১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হকি সংকট ঘনীভূত ॥ এবার জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কথায় আছে, ‘যত মুশকিল, তত আসান।’ তবে বাংলাদেশ হকির বেলায় এসে যেন কথাটি যেন বার বার ভুল প্রমাণিত হয়। একসময় ফুটবল-ক্রিকেটের চেয়ে জনপ্রিয়তায় কোন অংশে কম ছিল না বাংলাদেশের হকি। রমরমা ছিল দেশীয় হকি। আন্তর্জাতিক আসরগুলোতেও ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতো জাতীয় দল। যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটা আশির দশক থেকে নব্বই দশকের প্রারম্ভ পর্যন্ত। তারপরই ধীরে ধীরে অধোগতি শুরু হয় হকিতে। স্পন্সররা মুখ ফিরিয়ে নেয়। লীগ হয়ে পড়ে অনিয়মিত। খেলোয়াড়রা অনেকেই রুটি-রুজির জন্য বাধ্য হয়ে হকি ছেড়ে বেছে নেন অন্য পেশা। তবে বিগত কয়েক বছর ধরে আবারও কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়ায় দেশীয় হকি। লীগসহ অন্যান্য টুর্নামেন্ট মোটামুটি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাফল্য মিশ্র। তবে নানামুখী সমস্যার কারণে যেভাবে উন্নতি পরিলক্ষিত হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। যখনই মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল দেশের হকি, তখনই আবার উল্টো হাঁটা শুরু হয়। দলবদল, নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় হকির সমস্যা দিন দিন হয়ে উঠেছে প্রকট।

ঈদের আগে এসএ গেমস ও অনুর্ধ-২১ দলের ক্যাম্প শুরু হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। যদিও ক্যাম্প শুরু হবার ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ছিল।

অক্টোবরে অনুর্ধ-১৮ দলের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বিষয় ছাড়া আর কোন সিদ্ধান্তই আসেনি এ সভায়। সব সিদ্ধান্তই জমা করে রাখা হচ্ছে গভর্নিং বডির সভার জন্যÑ এমনটাই জানিয়েছে ফেডারেশন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে এসএ গেমস ও অনুর্ধ-২১ দলের আন্তর্জাতিক সফরকে সামনে রেখে অর্থ বরাদ্দ পেয়ে খেলোয়াড়দের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করেছিল হকি ফেডারেশন। এমনিতেই নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের হকি। তার ওপর শুরুর দিনেই খেলোয়াড়দের ক্যাম্প বর্জন বিপাকে ফেলে দিয়েছে ফেডারেশনকে। তাই পরের দিনই বৈঠকে আলোচনা করা হয়। পরবর্তী কার্যনির্বাহী কমিটির সভার পূর্ব পর্যন্ত ক্যাম্প বন্ধ রাখার। তাই কার্যনির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা থাকলেও কমিটির প্রায় অর্ধেক সদস্যের অনুপস্থিত থাকায় তাও গেছে ঝুলে। তবে ক্যাম্প আবার কবে শুরু হবে? কিংবা ক্যাম্প বর্জনকারী খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ, দলবদল ও প্রিমিয়ার লিগসহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত নেয়া হবে গভর্নিং বডির সভায়।