাজ শেষে সবার সঙ্গে কোলাকুলি করা আহ্ কি শান্তি! প্রাণ যে ভরে যায়। কিন্তু এই দৃশ্য দেখতে পাড়ি দিতে হয় কত পথ- পরিবারের যারা শহরে থাকে তাদের নিয়ে ঠেলাঠেলি করে বাড়ি ফেরা, কেউ কেউ লঞ্চে যাতায়াত করে। এত কষ্টের মধ্যেও মুখে হাসির কমতি নেই, বাড়ি ফিরে প্রিয় মুখটি দেখবে বলে কত আনন্দ। প্রতারকরা এ সময়ের অপেক্ষায় থাকে, কখন সব মালামাল কেড়ে নিবে। যদি আপনারা একটু খেয়াল করে দেখে থাকেন প্রত্যেকটি যাত্রীই কম বেশি মালামাল বহন করে থাকেন, সবার কাছেই কম বেশি নগদ অর্থ ও থাকে। থাকে দামী অলঙ্কারও। প্রতারকরা এই সুবিধাই নিয়ে থাকে। যাত্রীদের প্রতি সতর্কতামূলক বার্তা হলো এই আপনারা অপরিচিত লোকের দেয়া কিছু খাবেন না, কারণ খাবারে ভিতরে মিশিয়ে আপনাকে চেতনানাশক খাওয়াতে পারে। যাতে আপনি আপনার সর্বস্ব হারাতে পারেন। অপরিচিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন না। কারণ বন্ধুত্বের পরিবেশে আপনাকে নিঃস্ব করতে পারে। সামান্য কিছু মালামাল বা টাকার জন্য আপনার জীবন পর্যন্ত চলে যেতে পারে।

হয়ত আপনার দিকে তাকিয়ে আছে আপনার পুরো পরিবার। আপনার একটু অসতর্কতা পুরো পরিবারের আনন্দকে মাটি করে দিতে পারে। হতে পারে সারা জীবনের কান্নার উদাহরণও।

চলার পথে যত পারা যায় কম খাবেন, ডাব, আচার, আমড়া, শশা, জাম্বুরা, পানিসহ সকল প্রকার খোলা খাবার খাবেন না। সম্ভব হলে বাসা থেকে খাবার নিয়ে রওয়ানা হোন। সঙ্গে প্রয়োজন অনুপাতে খাবার পানি রাখুন। ঘ্রাণযুক্ত দ্রব্য ক্রয় থেকে বিরত থাকুন। ঘ্রাণযুক্ত দ্রব্যের সঙ্গে কেমিক্যাল দিয়ে আপনাকে অচেতন করতে পারে। পথঘাট থেকে রুমাল কিনবেন না। একটি রুমাল আপনার জন্য অনেক বড় সর্বনাশের কারণ হতে পারে। যাত্রা পথে ঘুমাবেন না, অতি প্রয়োজনে সতর্কতা অবলম্বন করে ঘুমাবেন।

বর্তমান যুগে নগদ টাকা পয়সা সঙ্গে বহন করার দরকার পড়ে না। অনেক উপায়ে টাকা পয়সা স্থানান্তর করা সম্ভব।

লঞ্চ যাত্রীরা একটু বেশিই সতর্ক থাকুন। কারণ লঞ্চে বিছানার একটা ব্যাপার আছে, যে আগে আসে সেই বিছানার মালিক। কিছু প্রতারক আছে, তারা এসে বলে, আমি একা একটু যায়গা দিবেন? শুধু শুয়ে থাকব। সহজ সরল বা তাদের সরল মনে বলে, থাকুন না অসুবিধা কি? যখন যাত্রী ঘুমিয়ে যায় তখন অসুবিধাকেই তার সুবিধা বানিয়ে সবকিছু নিয়ে নেয়। পাশের বিছানায় বুঝতেও পারে না। কি হচ্ছে? তারা মনে করে এক বিছানার সবাই পরিচিত হবে।

আবার অনেক চোররা ওত পেতে থাকে কখন তার গন্তব্যে আসবে? এলেই ব্রিফকেস, বড় ব্যাগ বা দামী জিনিসপত্র নিয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে। চিৎকার করলেও কোন লাভ নেই আপনার একার জন্য এত বড় লঞ্চ থামবে না, যদিও থামায় তত সময়ে চোর নিরাপদ স্থানে চলে যায়। যাত্রাপথে আপনি সতর্ক থাকুন। আপনি আপনার গোটা পরিবারকে আনন্দময় ঈদ উপহার দিন। আপনিই আপনার পরিবারকে আনন্দ দিতে পারেন।

ছবি : নাসিফ শুভ

মডেল : সেলিম, নিহারিকা ও রাসেল