২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলে গেলেন ডালমিয়া

চলে গেলেন ডালমিয়া
  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া। রবিবার রাতে কলকাতার বিএম বিড়লা হার্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন মারা যান ক্রিকেটের বর্ষীয়ান এই সংগঠক। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

তাঁর মৃত্যুর খবরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী ও পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস হাসপাতালে ছুটে যান। ডালমিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক প্রধানের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিসিসিআইও। ১৯৪০ সালের ৩০ মে জন্ম নেন।

হৃদরোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ডালমিয়া। রাতেই তাঁর এনজিওগ্রাম করা হয়। অপারেশনের পর তাঁর অবস্থা সামান্য স্থিতিশীলও হয়েছিল বলে জানা যায়। চিকিৎসকরা জানান, বিসিসিআই সভাপতির অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তাকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। গত মার্চে তৃতীয় মেয়াদে বিসিসিআই সভাপতি হওয়া ডালমিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই শঙ্কা ছিল।

ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়াতে সক্ষম হন ডালমিয়া। ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর কারণেই বাংলাদেশে ক্রিকেটের প্রথম বিশ্ব আসর আয়োজন সম্ভব হয়েছিল। অর্থাৎ ১৯৯৮ সালের মিনি বিশ্বকাপ। এসব কারণে তাঁকে টাইগার ক্রিকেটের বন্ধু হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের প্রতি ভালবাসা প্রদর্শন করে ডালমিয়া পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘বাংলাদেশের বন্ধু’ হিসেবে। তাঁর মৃত্যুতে তাই পরম এক বন্ধুকেই হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন ডালমিয়া। গত কয়েক মাস ধরেই তাঁর স্বাস্থ্যগত সমস্যাটি বিসিসিআই তথা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যে কারণে বিসিসিআইর সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোও কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়। কেননা, তাকে ঘন ঘন ভ্রমণ করতে নিষেধ করেছিলেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যগত কারণেই বিসিসিআইর সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে ডালমিয়াকে সম্মানসূচক উপদেষ্টা পদ দেয়ারও চিন্তা-ভাবনা করছিল বিসিসিআই। কিন্তু সবকিছুর মায়াজাল ছিন্ন করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন জনপ্রিয় এই ক্রিকেট সংগঠক।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯৮৩ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হন ডালমিয়া। সে বছরই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে ভারত। ১৯৮৭ (ভারত-পাকিস্তান যৌথ আয়োজক) এবং ১৯৯৬ সালে (ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যৌথ আয়োজক) ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থার (আইসিসি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত।

ক্রিকেটের বিশ্বায়নের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা মনে করা হয় তাঁকে। ক্রিকেটকে বিশ্বজনীন খেলায় রূপ দিতে তিনি নিয়েছিলেন অনেক কার্যকরী উদ্যোগ। তাঁর নানা উদ্যোগ ও দূরদর্শিতায় সে সময় ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল।