১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকার দিনরাত

  • মারুফ রায়হান

ঈদ যে এসে পড়েছে তার আভাস পাওয়া গেছে বেশ ক’দিন আগে থেকেই। বিশেষ করে গত শুক্রবারের কথা বলতে পারি। সকালে অফিসে যাওয়ার সময় রাস্তায় দেখলাম গরুবহনকারী ট্রাকের সারি। সাধারণত অন্য সময়ে শুক্রবার জুমার নামাজের দিন (এদিন ছুটির দিনও বটে) ঢাকায় অধিক পরিমাণে গরু জবাই হয়। এদিন গরুর মাংস সুলভ থাকে ঢাকার প্রধান সব বাজারেই। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরে থেকে গরু চলে আসে। রাত বারোটার দিকে ঘরে ফিরলে নগরীর উত্তর দিক থেকে প্রবেশ করা গরুর ট্রাক নজরে আসে। কিন্তু এবার দেখলাম শুক্রবার সকালেই গরুবোঝাই ট্রাক। এমনকি শুক্রবার মধ্যরাতে ঘরে ফেরার সময়েও একই দৃশ্য দেখেছি। তার মানে দিনভর গরুর ট্রাক ঢুকেছে ঢাকায়। নৌকোর যেমন ছই থাকে, এসব ট্রাকের তেমন বাঁশনির্মিত ছই-সদৃশ কাঠামো থাকে। পার্থক্য হলো পাল বা বাদাম নেই, আছে খড়-বিচালির বস্তা। এমনকি চালকের মাথার ওপর যে ছাদ, সেখানেও গরুর আহার। বলা যায় সপ্তাহ খানেকের রসদ। এক ঝলক গরুগুলোর দিকে তাকালাম। বেশ হৃষ্টপুষ্ট এবং দেখতে ভাল গরুই বেশি নজরে এলো। হঠাৎ একটা অনুভূতির থাপ্পড় খেলাম। এই যে এত গরু আসছে ঢাকায়, তারা আর ফিরতে পারবে না। এক অর্থে আমাদের ঢাকা মহানগর হলো গরুগুলোর অন্তিম গন্তব্য। এই যে লাখো গরু আসছে তা রাজধানীর কোটি মানুষের উদরে যাবে কিছুকালের ভেতর! গরুর সঙ্গে মানুষের, মানে যিনি নিজে গরু প্রতিপালন করেছেন, উভয়ের ভেতর একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে, একথা ক’জন ভাবে? কোরবানির হাটে বিকিয়ে যাওয়া মানে সেই সম্পর্কের চিরবিচ্ছেদ! ‘মহেশ’ গল্পের কথাও মনে পড়ে গেল। বুক চিরে বেরিয়ে এলো একটা দীর্ঘশ্বাস।

কোরবানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

রমজান আর কোরবানি- দুই ঈদের ঢাকার চিত্র দু’রকম। রোজার ঈদের আগে রাজধানীর শপিংমলগুলো রীতিমতো মৌচাক হয়ে ওঠে। মৌচাক ঘিরে যেমন থাকে মধুসন্ধানী ও মধুসঞ্চয়ী মৌমাছি, তেমনি শপিংমল ও শপিং সেন্টারগুলো ঘিরে থাকে ঈদের পোশাক সন্ধানী ও সংগ্রহকারীদের ভিড়। যদি বলি ঈদ মৌসুমে গোটা রাজধানীই হয়ে ওঠে এক ধরনের মৌচাক- তাতে ভিড় করে আসে মধুসন্ধানী মানুষ, তাহলে খুব একটা ভুল বলা হবে না। ঈদ যত কাছে চলে আসে ততই ভিড় বাড়তে থাকে ঢাকায়। সাধারণত দু’শ্রেণীর মানুষ এ সময় বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে ভিড় করেন। এমনিতেই ঢাকা হলো লোকে ঠাসা, রাস্তাগুলো অতিরিক্ত গাড়িতে ঠাসা। তার ওপর বিশেষ কোন উপলক্ষে ঢাকায় নতুন আগমনকারী মানুষের ভিড়ে ঢাকা আরও ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। আর কোরবানি ঈদের আগে আগে গোটা ঢাকাই যেন হয়ে ওঠে ‘বিরাট গরু-ছাগলের হাট’, অন্তত গত বছর পর্যন্ত তেমনই অভিজ্ঞতা রাজধানীবাসীর। এবার কি তার ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে? কিছুটা তো বটেই। আমি যে এলাকায় থাকি (উত্তরা) সেখানে ঈদের মাত্র তিন দিন আগে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছুটি হচ্ছে। যেহেতু স্কুলে যাওয়ার পথে গরুর হাট বসেনি। এটাকে সুলক্ষণই বলব।

