১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অনভিপ্রেত

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে শুধু দুঃখজনক বললে কম বলা হবে। একটা দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে এমনটাই স্বাভাবিক। কেননা যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নাগরিকের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব তাদের হাতেই যদি একটি অন্যায়ের প্রতিবাদমুখর মানুষ নিহত ও আহত হন তবে বুঝতে হবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যরা নিজ দায়িত্ব-কর্তব্য সম্বন্ধে কতটা সজাগ ছিলেন তা প্রশ্নাতীত নয়। অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আমরা সমবেদনা জানাই। আহতদের সম্পূর্ণ সরকারী সুবিধায় চিকিৎসাসেবা প্রদানের জানাই আহ্বান। আহতদের মধ্যে যারা আর্থিকভাবে একেবারেই অসচ্ছল তাদের সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এসে মানবিকতার জয়পতাকা উর্ধে তুলে ধরবেন বলে আমরা আশা রাখি।

মা ও সন্তানকে একই সঙ্গে নির্যাতন করা ও পুত্রের সামনে মাকে প্রায় বিবস্ত্র করে অপমান করার ঘটনায় যে কোন মানুষ সংক্ষুব্ধ হবেন এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ ঘটনায় কালিহাতীর কয়েকটি গ্রামের অধিবাসী প্রতিবাদী হয়ে মিছিল করেছে। ক্ষুব্ধ হওয়ার মতো কোন ঘটনায় শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। এটা তার সাংবিধানিক অধিকার বলেই স্বীকৃত। প্রতিবাদী গ্রামবাসীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ববোধ থেকে এটা করেছে তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। পরিস্থিতি যদি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে অন্তত ফাঁকা গুলি ছোড়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নিহতদের শরীরে বিদ্ধ গুলির অবস্থানই বলে দিচ্ছে তাদের উদ্দেশ করেই গুলি ছোড়া হয়েছে। নিহতদের মাথায় ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম সাক্ষ্য দিচ্ছে। কিছু আহতের শরীরে গুলির অবস্থানও প্রায় অনুরূপ। পরিস্থিতি একেবারে চরম পর্যায়ে গেলে রাবার বুলেট ছোড়া যেত। স্থানীয় পুলিশ সে বিধান মানেননি। তারা পরিচয় দিতে পারেননি সহনশীলতার। মোদ্দাকথা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মানুষ হত্যার কোন প্রয়োজন ছিল না। পুলিশ এ হত্যাকা- না ঘটিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারতেন। সার্বিক পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে উদ্ভূত ঘটনার দায় পুলিশ প্রশাসন এড়াতে পারে না।

পুলিশ সদস্যরা কি নিজেদের ইচ্ছেমতো গুলি ছুড়ে প্রতিবাদী চারজনকে হত্যা ও পঁচিশজনের মতো আহত করলেন? যদিও সব আহত গুলিতেই ঘটেছে তা নয়। এ ব্যাপারটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

ঘটনার সঙ্গে জড়িতসহ সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এটা যেন অন্যান্য ঘটনার মতো হিমাগারে পাঠানো না হয়। তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি দ্রুত উদ্ঘাটন করে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এমনটাই সবার প্রত্যাশা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষজনিত মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৯০০ গ্রামবাসীকে। এ মামলায় যেন কোন নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা না হয়, পুলিশের আচরণে পুনরায় অনাকাক্সিক্ষত অনুরূপ ঘটনার জন্ম না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরী। পুলিশের কাছ থেকে আরও ধৈর্য ও সহনশীলতা কাম্য। মনে রাখা দরকার, মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কার্যক্রমের সঙ্গে সরকারেরও ভাবমূর্তি অনেকাংশে জড়িয়ে থাকে।