১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা নগরীর অস্বচ্ছ পরিবেশ

  • ড. এএইচএম জেহাদুল করিম

২০১৪ সালে ঐবধষঃয ধহফ ঝধহরঃধঃরড়হ জধহশরহম সংস্থা তাদের ছঁধষরঃু ড়ভ খরারহম: ডড়ৎষফ ডরফব ঈরঃু জধহশরহম-এর ভিত্তিতে ঢাকা শহরকে বিশ্বের শীর্ষ পঁচিশটি নোংরা শহরের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান প্রদান করেছে। এই ক্ষেত্রে অনেক দিন থেকেই প্রথম স্থানটি অধিকার করে আছে আজারবাইজানের রাজধানী বাকু। বায়ু দূষণ ও ঐবধষঃয ধহফ ঝধহরঃধঃরড়হ ওহফবী ঢাকাকে ২৯.৫ স্কোরে উন্নীত করে, বাকুকে ২৭.৫ মান প্রদান করেছে। রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে আজারবাইজানের রাজধানী শহর বাকু প্রথম স্থানটি পেয়েছে এবং ঢাকা শহর বাকুর চাইতে একটু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে কদর্যপূর্ণ প্রথম স্থানটি অধিকার করতে হয়নি তাকে। ঢাকার বাতাসে সীসার পরিমাণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান সময়ে যে কিছুটা কমেছে এ ব্যাপারে কোন সন্দেই নেই। এর মূল কারণ সম্ভবত সাম্প্রতিককালের ধোয়াযুক্ত পুরনো মোটরযানগুলোর ওপর সরকারী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। এই পুরনো ধূয়াযুক্ত গাড়িগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার কারণেই বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে পরিবেশের যৎকিঞ্চিত উন্নতি ঘটেছে। তবে বায়ু দূষণ ছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ প্রাপ্তি এবং সেইসঙ্গে হসপিটাল ও চিকিৎসার সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ও এই র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের নাগরিক সুবিধার কথা চিন্তা করলে এবং পূর্বোল্লিখিত নির্দেশকগুলোকে এই নির্ধারকের বিবেচনায় আনলে এটি সহজেই ধারণা করা যায় যে, আমরা আধুনিক ঢাকাকে নিয়ে যতই গর্ব করি না কেন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের বিবেচনায় এটি একটি নিকৃষ্টতম নোংরা শহর।

বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের চাইতে ঢাকা শহরে নগরজীবনে যে প্রচ- একটা অনিয়ম রয়েছে সেটা কিছুতেই অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রথমেই যদি আমরা ঢাকা শহরের ট্রাফিক নিয়মের কথা বলি তাহলে বলতে হবে যে, এখানে রাস্তা পারাপারের জন্য কোনই নিয়ম-কানুন নেই; শহরের অভ্যন্তরে গাড়ি চালানোর জন্য কোন স্পিড লিমিটও এখানে নেই। নিয়ম ভেঙ্গে কোন্ গাড়ি কার আগে চলে যাবে তার জন্য একটা প্রতিযোগিতা এখানে রয়েছে। ঢাকা শহরে একজন স্মার্ট ড্রাইভার হবেন তিনিই যিনি অতি সহজে সবাইকে ডিঙ্গিয়ে প্রচ- যানজটের মধ্যেও অত্যন্ত সুচতুরভাবে তার গাড়িটিকে কাটিয়ে নিয়ে গন্তব্যে চলে যেতে পারবেন। নিয়মনীতিহীন ও এলোমেলো অবস্থায় যত্রতত্র বাস-ভ্যান থামিয়ে দেয়া, রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে অন্যের অসুবিধা সৃষ্টি করে যাত্রী ওঠানামা করানো, স্টপেজ ছাড়াই হঠাৎ করে একটি পরিবহন থামিয়ে দেয়া ইত্যাদি ঢাকা শহরের একটা নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাফিক আইনের ন্যূনতম তোয়াক্কা না করে সিটি পরিবহনগুলোর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে যে কোন বিদেশীই হঠাৎ করে আমাদের ঢাকাকে দেখে সাময়িকভাবে একটু হতচকিত হয়ে যেতে পারেন। মালিক সমিতিভুক্ত যানবাহনগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্টপেজ থাকলেও এদের মধ্যে নিয়ম-কানুন বা কোন সিরিয়াল নেই বললেই চলে। এমনকি গাড়ি দাঁড় করানোর সময় তারা তাদের বাঁয়ের লেনে চলাচলকারী কোন ব্যক্তি বা যানবাহনকে তোয়াক্কাই করে না। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে এবং পথচারীরা এর জন্য অনেকটা ভীত ও বিব্রতবোধ করেন। বাস, মিনিবাসগুলো তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করার ফলে চলমান রাস্তায় দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকে। এই অবস্থায় অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই পিতা-মাতারা তাঁদের স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের জন্য ঢাকার রাস্তাকে নিরাপদ মনে করেন না।