আরেকটা শুভ উদ্যোগ নিয়েছে ডিসিসি। যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাই না করে রাজধানীর নির্দিষ্ট ৫৩৫ পয়েন্টে বা এলাকায় কোরবানি করার অনুরোধ জানিয়েছে। এতে স্বাস্থ্যগত উপকার রয়েছে। প্রতিবছর কোরবানির পশু জবাইয়ের পর রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অলিগলির নালানর্দমা ভরাট হয়ে বড় ধরনের পরিবেশগত সমস্যা দেখা দেয়। জবাইয়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করা হয়। সিটি করপোরেশন কয়েক দিন ধরে ধোয়ামোছা এবং দুর্গন্ধনাশক ব্যবহার করেও সার্বিক স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে না। বহুতল ভবনের গ্যারাজে এবং সামনের রাস্তায় পালাক্রমে গরু-ছাগল জবাইয়ের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বড় ধরনের প্রচারণা দরকার। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেল, নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই ও নির্ধারিত স্থানে কোরবানির বর্জ্য ফেলার প্রচারণার জন্য ৫৫ হাজার লিফলেট ছাপা হয়েছে। ঈদের আগের দুদিন প্রতি ওয়ার্ডে মাইকিংও করা হবে। এ ছাড়া মসজিদের ইমামদের অনুরোধ করা হবে, নামাজের পর যাতে এসব বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করান। মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করার কাজটি করতেই হবে। যদিও প্রথম প্রথম একটু ঝামেলা হবে। ধরা যাক, কোন বাড়ির বাসিন্দা গরু কোরবানি দেবেন বলে ঠিক করলেন, তার এলাকায় কোরবানির যে স্থানটি নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি এক কিলোমিটার কিংবা তার চেয়ে বেশি দূরত্বে। গরুকে সেখানে নিতে হবে এবং কোরবানির পর কাটাকুটি ভাগবাটোয়ারা শেষে মাংস ঘরে নিয়ে ফিরতে হবে। এটাকে এখন বেশ ঝক্কিপূর্ণ মনে হচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে করতে পারলে এ থেকে উপকারই পাওয়া যাবে। বহির্বিশ্বে বসবাসকারী মুসলিম বাঙালীরা কি যত্রতত্র গরু-ছাগল জবাইয়ের সুযোগ পান? কোরবানির সময় অনেকের পক্ষে গরু দেখারও সুযোগ থাকে না। সেসব দেশে ব্যবস্থাপক টিম থাকে। আশা করতে পারি একদিন আমাদের দেশেও, অন্তত ঢাকা শহরে কোরবানি দেয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্যসম্মত হবে। গোটা রাজধানীতে গরু জবাই করা বন্ধ হবে, অধিকাংশ রাস্তা গরুর রক্তে লাল হয়ে উঠবে না। শিশুদের মনের ওপর এসব দৃশ্যের যে কী চাপ পড়ে, সে প্রসঙ্গে আর গেলাম না।

দিয়াবাড়ি ও শারদ সৌন্দর্য

আমাদের ক্ষেত্রে এমনটা খুব স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। বহমান যে আনন্দধারার মধ্যে আমরা প্রশ্বাস গ্রহণ করি তার ঐশ্বর্য ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারি না। যখন তার অভাব ঘটে তখনই কেবল হাঁসফাঁস করে উঠি। বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে এই যে আমরা ছ-ছ’টি ঋতুর পৃথক সৌন্দর্য আস্বাদন এবং তার মহিমা উপভোগের সৌভাগ্য পৈতৃক সূত্রের মতো দৈশিক সূত্রে পেয়ে গেছিÑ তার মূল্য কি যথাযথভাবে অনুভব করে থাকি? আমার এ কথায় অনেকেই হয়ত হা হা করে উঠে বলবেন, গরম ছাড়া আর কোন ঋতুই তো গায়ে এসে লাগে না। হ্যাঁ গ্রীষ্মের প্রচ- প্রভাব বিদ্যমান এই গাঙ্গেয় অববাহিকায়, তাই বলে শীতও কিছু কম যায় না; তার কনকনে থাবা নিয়ে উপস্থিত হয় আমাদের দরোজায়। তা সে যত স্বল্পকালীনই হোক না কেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হওয়া সত্ত্বেও আমরা পৃথিবীর সেই গুটিকতক ভাগ্যবান দেশগুলোর অন্যতম যার নাগরিকবৃন্দ শরৎ ও হেমন্তের মতো আশ্চর্য দুটি মৌসুমের বিচিত্র দুর্লভ রসে সিক্ত হয়ে থাকে। বর্ষার কথাই বা কোন্ অকৃতজ্ঞ করে অস্বীকার! বরষা, আহা বাংলার বরষা। তাতে মন ভিজিয়ে উদাসী বাঙালী একেবারে লবেজান। যেমন ছিন্নভিন্ন অপার ফাল্গুনে, প্রতিটি নববসন্তে।

যাক, শিবের গীত রেখে শরতের সাথী হওয়া যাক। বলেছি দেশের ভেতরে থেকে দেশকে অনেক সময় ঠিকঠিক মূল্য দিই না। এই ক্ষুদ্র জীবনে একবারই কেবল একটি শরতে আমি দেশ থেকে দূরে ছিলাম। শীতার্ত সেই দূরদেশে একেবারে প্রথমবারের বিরহীর মতো মর্মে অনুভব করি বাংলার শরৎকে, আশ্বিনে আসীন নিঃশব্দ ও সশব্দ রাজ্যপাটকে। মানে তার অভাববোধকে। রীতিমতো হাহাকার করেছে মন শরতের সঙ্গে প্রেম করতে না পেরে। শরতের রথে ভাবনাগুচ্ছকে চড়িয়ে শুভ্রবসনা রজনীগন্ধার মতো একরাশ তন্বী মেঘের সঙ্গী হওয়ার সামান্যতম সুযোগও মেলেনি সেই শীতজর্জর বিলেতে। ওখানকার আনপ্রেডিক্টেবল আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা হু হু করে উঠত। কোথায় রোদে ধোয়া নীলাভ নীলিমা! কোথায় মৃদুমন্দ ঠা-া ঠা-া বাতাসের মৃদু ছোঁয়া। সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশের মাঘই এসে গায়ের ওপর হামলে পড়েছিল সেই সেপ্টেম্বরের লন্ডনে। ঢাকায় পরের বছরের শরতকে তাই একটুও কাছছাড়া করিনি। যাকে বলে সুদে আসলে উসুল করে নেয়া আরকি।

শরৎ নিয়ে আপনার পাশের জনকেই কিছু বলতে বলুন। অবধারিতভাবে তিনি বলবেন, কাশবন আর শেফালির কথা, পরিষ্কার আকাশে ছোট ছোট ভেলার মতো শাদা মেঘেদের ভেসে বেড়ানোর কথা, আর শিশির-দূর্বার কথা। হাঁসফাঁস গরম থেকে বাঁচার কথাটিও উচ্চারণ করতে ভুলবেন না। এসবই সত্য, শরতের ট্রেডমার্ক। কিন্তু একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আপনার জীবনে, আরও স্পষ্ট করে বলি, আপনার মন ও মননে শরৎ কোন্ আশ্চর্য জানালা খুলে দেয়! সেই জানালা দিয়ে মনের চোখে তাকালে আপনি হয়ত পেয়ে যান এক নতুন ভুবনডাঙাকে, নতুন বীজধানের মতো নতুন দিনের স্বপ্নকে। ভেবে দেখুন তো আমি অসত্য বলেছি কিনা? হ্যাঁ, এখানেই শরতের স্বাতন্ত্র্য।

মহানগরী ঢাকায় গ্রামীণ শরতের আমেজ ও আবেশ চান? চলে আসুন উত্তরার দিয়াবাড়ি। গত সপ্তাহে সেখানে গিয়ে বুঝেছি শহরের খুব গভীরে থাকে পল্লী, যেখানে শরতের চুম্বন অনুভব করা যায় পুরোদমে। শারদসন্ধ্যায় দিয়াবাড়ির কাশবনে হারিয়ে গিয়ে হঠাৎ যান্ত্রিক শব্দে চমকে উঠি, আকাশবন পেরিয়ে উড়ে আসছে বিমান। কয়েক মিনিটের মধ্যে সে অবতরণ করবে রাজধানীর মাটিতে। দিয়াবাড়ির অবারিত অঙ্গনের সৌন্দর্যে নিমজ্জিত হয়ে ভেসে চলেছিলাম মেঘে, আর আকাশের ওপারে আকাশ থেকে মেঘের পরে মেঘ পেরিয়ে দেশের মানুষকে তার দেশের মাটিতে নিয়ে আসার আগমনী আওয়াজে আরেকবার নেমে এলাম কাশফুলের ঠিক পাশটিতে। সত্যি বলছি, এই শরতে একবার দিয়াবাড়ি বেড়িয়ে আসুন, আমার মতোই দিয়াবাড়ির নাম বদলে রাখবেন- ‘শরত-বসত’।

বর্ষা কি ফিরে এলো?

