২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা ঢাকার দুই মেয়রকে নিয়ে পথসভা করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে ঢাকার দুই মেয়রকে নিয়ে পথসভা করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জনগণের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ডেঙ্গুর প্রাথমিক উপসর্গ ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দেয়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রবিবার ঢাকায় সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের সব প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণ সচেতন থাকলে এই রোগের বিস্তার ঘটবে না। এ সময় জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার ডেঙ্গু রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে ইতোমধ্যে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। শুধু সচেতনতার সঙ্গে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই রোগের বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, টেলিভিশন, রেডিও এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য বাসাবাড়িসহ আশপাশের এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পরামর্শমূলক বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু হলে রোগীর শুশ্রুষার জন্য করণীয় সম্পর্কেও সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে। সরকার জেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রচারণা জোরদার করতে কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর দ্রুত নিরাময়ের জন্য চিকিৎসক ও নার্সদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানির পর সংশ্লিষ্ট জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ময়লা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে এ সময় সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জাইকার সাহায্য অব্যাহত থাকবে ॥ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সাহায্য অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে (গধংধঃড় ডধঃধহধনব)। রবিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে সাক্ষাত করতে এসে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় সম্প্রতি জাতিসংঘ থেকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পদক অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য খাতের সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে বেশ প্রশংসা অর্জন করেছে। শিশু মৃত্যুহার হ্রাসের সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সালে জাতিসংঘ পদক পেয়েছেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ সফলভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি এ সময় মা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়ন, এমডিজি অর্জন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কর্মসূচী গ্রহণসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সূচকের উন্নয়নে জাইকার সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের বিনির্মাণসহ এখন পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অবদান এদেশের জনগণ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার জনগণের হাতের নাগালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি স্থাপন, শয্যা বাড়ানোসহ ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করা হয়েছে। গত বছর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার চিকিৎসককে গ্রাম পর্যায়ে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মডেল অনুসরণে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এখন গ্রামে গ্রামে কাজ করে মানুষকে মৌলিক সেবা দিচ্ছে। শিশু স্বাস্থ্য ও নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এই ক্লিনিকগুলো ব্যাপক অবদান রেখে চলেছে।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোঃ নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের ঊর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।