২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইজিসিসিতে ভরতনাট্যমে মুগ্ধ দর্শক

আইজিসিসিতে ভরতনাট্যমে মুগ্ধ দর্শক

গৌতম পাণ্ডে ॥ শরতের মন্দ্রিত সন্ধ্যা। নৃত্যামোদী দর্শকের ভিড়ে গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তন পুর্ণ। মঞ্চের পেছনে শোভা পাচ্ছে ধাতুনির্মিত নটরাজের মূর্তি। পাশে পঞ্চপ্রদীপের শিখা জ্বলজ্বল করছে। মিলনায়তনজুড়ে আগরবাতির সুগন্ধে যেন বিরাজ করছে দেবলোকের আবহ। গুরুগম্ভীর এ পরিবেশটা শুধুমাত্র ভরতনাট্যমের জন্য সৃষ্টি। ভারতের শঙ্করী মৃধা ও তাঁর সহযোগী হয়ে নাচবেন স্বর্ণালী কু-ু এবং লিসা চ্যাটার্জী। উদীয়মান তিন শিল্পীরই নাচে সুখ্যাতি রয়েছে। শনিবার বর্ণিল এ নৃত্যসন্ধ্যার আয়োজন করে ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

প্রতিক্ষার পালা শেষ। এসে গেল সেই মহেন্দ্রক্ষণ। মঞ্চের এক কোণে দাঁড়িয়ে উপস্থিত দর্শকের প্রতি যথারীতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করলেন কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী কু-ু। তিনি তুলে ধরেন শিল্পীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি। নিভে গেল মঞ্চের তীব্র আলো। বেগুনি রংয়ের ক্ষীণ আলোয় নুপুরের মৃদু শব্দ করতে করতে মঞ্চে এলেন তিন শিল্পী। বিচিত্র রংয়ের পোশাকে আর বর্ণিল আলোয় চোখ ফেরানোর উপায় নেই।

পরিবেশনার শুরুতে ছিল ভরতনাট্যমের একটি বিশেষ আঙ্গিক নাটেশা কৌতুভম। আদি তাল ও নাট্যম রাগে পরিবেশিত ভরতনাট্যমের এ অংশে শিবের বন্দনা প্রতিভাত হয়। নৃত্য রচনা করেছেন কীর্তি রামগোপাল। ভরতনাট্যমের প্রথম এই ধাপে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বিশুদ্ধ নৃত্যের উপযোগী করে দেহভঙ্গিকে সুষম সৌন্দর্যে প্রস্ফুটিত করে তুলে ধরেন। শিল্পীরা মাথার ওপরে নমস্কারের ভঙ্গিতে দুই হাত তুলে, ছন্দের সাথে দৃষ্টি ও গ্রীবার কাজ করেন। এই অংশে শিল্পী রঙ্গদেবতা, দর্শক, সঙ্গীতশল্পী প্রমুখের কাছ থেকে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। বিশুদ্ধ ভরতনাট্যমে এই অংশ তিন থেকে পাঁচ মিনিটের ভিতরে শেষ করা হয়।

‘অদ্যাঞ্জলি’ শীর্ষক পরবর্তী নৃত্য পরিবেশ করেন শিল্পীরা। এটি হলো ঐশ্বরিক মাতৃশক্তির প্রতি ভক্তের বিনীত আবেদন। নৃত্যরচনা করেছেন কীর্তি রামগোপাল। স্বরসতির স্তব স্তুতি বর্ণনা করা হয় এ অংশে। সাতটি জটিল রাগাশ্রয়ী সরগম ও তালের সঙ্গে এ নৃত্য পরিবেশন করেন। কোন বিশেষ ভাব প্রকাশ ছাড়া শিল্পীরা এ অংশে দৃষ্টি, গ্রীবা, হাত ও পায়ের কাজ করেন। তালের এক একটি অধ্যায় ধরে একটি যতি গঠিত হয়। একটি অধ্যায় শেষে তালের সমে এসে পরবর্তী যতি শুরু করা হয়। সংযমের সঙ্গে সুচারুরূপে উপস্থাপন করা হয়।

পরের পরিবেশনা ছিল কীর্তনম। শিল্পী স্বর্ণালী ও লিসার দ্বৈত এ পরিবেশনায় মূর্ত হয়ে ওঠে শিবের প্রণাম ও স্তুতি। ভক্তিমূলক সঙ্গীতের ভক্তিরসকে নৃত্যের ছন্দে অভিনয়ের মাধ্যমে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন তারা। তেলেগু ভাষায় এ ভক্তিগীতি পরিবেশন করা হয়।

ভরতনাট্যমের চতুর্থ পরিবেশনায় ছিল ভরনম। এ নৃত্যটি একক পরিবেশন করেন শিল্পী শঙ্করী। এতে বিষ্ণু ও মহর্ষি ভ্রিগুর কাহিনী তুলে ধরা হয়।

এরপরে উপস্থাপন করা হয় তিল্লানা। ভরতনাট্যমের সর্বশেষ উপস্থাপনা এটি। শিল্পী শঙ্করী মৃধা প্রথমে এককভাবে উপস্থাপন করেন এই অংশ। এতে দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতিতে তারানার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়। পরে তিন শিল্পী এর যতির অংশগুলো বিলম্বিত, মধ্য ও দ্রুতালয়ে পরিবেশন করেন। কুশলতার সঙ্গে এর নৃত্যশৈলী তুলে ধরেন। এতে নানা ধরনের মুদ্রা, পাদকর্ম, শিরকর্ম, দৃষ্টিকর্ম, নাসকর্ম, ভ্রƒকর্মের জটিল বিষয়কে উপস্থাপন করেন। মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা