২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে নহনা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ দিয়ে মানুষের চলাচল

ঠাকুরগাঁওয়ে নহনা নদীর ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ দিয়ে মানুষের চলাচল

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জাউনিয়া নহনা নদীর ব্রীজের পাটাতনে গর্ত হওয়ায় ৩টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ ও ভারী যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ফলে যে কোন মুহুর্তে মারাত্বক দূর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, ঠাকুরগাও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শহর হতে ৫ কি:মি: দূরে জাউনিয়ায় নহনা নদীর উপর বিট্রিশ আমলে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ব্রীজটি পূণরায় সংস্কার করা হয়। এ ব্রীজটি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে চলাচরের একমাত্র সড়ক ও ব্রীজ। পাড়িয়া, চাড়োল ও ধনতলা ইউনিয়নের হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা এ ব্রীজের উপর দিয়ে যাতায়াত করে থাকে।

ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে ২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এ উপজেলার একমাত্র বড় হাট লাহিড়ী হাট, লাহিড়ী ডিগ্রী কলেজ, লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, লাহিড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফাজিল মাদরাসা সহ আশেপাশে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্রীজের দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে হাসপাতাল, থানা, উপজেলা পরিষদ।

প্রতি শুক্রবার লাহিড়ী হাটে হাজার হাজার গরু ধান চাল পাট বোঝাই ট্রাক চলাচল করে। এছাড়াও প্রত্যহ ঢাকাগামী দিবা ও নৈশ কালিন কোচ চলাচল করে। অন্য কোন বিকল্প রাস্তা না থাকায় ৩টি ইউনিয়নের সাধারন মানুষ ও হাটুরেদের ওই ব্রীজের উপর দিয়ে উপজেলা ও জেলা শহর আসতে হয়। সাবাজপুর গ্রামের হুমায়ুন জানান, প্রতি শুক্রবার লাহিড়ী হাটে পশুর হাট বসে। হাটে ৫/৬ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

লাহিড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট জিল্লুর রহমান জানান, ব্রীজের উপর দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ধনতলা ইউপি চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যাটার্জী জানান, ৩ ইউনিয়নের মানুষের কথা ভেবে এ ব্রীজটি নির্মানের জন্য অসংখ্যবার উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চাড়োল ইউপি চেয়ারম্যান আবু হায়াত নুরুন্নবী জানান, কোন প্রকার অনাকাংখিত ঘটনার পূর্বেই অবিলম্বে ব্রীজটি নির্মাণ করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম জানান, ৫ মাস আগে রংপুর বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প পরিচালকের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ: মান্নান জানান, ব্রীজের দুই প্রান্তে ঝুঁকিপুর্ণ ও সাবধানে চলাফেরা করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে সাইনবোর্ড লাগানোর জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি এলজিইডির ঠাকুরগাও নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।