২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএসের প্রতি মোহভঙ্গ

  • স্বপক্ষত্যাগী শত শত সদস্য আত্মগোপনে

ইসলামিক স্টেট (আইএস) থেকে একটি ক্ষুদ্র অথচ ক্রমবর্ধমান সংখ্যক স্বপক্ষত্যাগী চরমপন্থী গোষ্ঠীর ব্যাপারে তাদের মোহমুক্তির কথা বলতে গিয়ে প্রতিশোধ এবং কারাবন্দীর শিকার হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছেন। সাবেক ও বর্তমান চরমপন্থীদের খোঁজখবর রাখা একটি গবেষণা সংস্থা একথা জানায়। আইএস দল ছেড়ে যাওয়া লোকদের ধর্মত্যাগী হিসেবে গণ্য করে এবং ধারণা করা হয় যে, স্বপক্ষত্যাগ করা শত শত সদস্যের অধিকাংশই আত্মগোপনে চলে গেছে। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমসের।

তবে ৫৮ জন স্বপক্ষত্যাগী, যাদের ৯ জন পশ্চিম ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার, তারা গতবছর থেকে গোষ্ঠীভুক্ত থেকে তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার বিষয় প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন। সোমবার লন্ডনের কিংস কলেজের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি ফর র‌্যাডিকালাইজেশনের প্রকাশিত এক রিপোর্টে একথা বলা হয়।

রিপোর্ট অনুযায়ী স্বপক্ষত্যাগীদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরোধিতাকারী অন্যান্য সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতি আইএসের বৈরিতা এবং বেসামরিক নাগরিক ও জিম্মিদের নির্বিচার হত্যাকে সমর্থন করেন না।

অন্যরা আইএস অধিনায়কদের পক্ষপাতিত্ব এবং দুর্ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন কিংবা এটা দেখে হতাশ হয়েছিলেন যে, একজন জঙ্গীর জীবন তাদের ধারণার চেয়ে কম উত্তেজনাপূর্ণ ও আর্থিকভাবে লোভনীয়। তাদের মধ্যে দু’জন যখন দেখতে পান তাদের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নির্বাচিত করা হয়েছে তখন তারা গোষ্ঠী ত্যাগ করেন। গবেষকরা স্বপক্ষত্যাগীদের মুখ খোলার জন্য আরও বেশি করে উৎসাহ দিতে সরকারসমূহের প্রতি আহ্বান জানান। যাতে তাদের বয়ানকে সম্ভাব্য যোগদানকারীদের নিবৃত্ত করতে পারে। ৫৮ জন স্বপক্ষত্যাগীর মধ্যে ৭ জন নারী। তারা বিভিন্ন সময় নিউইয়র্ক টাইমসহ ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। ওই রিপোর্টে প্রসঙ্গ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরে তাদের সাক্ষ্য প্রমাণ সঙ্কলন করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, স্বপক্ষত্যাগীরা আইএসের জীবনধারা সম্পর্কে অনন্য সত্য উপলব্ধির কথা জানিয়েছে। তবে তাদের বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। স্বপক্ষত্যাগীদের অস্তিত্বটাই আইএসের দেখাতে চাওয়া ঐক্য ও দৃঢ়সঙ্কল্পের ভাবমূর্তিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। কেন্দ্রের পরিচালক এবং কিংস কলেজের সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক পিটার নিউম্যান বলেন, ইসলামিক স্টেটের কিছু ‘চাকচিক্য ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে’ এবং এটা কম প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। তাই বহু লোক আইএস থেকে বেরিয়ে আসতে বেশি করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে। ড. নিউম্যান আরও বলেন, অনেকে প্রসিকিউটর ও বিচারকদের কাছ থেকে অনুকূল আচরণ পাওয়ার প্রত্যাশায় কথা বলে থাকে। তবে, ‘আপনি যদি সরকারের অংশ হয়ে থাকেন তবে আপনি চাইবেন আরও কথা বের করে আনতে। অধিক গতিশীলতা আনতে এবং অন্যদের তা করার জন্য উৎসাহিত করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এটা করতে হয়। তিনি বলেন, দলত্যাগীদের সাক্ষ্য আইএসের আকর্ষণীয় রিক্রুটিং পদ্ধতিকে মোকাবেলা করার জন্য ব্যবহার করা যায়। তিনি বিভিন্ন সরকারের প্রতি বৈধ নিরুৎসাহিত করার বাধা দূর করার আহ্বান জানান যা স্বপক্ষত্যাগীদের প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নিবৃত্ত করে থাকে এবং কারাবন্দী না হয়ে বরং পুনর্বাসিত হওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহিত করে।

গত দু’বছরে প্রায় ২০ হাজার বিদেশী, যাদের প্রায় এক চতুর্থাংশ ইউরোপীয়, মধ্যপ্রাচ্যের জিহাদী গোষ্ঠীগুলোতে যোগ দিয়েছে। তাদের বেশিরভাগই আইএস গোষ্ঠীভুক্ত হয়েছে। ড. নিউম্যান বলেন, তাদের মধ্যে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ ইতোমধ্যে ইউরোপে ফিরে এসেছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের হিসেবে ৩ শতাধিক লোক প্রত্যাবর্তন করেছে। স্বপক্ষত্যাগীরা বলেছে, আইএসের অধীনে জীবনযাত্রা তাদের প্রতিশ্রুত কাল্পনিক স্বর্গরাজ্য থেকে বহুদূরে। ২৬ বছর বয়সী একজন সিরীয় যোদ্ধা গতবছর ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে বলেছে, কেউ না বললেই আইএস তাকে হত্যা করে। প্রত্যেককে অবশ্যই তাদের সঙ্গে থাকতে হবে। ওই দলত্যাগী বলে, তাকে তুরস্কে নিয়ে যাবার জন্য যে একজন পাচারকারীকে অর্থ দিয়েছে। তুরস্কে তাকে আইএসের চরদের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। চরেরা সীমান্ত বরাবর শিকারির মতো চুপিসারে ঘুরে বেড়ায়।