২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডেঙ্গুর জন্য সতর্কতা

একটা মশার কামড়ে বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষের মৃত্যু হবে- এটা মেনে নেয়া যায় না। তবু ফি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর সংবাদ খবরের কাগজে পড়তে হয়। এ ভাইরাস জ্বরটি মারাত্মক এমনটা বলবেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বেশিরভাগই আক্রান্ত হন সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরে। তবে হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা তাই বর্ষা মৌসুমে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জ্বর ও গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর বিষয়টি মাথায় রাখতে বলেছেন। মনে রাখতে হবে, ভুল চিকিৎসায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না করার ফলে ডেঙ্গুজ্বরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। সে কারণেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরী।

রাজধানীতে সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগে গড়ে আক্রান্ত হচ্ছে ২৪ জন। এ মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে মারা গেছেন চারজন। ডেঙ্গু রোগের কারণ এডিস মশা। মশাটি পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। তাই কোথাও পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেয়া উচিত নয়। যেহেতু এটি একটি মশাবাহিত রোগ, সেহেতু মশার বংশবৃদ্ধি রোধ, নিধন ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘরবাড়ির চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের খোসা জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে। ঘরের আঙিনা, ফুলের টব, বারান্দা, বাথরুম, ফ্রিজের নিচে ও এসির নিচে জমানো পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে। দিনের বেলায় এডিস মশা কামড়ায় বলে দিনের বেলাতেও মশারির নিচে ঘুমানো উচিত।

দেশে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় সাফল্য অর্জনকারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা খুব বেশি নেই। যারা আছেন তাদের অধীনে প্রতিটি জেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা অসম্ভব হবে না। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নয়। ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার বেলায় তাদের পিছিয়ে যেতে হয় শুধু অর্থের অভাবে। ডেঙ্গু হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য রক্তের যে পরীক্ষা করতে হয় তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই পরীক্ষার খরচ কী করে কমিয়ে আনা সম্ভব সে বিষয়ে ভাবতে হবে স্বাস্থ্য গবেষকদের।

যে কোন রোগের বেলাতেই রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী। কেন ডেঙ্গু হয়, কিভাবে হয়, আর ডেঙ্গু হয়েছে কিনা লক্ষণ দেখে কীভাবে মোটামুটি ধারণা লাভ করা যায় সেসব তথ্য জানা চাই। দেশে বহু মানুষ আছেন যারা সামান্য জ্বরে বা মাথাব্যথায় একটি বিশেষ ওষুধ ব্যবহার করেন। সেটির নাম এসপিরিন। ডেঙ্গু রোগীর জন্য যে এই ওষুধটি হিতে ভীষণ বিপরীত, এমনকি তা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে এই তথ্যটি জানা থাকলেও অনেক ডেঙ্গু রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। আবার ডেঙ্গু হলে যেহেতু শরীরে তীব্র যন্ত্রণা হয়ে থাকে, তাই অনেকই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে মুখস্থ করা ব্যথানাশক ওষুধ ভলটারিন বা ক্লোফেনাক সেবন করেন। এটাও রোগীর মরণ ডেকে আনতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা চাই। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক চিকিৎসা নিলেই কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হওয়া সম্ভব।