শরতের অর্ধেকটা ফুরিয়ে গেছে। তবু বৃষ্টির দাপট ক’দিন লক্ষ্য করা গেল গত সপ্তাহে। বলা ভাল, হাড়ে-মাংসেই টের পাওয়া গেল। শনিবার ছিল একটু আধটু, রবিবার চলল পুরোদমে। তুমুল বৃষ্টি। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগবে অনেকেরই- চলে গিয়ে বর্ষা কি আবার নতুন রূপে ফিরে এলো। এ যে রীতমতো শ্রাবণধারা! ঢাকায় বৃষ্টি মানেই দুর্ভোগ। জলজট আর যানজটে নাকাল হওয়া। রবিবার জরুরী প্রয়োজনে গুলশান যেতে হয়েছিল। মহাখালীর জ্যামে পুরো এক ঘণ্টা নষ্ট হলো। মুষলধারে বৃষ্টি না হয়ে যদি ছিটেফোঁটা বৃষ্টি থাকত তাহলে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাই দিতাম। গুলশানের রাস্তায়ও প্রচ- যানজট। প্রধান সড়কের এক পাশে পানি জমে গেছে। দেশের অন্যতম অভিজাত এলাকা সামান্য বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত। পাশের সড়ক, মানে অলিগলিতে পানি থই থই। পথচারীরা আটকা পড়েছেন। কে জুতো মোজা খুলে পথ পেরুতে চায়। অগত্যা রিক্সাঅলাদের পোয়াবারো। পানি পারাপার চলছে। অনেকের মনে ভয়, ১ সেপ্টেম্বরের মতো মহাজলাবদ্ধতা হবে না তো? ভাগ্যিশ তা হয়নি, যদিও নগরীর বহু জায়গাতেই জমে গেল হাঁটুপানি।

বৃষ্টির জন্য প্রত্যাশা ছিল রাজধানীবাসীর। কারণ কয়েকটা দিন তীব্র গরম পড়েছিল। মনে হচ্ছিল চৈত্র-বৈশাখ এই গরমের কাছে কিছু না। ভাদ্রের তালপাকা গরমও আশ্বিনের ঢাকার গরমের কাছে পরাজয় মানবে। তাই মানুষ চেয়েছিল বৃষ্টি আসুক। প্রাণটা জুড়িয়ে যাক। প্রাণ জুড়িয়েছে বটে, জানটা যে যাই যাই করছে বিচিত্র দুর্ভোগে!

উৎকট গন্ধ

এমনিতেই ঢাকা শহরে চলাচল করতে গেল রাস্তাঘাটে বিচিত্র দুর্গন্ধে মানুষের নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসতে চায়। ঈদের পরদিন থেকে ঢাকার কী হাল হবে ভাবতেই পারছি না। গরু বহনকারী ট্রাক থেকে ঘোলাটে তরল গড়িয়ে পড়ে মিশে যাচ্ছে বৃষ্টির পানিতে। বড় রাস্তার কথা বাদ দিতে পারি। ছোট রাস্তার ভেতরে দড়ি-বাঁধা দু-তিনটে ছাগল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবেন বেপারিদের। মুরগিঅলাদের মতো ফেরি হচ্ছে না, হাঁকডাকও নেই। তবু ছাগল ঘিরে জমে ওঠে ভিড়। এমন একটা জায়গায় দু’দ- দাঁড়িয়েছিলাম। বেপারিদের আমি ক্রেতাই ভেবেছিলাম। জিজ্ঞেস করতে যাব, কত নিল? তার আগে আমাকেই উল্টো শুধোলেন লোকটি : স্যার কয়টা ছাগল লাগবে? যাহোক, দুর্গন্ধের কথায় ছিলাম। বিমানবন্দরে প্রবেশের মোড়টিতে মধ্যরাতেও যানজট থাকে সপ্তাহে সাতদিন। উত্তরামুখি মানুষ এখানে যানজটে আটকা পড়লে বাধ্য হন বাসের জানালা লাগিয়ে দিতে। কী তীব্র উৎকট গন্ধ। জায়গাটিকে উন্মুক্ত পাবলিক টয়লেট বিবেচনা করে দিনভর রাতভর ক্রিয়াদি চলে। এমন একটা ব্যাপার দেখার কেউ থাকবে না!

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

marufraihan71@gmail.com