ঢাকা শহরের অন্য একটি খারাপ দিক হলো এই যে, এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নগরজীবন। এখানে শহর এলাকা পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেম নেই এবং এরই কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সম্পূর্ণ ঢাকা শহর একেবারে অচল হয়ে পড়ে। নগর বিশেষজ্ঞ এবং পানি বিজ্ঞানীদের মতে জনসংখ্যার চাপে রাজধানী ঢাকা নগরীর আশপাশে খাল-বিলগুলো সম্পূর্ণভাবে ভরাট হয়ে গেছে। একটি জরিপের সূত্রমতে জানা যায়, আমাদের ঢাকা শহরের এক সময়কার ৪৪টি খালের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৩০টি খাল হয় শুকিয়ে গেছে, নতুবা এগুলোকে ভরাট করে সম্পূর্ণভাবে বিলীন করে দেয়া হয়েছে। যে কোন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারই এই কথাটি স্বীকার করবেন যে, এসব ভরাটকৃত খাল-বিলই হতে পারত আমাদের আধুনিক ঢাকার পরিকল্পিত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, এসব খাল-বিলকে রক্ষণাবেক্ষণ দূরে থাক, বরং এগুলোকে অন্যায়ভাবে ভরাট করে পানির সহজ প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নগর গবেষকরা এমনও মনে করছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে এবং বিকল্প কোন ব্যবস্থা না নিলে দুই জেনারেশন পর ঢাকা শহরে মনুষ্য বাসযোগ্য কোন পরিবেশই থাকবে না।

ঢাকা শহরের অপরিচ্ছন্নতার আর একটি বিশেষ দিক হলো আমাদের নাগরিক সমাজের লিটারিং সম্পর্কিত অজ্ঞতা। যত্রতত্র ময়লা ও বর্জ্য নিষ্কাশন, যেখানে-সেখানে উন্মুক্তভাবে স্পিটিং করা এবং স্যানিটেশন সম্পর্কে আমাদের সম্পূর্ণ উদাসীনতা মূলত জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলছে। সিটি কর্পোরেশনের অতি প্রাচীনতম লৌহনির্মিত বর্জ্য-ফিলগুলো প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন নয় এবং সম্ভবত সে কারণেই মানুষ এগুলোকে ঠিকভাবে ব্যবহার করে না এবং এগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বাধ্যবাধকতাও নেই। অনেকটা সে কারণেই গার্বেজ ফিলগুলোর মধ্যে ময়লা না ফেলে অনেকেই সেগুলোর বাইরে উন্মুক্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বা দূর থেকে ছুড়ে ফেলে দেয় এবং সে কারণেই পরিবেশ হয় বিনষ্ট এবং দুর্গন্ধযুক্ত। এই ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন যে, সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে ংড়পরধষ সড়নরষরুধঃরড়হ ঢ়ৎড়মৎধসং-এর মাধ্যমে জনগণের সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির এই ধরনের কৌশলগুলো প্রকৃত অর্থে সর্বদাই পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, সিঙ্গাপুরে লিটারিংয়ের জন্য একজন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে পঞ্চাশ ডলার জরিমানা করা হয় এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণেই আমরা নিজেরাও সেই দেশে লিটারিং সম্পর্কে সচেতন থাকি ও যত্রতত্র একটি ছেঁড়া কাগজও ফেলতে সাহস পাই না। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসু শহরের একটি সরকারী আবাসিক এলাকার জন্য প্রস্তাবিত খসড়া আইনে বলা হয়েছে যে, থুতু ফেলা, ফুল ও সবজি চাষের জন্য গ্রিনহাউস নির্মাণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং বাড়ির কার্নিশে কাপড় শুকানোর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। এই বিধানে শাস্তিপ্রাপ্ত একজন অধিবাসীকে আবাসিক এলাকা থেকে বের করে দেয়া হবে। বাংলাদেশেও এই ধরনের কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা বাঞ্ছনীয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামের নবনিযুক্ত মেয়র আ জ ম নাছির মোদি মডেল অনুসরণ করে ঈষবধহ ঈযরঃঃধমড়হম কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন, যা নিঃসন্দেহে একটি প্রারম্ভিক সূচনা। তার প্রচেষ্টা সফল হলে চট্টগ্রাম অচিরেই একটি উন্নত পোর্ট-সিটি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।

