২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৩টি আইনের খসড়া অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক ॥ মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন, ২০১৫’ ও ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৫’ এবং ‘পায়রা বন্দর প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহন) আইন, ২০১৫’ এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পর কেবিনেট সচিব এম মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়াঁ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন, ২০১৫’ এর লক্ষ্য হচ্ছে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য সরকারের ফেলোশিপ কর্মসূচি টেকসই করা।

কেবিনেট সচিব বলেন, বিদ্যমান ফেলোশিপ প্রকল্প শেষ হওয়ার পর ট্রাস্ট ফান্ড থেকে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বৃত্তি দেয়া হবে।

বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে ট্রাস্টের একটি ১৩ সদসস্যের বোর্ড থাকবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট। কমিটিতে আইসিটি, শিক্ষা, অর্থ, আইন ও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ইউজিসি ও বিসিএসআইআর প্রতিনিধি এবং বিজ্ঞান বিষয়ের দুজন অধ্যাপক থাকবেন।

কেবিনেট সচিব বলেন, ট্রাস্ট সরকারের কাছ থেকে অর্থ পাবে এবং ট্রাস্টের তহবিল টেকসই করার লক্ষ্যে অন্যান্য উৎস থেকেও অর্থ গ্রহন করতে পারবে।

কেবিনেট সচিব আরো বলেন, ‘পায়রা বন্দর প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহন) আইন, ২০১৫’ এর খসড়া একটি বিশেষ বিধিসহ অনুমোদন করা হয়েছে যাতে প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়া যায়। এই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে পদ্মা সেতু প্রকল্প ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহন আইনের মতোই সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে পায়রা বন্দর প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহনের সুবিধা দেয়া।

মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়াঁ বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠক আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আইনের অধীনে প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের পক্ষে অধিগ্রহন কমিটি অর্থ ছাড় করার ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পাবেন। তিনি বলেন, এই আইনে রাতারাতি এলাকার কাঠামো পরিবর্তন করে বিবেকহীন লোকদের দ্বারা ভূমির দাম বাড়ানোর বিষয়টি যাচাই করার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৫’ প্রণয়নের লক্ষ্য হচ্ছে সংস্থাকে আরো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের আইনগত কাঠামো জোরদার করা। এই আইনের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে মটরযান ও সড়ক পরিবহনকে একটি পরিকল্পিত ব্যবস্থায় নিয়ে আসার মাধ্যমে এটিকে প্রযুক্তি ভিত্তিক, পরিবেশ বান্ধব ও কার্যকর করে তোলা।

কেবিনেট সচিব আরো বলেন, আইনের খসড়াগুলো দীর্ঘ যাচাই প্রক্রিয়া, আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়াঁ বলেন, মটর ভেহিকেল অর্ডিনেন্স, ১৯৮৩ প্রতিস্থাপনকারী এই আইনে একটি বিশেষ বিধি সহ ২৮টি অনুচ্ছেদ ও ৭২ টি উপ-অনুচ্ছেদ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি এবং একজন সভাপতির নেতৃত্বে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকবে।

উপদেষ্টা কমিটি সময়ে সময়ে কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দিবে। এতে পরিবহন খাত, মেয়র, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ, পুলিশের আইজি, সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা থাকবে। ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কয়েকজন পূর্ণকালীন ও স্বল্পকালীন পরিচালক থাকবেন।

কেবিনেট সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের আলোচনার মাধ্যমে আরো পর্যালোচনার জন্য ‘জাতীয় গুণগত মান (পণ্য ও সেবা) নীতি, ২০১৫’ এর খসড়া ফেরৎ পাঠিয়েছে। সূত্র: বাসস