২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সরকারী ট্রাস্ট পরিচালনায় আসছে সমন্বিত নতুন আইন

  • মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকারী খাতের ট্রাস্ট পরিচালনায় নতুন একটি সমন্বিত আইন করতে যাচ্ছে সরকার। এটি পাস হলে ট্রাস্ট গঠনের জন্য আলাদা আইন করার প্রয়োজন আর থাকবে না। ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইন, ২০১৫ এর খসড়া অনুমোদনের সময় মন্ত্রিসভা এ নির্দেশনা দেয়। এ লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের “চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ” পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতে (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) বাংলাদেশের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভায় দুইটি পৃথক অভিনন্দন প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের “চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ” পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিসি আদালতে (পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন-পিসিএ) বাংলাদেশের দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ায় মন্ত্রিসভায় দুইটি পৃথক অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইঞা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের “চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ” পুরস্কারে ভূষিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দুজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হেগশহরে অবস্থিত “পারমানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন” এ বিচারপতি নিযুক্ত হওয়ায় তাদের অভিনন্দন জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ দেশে যে ট্রাস্ট আইন আছে তা বেসরকারী ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য। সরকারী খাতে ট্রাস্ট গঠনের জন্য কোন আমব্রেলা আইন না থাকায় প্রত্যেক ট্রাস্টের জন্য আলাদা আইন করতে হয়। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারী খাতে ট্রাস্ট গঠনের জন্য একটি আইন করা হবে। যেন ভবিষ্যতে ট্রাস্ট গঠনের জন্য আলাদা আইন করার প্রয়োজন না হয়।

মোশাররাফ হোসাইন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগকে মৌখিকভাবে নতুন আইন প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারা এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া তৈরি করেছে, সোমবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত হিসেবে বিষয়টি চূড়ান্ত হলো। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গবেষণা করার জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ দেয়। এ কাজটিকে টেকসই করার জন্য মূলত এ আইনটি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানী ও তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে যারা গবেষণা করেন তাদের ফেলোশিপ দেয়ায় হচ্ছে ট্রাস্টের মূল উদ্দেশে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, ‘মাস্টার্স, পিএইচডি এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষকদের এই আইনের মাধ্যমে সহায়তা করা ও গবেষণা উন্নয়ন করাও এ আইনের উদ্দেশ্য। উৎপানশীলতা বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণা কিভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়েও কাজ করবে ট্রাস্ট। নতুন আইনে ১৮টি ধারা রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এতে ট্রাস্টের গঠন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, ব্যবস্থাপনা, ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন, বোর্ডের কাজ, বোর্ডের সভা, তহবিল সংরক্ষণ, বাজেট ও হিসাব, নিরীক্ষার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ১৩ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। এই মন্ত্রণালয়ের সচিব হবে ট্রাস্টের সহ-সভাপতি। এছাড়া আইসটি, শিক্ষা, জনপ্রশাসন, অর্থ, আইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধি ও দু’জন অধ্যাপক থাকবেন ট্রাস্টি বোর্ডে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাস্ট তহবিলে অর্থ দেয়া হবে। অন্যান্য উৎস থেকেও ট্রাস্ট অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। যাতে এ তহবিলটা সাসটেইন্যাবল হয়। বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও ফেলোশিপ ট্রাস্ট আইনের আওতায় সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করতে পারবে। ট্রাস্ট প্রবিধানমালা করতে পারবে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন।

বিআরটিএ আইন ॥ কোম্পানি গঠনের বিধান রেখে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৫ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এ অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ’র বর্তমান আইনের ভিত্তি খুব সবল নয়, খুবই অপর্যাপ্ত। ১৯৮৩ সালের মোটরযান অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আমাদের সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিচালিত হচ্ছে। এখন পরিবহন খাতে এতো উন্নয়ন হয়েছে, এতো বিস্তৃতি হয়েছে, এ অর্ডিন্যান্স এখন আর পর্যাপ্ত নয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কাজেই সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে কার্যকরভাবে কাজ করতে গেলে এর আইনী কাঠামোটিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজন আছে। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ একটি বিস্তৃত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ আইনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মোটরযান ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত, প্রযুক্তি নির্ভর, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং দক্ষতর করা। বর্তমান অর্ডিন্যান্সে সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত মাত্র চারটি ধারা রয়েছে জানিয়ে মোশাররাফ হোসাইন বলেন, নতুন আইনে ২৮টি ধারা ও ৭২টি উপধারা রয়েছে। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষের গঠন, কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা পরিষদের গঠন, উপদেষ্টা পরিষদের কার্যাবলী, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, প্রশাসন কিভাবে পরিচালিত হবে, বিভিন্ন কমিটি গঠনের ক্ষমতা, বাজেট, হিসাব ও অডিটের বিষয়গুলো রয়েছে। এখানে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ইচ্ছে করলে তার আওতায় কোম্পানি গঠন করতে পারবে। এ মুহূর্তে কোম্পানি হচ্ছে না, কিন্তু কোম্পানি গঠনের সুযোগ এখানে রাখা হয়েছে বলে জানান মোশাররাফ হোসাইন।

আইন অনুযায়ী যে উপদেষ্টা পরিষদ হবে সেখানে প্রধান থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জানিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদে জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, মেয়র, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

নির্বাচিত সংবাদ