ওপরের আলোচনার প্রেক্ষাপটে আমি তাই ঢাকার ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিবেশকে স্বচ্ছ রাখবার জন্য কিছু সুপারিশ প্রদান করছি। (১) প্রথমেই ঢাকার ভৌগোলিক পরিবেশের কথা বিবেচনাপূর্বক সম্ভব হলে ঢাকার হারানো কিছু খাল-বিলকে পুনরুদ্ধার করে তাতে চলমান পানি প্রবাহ, ড্রেনেজ সিস্টেম ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাকে গতিময় করা যেতে পারে। ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ সিস্টেমকে কার্যকরী করার জন্য অবিলম্বে বুড়িগঙ্গা, বালু ও তুরাগ নদীতে ড্রেজিং বা অন্য কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পানির প্রবাহ চলমান করতে হবে। এসব নদীতে বর্জ্য নিষ্কাশন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে এগুলোকে সচল রাখতে হবে এবং এতে করে শহরের পানি প্রবাহের ধারাটি নদীগুলোর মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে। অন্য অনেক বিষয়ের মতো এই বিষয়েও, প্রয়োজনে দেশী ও বিদেশী সংস্থার জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা নেয়া যায়। (২) নোংরা, আবর্জনা যেন যেখানে-সেখানে ফেলা না হয় সেজন্য আইন প্রণয়ন করা বাঞ্ছনীয় এবং সেই আইনের ব্যত্যয়ে তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। লিটারিং ও যত্রতত্র থুতু ফেলার জন্য আর্থিক জরিমানার বিধান থাকা প্রয়োজন। উক্ত এলাকার অধিবাসীদের প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি, বাসস্থান, অফিস, দোকানপাটের সামনে ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। (৩) আধুনিক নগর হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলবার জন্য এবং অত্যন্ত ছিমছাম ও গোছানো শহর হিসেবে এর উন্নয়ন করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন নাগরিকদের নিরাপদ রাস্তাঘাট ও ফুটপাথ। নিরাপদ রাস্তা বলতে আমরা সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টির দিকেও দৃষ্টি দিতে বলছি, যেখানে একজন পথচারী যে কোন সময় রাস্তায় নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে। সেইসঙ্গে ফুটপাথ হতে হবে দোকানপাট ও যানবাহনমুক্ত এবং যত্রতত্র ফুটপাথে সহজ চলাচল বন্ধ করে যানবাহন পার্কিং সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। কোন হকার-ব্যবসা রাস্তার পাশে থাকা বাঞ্ছনীয় নয়; বরং হকারদের জন্য ফুটপাথের পরিবর্তে অন্য কোথাও আলাদা স্থানে ব্যবসার জন্য নির্ধারিত স্থান করে দিতে হবে। এই পরিকল্পনায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো তাদের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করবে এবং সেগুলোকে বাস্তবে কার্যকর করবে। (৪) রাজধানী ঢাকার অভিজাত বিপণি বিতানগুলোর মতো পথচারীদের রাস্তা পারাপারে আকৃষ্ট করার জন্য রাজধানী শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থানে ‘ফুট ওভারব্রিজ’গুলোতে ‘বিদ্যুতচালিত চলন্ত সিঁড়ি বা এস্কেলেটর’ স্থাপন করা বাঞ্ছনীয় এবং এতে করে পথচারীরা ওভারব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পার হতে বেশি আগ্রহী হবে। রাস্তাঘাটগুলোতে জেব্রা-ক্রসিংয়ের মাধ্যমে পথচারীদের রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং এই বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশকে বন্ধু হিসেবে পথচারীদের সাহায্য করতে হবে। (৫) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য ঢাকার স্থাপত্য নিদর্শনগুলোকে ঐতিহ্যিক কাঠামোর মধ্যে রেখেই রেনোভেট বা সংস্কার করতে হবে, যাতে করে বিদেশী ট্যুরিস্টরা এগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হন। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণে ইতিহাসবিদ, নৃবিজ্ঞানী এবং প্রতœতাত্ত্বিকদের সহায়তা নেয়া যায় এবং সেইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার অবদানে ঢাকার কৃতিত্বকে তুলে ধরার জন্য ঐতিহাসিক, প্রতœতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে একটি যড়ষরংঃরপ সড়ফবষ-এর মাধ্যমে শহরের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা যায়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা এবং ঢাকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। তবে, ঢাকা উন্নয়নের এই ‘কল্পিত মডেলকে’ কার্যকরী করার জন্য সুচারুভাবে আর্থিক বাজেট প্রণয়ন ও ব্যয় করতে হবে। নগর উন্নয়নের জন্য যে কোন আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, তাদের কাজের মধ্যে সার্বিক স্বচ্ছতা ও আর্থিক ঃৎধহংঢ়ধৎবহপু হবে আমাদের কল্পিত উন্নয়ন মডেলের প্রধান শর্ত।

পরিশেষে, এটি মনে রাখা প্রয়োজন যে, ঢাকা চার শ’ বছরের এক ঐতিহ্যবাহী নগরী। হিন্দু-মুসলিম-খ্রীস্টান-বৌদ্ধ সকল শ্রেণীভুক্ত রাজন্যবর্গ ও প্রজা সাধারণের সহযোগিতায় এটি ঐতিহ্যিকভাবেই একটি ঐতিহাসিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠেছে। আজ থেকে চার শ’ বছর আগে ঢাকার মুসলিম শাসনামলের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থাপত্য আমাদের ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে এর কীর্তি বহন করে আসছে। এই ঐতিহ্যকে রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঢাকাকে একটি ‘মডেল প্রোগ্রেসিভ সিটি’ হিসেবে উন্নীত করতে হলে এর সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যাগুলো দূর করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই ঢাকা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্যকে ধারণ করছে। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রারম্ভিক যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ঢাকা নগরীতেই, যা পরবর্তীতে সমগ্র দেশের মানুষকে স্বাধীনতার আন্দোলনে উজ্জীবিত করেছিল। ঢাকার নবনির্বাচিত মেয়রদের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও তাই একটু ভিন্নতর।

লেখক : মালয়েশিয়ার একটি আন্তর্জাতিক বিশ^বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ও

নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক