২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও ঘাটাইল থানার ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহতের ঘটনায় কালিহাতী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম ও ঘাটাইল থানার ওসি মোখলেছুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে তাদের ঢাকা ডিআইজি অফিসে ক্লোজ করা হয়। টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় গত শনিবার কালিহাতী থানার উপ-পরিদর্শক আবুল বাশার, সলিম উদ্দিন, কনস্টেবল জিয়াউল হক, আমিরুল ইসলাম এবং ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক মনছুপ আলী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও লিয়াকত আলীকে প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৯ জন পুলিশকে প্রত্যাহার করা হলো।

জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলা সদরে সাতুটিয়া গ্রামে মোজাফফর হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম রোমার স্ত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার হামিদপুর আঠারোদানা গ্রামের রাজমিস্ত্রী শ্রমিক আলামিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ ঘটনার কয়েক মাস আগে ওই ছেলের সঙ্গে রোমার স্ত্রী চলে গিয়েছিল। পরে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর রোমার স্ত্রী আবার ওই ছেলেটির কাছে চলে যায়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোমা ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা আলোচনার কথা বলে ওই ছেলে, তার মা ও রোমার স্ত্রীকে কালিহাতীতে রোমাদের বাড়িতে ঢেকে আনে। পরে স্ত্রীর সাথে প্রেম করে ভাগিয়ে নেয়ার অপরাধে ওই ছেলেকে বিবস্ত্র করা হয়। এ সময় তার মাকেও বিবস্ত্র করতে বাধ্য করা হয়। মায়ের সাথে ছেলেকে অশ্লিল আচরণ করতে বাধ্য করে তারা। এ ঘটনা এলাকাবাসী পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে ও রফিকুল ইসলাম রোমাকে আটক করে। এ ঘটনায় ছেলেটির মা বাদী হয়ে রফিকুল ইসলাম রোমা, রোমার ভগ্নিপতি হাফিজুর রহমান এবং কাজী নামের একজনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কালিহাতী থানায় মামলা করেন। পুলিশ গত বুধবার রোমাকে ও বৃহস্প্রতিবার হাফিজুরকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

এদিকে রোমাকে রিমান্ডে না নেয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে তারা রোমাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় ঘাটাইল ও কালিহাতীবাসী সংঘবদ্ধ হতে থাকে। তারা গত শুক্রবার দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকিং করে মিছিল নিয়ে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হতে বলে। এছাড়াও কে বা কারা গুজব ছড়ান যে নির্যাতনের শিকার আলামিনের মা আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে লোকজন। প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোক মিছিল নিয়ে কালিহাতী ও হামিদপুর বাসস্ট্যান্ডে আসে। তারা প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। পুলিশ মিছিলে টিয়ারশেল ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে গ্রামবাসী আবার একত্রিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাকেট নিক্ষেপ ও গাড়ী ভাংচুর করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের প্রথমে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে সেখানে একজন মারা যায়। পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ঢাকা নেয়ার পথে দুইজনের মৃত্যু হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় রুবেলের (২০) মৃত্যু হয়। এতে আহত হয় অন্তত ২৫ জন।

এ ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (শৃংখলা) আলমগীর আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী ও টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ছরোয়ার হোসেনকে প্রধান করে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার থেকে তারা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।