১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিক্ষক অসন্তোষ দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

  • অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠক ॥ সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক সাড়ার ইঙ্গিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পে স্কেল ইস্যুতে পাবলিক ভার্সিটি ও সরকারী কলেজ শিক্ষকদের অসন্তোষ নিরসনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে তাদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার উপায় বের করতে অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশের পরপরই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে শিক্ষক অসন্তোষ দ্রুত নিরসন নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রীও ইতিবাচক সাড়া দেন। নতুন পে-স্কেল প্রস্তাবের পর থেকেই বৈষম্য ও মর্যাদাহানির অভিযোগ এনে আন্দোলন করছেন পাবলিক ভার্সিটি ও সরকারী কলেজ শিক্ষকরা। ভার্সিটি শিক্ষা সমিতি ফেডারেশনের ডাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষক সমিতির ডাকে দেশের সব সরকারী কলেজে চলছে দফায় দফায় কর্মবিরতি। কয়েক দফা কর্মবিরতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। দুই স্তরের শিক্ষকরাই বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ঈদের পর আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার। আর ৩০৫ সরকারী কলেজ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য আছেন প্রায় ১৫ হাজার।

জানা গেছে, শিক্ষকদের আন্দোলনে শিক্ষাঙ্গনে স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর দুই মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী একসঙ্গে আসেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। শিক্ষামন্ত্রীর অফিসকক্ষে তারা দু’জন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই মন্ত্রীই দাবি-দাওয়ার বিষয়টি কিভাবে পূরণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। সরকারের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু পে-স্কেলে সকলের জন্যই টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা হয়েছে তাই সেটি ছাড়াও কিভাবে শিক্ষকদের দাবি পূরণ করা যায় তার উপায় খুঁজছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের কারণেই শিক্ষকরা একটি মর্যাদাকর অবস্থানে উন্নীত হতে পারতেন। এখন সেটি না থাকলেও বিকল্প কি উপায়ে শিক্ষকদের সেই মর্যাদা অক্ষুণœ রাখা যায় সেটিই বের করা চেষ্টা চলছে। বৈষম্য নিরসন কমিটিও সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দুই মন্ত্রীর বৈঠকের বিস্তারিত না জানালেও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জনকণ্ঠকে বলেছেন, সরকার শিক্ষক সমাজের মর্যাদার বিষয়টিকে সব সময়েই প্রধান্য দেয়। এখনও দিচ্ছে। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে আমরা আন্তররিক। কিভাবে বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয় তা নিয়েই কথা হয়েছে। আমি শিক্ষক সমাজের বিষয়গুলোকে তুলে ধরেছি। মাননীয় অর্থমন্ত্রীও সমাধানের জন্য আন্তরিক। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি দেখবেন। আসলে কিভাবে শিক্ষকদের বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করা যায় সেজন্যইতো কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারী কলেজের শিক্ষকদের কর্মবিরতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেখেন শিক্ষকরা কর্মবিরতি করছেন। অথচ তারা আমাকে একবারও বলেননি যে তাদের সমস্যা কোথায়। আমিতো শিক্ষা পরিবারের একজন কর্মী। তারা কর্মবিরতি করছেন আমি দিনাজপুর বলে টেলিভিশনে দেখেছি। এটা কেন? তারা কিন্তু আমাকে বলেননি এখনও। তারা বলেননি তবু কিন্তু আমরা চাই সুন্দর সমাধান। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান তারাও যেন বিষয়টি ভাবেন।

জানা গেছে, অষ্টম বেতন স্কেলে মর্যাদার দিক দিয়েও আগের চেয়ে কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলেছেন, শিক্ষকরা যদি মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়েন তাহলে তারা কিভাবে ক্লাসে পড়ালেখায় মন দেবেন? এত দিন আমরা সর্বোচ্চ গ্রেডে বেতন ও সম্মান পেলেও নতুন বেতন কাঠামোতে আমাদের নিচে নেমে আসতে হবে, যা আমাদের জন্য মোটেই সম্মানজনক নয়।

অন্যদিকে বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেয়ার প্রতিবাদে আন্দোলন করছেন সরকারী কলেজের শিক্ষকরা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বলেছেন, বর্তমানে কলেজের অধ্যাপকেরা (সর্বোচ্চ পদ) চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। সিলেকশন গ্রেড থাকায় এতদিন আংশিক অধ্যাপক গ্রেড-৩-এ যেতে পারতেন। কিন্তু সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ায় এখন এই পথ বন্ধ হয়ে গেল। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি পেয়ে সরাসরি গ্রেড-৩ এ উন্নীত হন। অথচ শিক্ষকদের বেলায় গ্রেড-৫ থেকে পদোন্নতি হওয়ার পর গ্রেড-৪ এ উন্নীত করা হয়। এই বৈষম্য নিরসনেরও দাবি করে আসছেন তারা। কিন্তু সেটা নিরসন না করে উল্টো সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকেরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন।