২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এসডিজি বাস্তবায়নে বড় বাধা দুর্নীতি

  • সেমিনারে বক্তাদের আভিমত

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দুর্নীতি বন্ধ না হলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সেই সঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে। এসব তাগিদ দিয়েছেন বিভিন্ন খাতে সংশ্লিষ্টরা। সোমবার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের পথ নির্দেশ : অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ এবং সরকারী নীতির সার্থক প্রয়োগ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এ তাগিদ দেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম। এ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হুমায়ুন খালিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমএম আকাশ, ড. সেলিম রায়হান, এনজিও ব্যক্তিত্ব এসএম রশীদ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. শামিউল হক, অতিরিক্ত সচিব কাউয়ুম, পোশাক শ্রমিকদের প্রতিনিধি শামীমা আক্তার প্রমুখ।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও এ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত সংলাপে ড. শামসুল আলম বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে সবার আগে। এটি হচ্ছে দারিদ্র্য সৃষ্টির অন্যতম কারণ। সহস্র্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার প্রয়োজন ছিল প্রতিবছর ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর এর বিপরীতে আমরা পেয়েছি মাত্র ১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উন্নয়ন সহযোগীরা প্রতিশ্রুতি না রাখলেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে গেছি। সার সুফলও মিলেছে। এখন সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ৭০ দশকের শিক্ষা দিয়ে চলবে না, এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা প্রয়োজন।

প্রফেসর এমএম আকাশ বলেন, রাজনৈতিক বিষয়টি আগে মাথায় রাখতে হবে। কেননা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা না গেলে এসডিজির অনেক লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না। বৈষম্য কমাতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক বরাদ্দ বাড়াতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষায় আমরা কেন অর্থ দিচ্ছি তাদের সিলেবাস পরিবর্তন না করে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। বিদ্যুত খাতে ইনডেমনিটি আইন দুর্নীতির পথ তৈরি করেছে।

ড. সেলিম রায়হান বলেন, ছয় শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ও পদ্মা সেতু তৈরির মতো সক্ষমতা এমনিতেই আকাশ থেকে আসেনি। এটি অর্জন করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে এখন যেটি প্রয়োজন সেটি হচ্ছে বেসরকারী বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন নতুন বিনিয়োগ আনতে পলিসি রিফর্ম, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এসএম রশিদ বলেন, বস্তিবাসীদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। গ্রামে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করে মানুষকে শহরে আসা ঠেকাতে হবে। দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। শামিমা আক্তার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, দুর্নীতি হওয়ার কারণে একটি শ্রেণী ধনী থেকে আরও ধনী হচ্ছে অপর দিকে অন্য একটি শ্রেণী গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে। ফলে সমাজে বৈষম্য চরম আকার ধারণ করছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দুর্নীতি দূর করে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, সমবায় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। মেইড ইন বাংলাদেশ পণ্যকে উৎসাহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে কর মওকুফসহ নানা সুবিধা দেয়া যেতে পারে।

কৃষিকে বাদ দিয়ে কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। কেননা শিল্প-কারখানা বেশি হলে মানুষ খাবে কি। আমাদের তো ভাত খেতে হবে। রুটি হয়ত পাওয়া যাবে কিন্তু ভাত আমরা কোথায় পাব। জলবায়ু তহবিলের অর্থ বেশি করে আনতে এ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেয়া হয়েছে।