১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পশুর হাট জমে উঠছে, বৃষ্টি কাদায় ক্রেতা সমাগম কম

  • পথে পথে চাঁদা চলছেই;###;মহল্লায় বসছে অবৈধ হাট

রহিম শেখ ॥ পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। এই দিনে তো পশুর হাটগুলো জমে উঠার কথা। কেননা, কোরবানির পশুতে কানায় কানায় পূর্ণ রাজধানীর সবগুলো হাট। কিন্তু বৃষ্টি, কাদা ও গরুর বর্জ্যে খুব বেশি ক্রেতার দেখা নেই। তাই বিক্রিও জমছে না। বৃষ্টির জল ও কাদা মাড়িয়ে অধিকাংশ ক্রেতাই আসছেন কিনতে নয়, কোরবানির গরু দেখতে। খুব একটা চোখেও পড়ছে না হাট থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে বেপারিদের হাঁকডাকও ঝিমিয়ে পড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি, কাদা ও গরুর বর্জ্যে হাটগুলোতে হাঁটাই দায়। তাই খুব বেশি ঘুরেফিরে গরু দেখা সম্ভব নয়। কোরবানির পশুর দাম একটু বেশি, তাই এ যাত্রায় দরদাম শুনেই বাড়ি ফেরা অধিকাংশ ক্রেতাদের। এদিকে বৃষ্টি, কাদা-পানিতে কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাটের বেপারিরা। বলছেন, আশানুরূপ ক্রেতা ও বিক্রি নেই। হাট পর্যন্ত কোরবানির পশু আনতে পথে পথে চাঁদা দিতে হয়েছে। খরচ অনেক বেশি হওয়ায় কম দামে গরু বিক্রি করতে রাজি নন বিক্রেতারা। হাটের ভেতরের এই অবস্থার মধ্যেও প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোরবানির পশু আসছে নগরীতে। তাই তো মহাসড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় বসছে অবৈধ পশুর হাট।

সোমবার রাজধানীর গাবতলী হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা গরু-ছাগল থাকার জায়গা থেকে কাদা পরিষ্কার করছেন। রাস্তার কাদা আর গরুর গোবর মিশে একাকার হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে গরুর হাটে হাঁটাচলাও দায় হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই ক্রেতার অপেক্ষায় অনেকটা অলস সময় পার করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দুপুরের পর ক্রেতার দেখা মিললেও বিক্রি তেমন জমে উঠেনি। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় বিক্রেতারা হাটে চলাচল করতে পারছেন না। বেপারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে আসছেন দাম যাচাই-বাছাই করতে। আর সাধ্যের মধ্যে হলে কোরবানির পশু কিনছেন কেউ কেউ। তবে দিন যত গড়াবে, বিকিকিনি তত বাড়বে এমনটা জানালেন বিক্রেতারা। তারা জানান, গরু রাখার জায়গা সঙ্কট থাকায় রাজধানীবাসী আগে থেকে গরু কিনতে আগ্রহী হন না। ঈদের দু-একদিন আগেই বেশিরভাগ ক্রেতা গরু কিনে থাকেন। আজ মঙ্গলবার থেকে পশুর হাটগুলো পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশা করছেন বেপারিরা। এদিকে এখনও রাজধানীর বিভিন্ন রুট দিয়ে ঢুকছে কোরবানির পশু। লঞ্চ, ট্রাকভর্তি গরু, ছাগল ও মহিষ আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত হাটে আসা গরুর বেশিরভাগই দেশী। তবে ঈদের আগে ভারতীয় গরু আসা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, তাহলে গত কয়েক বছরের মতো আবারও লোকসানে পড়তে হবে। যদিও ক্রেতারা বলছেন, বিদেশী গরু কম থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম হাঁকছেন। কুষ্টিয়ার বেপারি আমির উদ্দিনসহ কয়েকজন গত শুক্রবার রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ৩৬ ট্রাক গরু নিয়ে এসেছেন। আমিরউদ্দিন বলেন, আমরা কয়েক মাস আগে থেকে দেশী গরু কিনে কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করেছি। এখন পর্যন্ত গরুর দাম ঠিক আছে। তবে হঠাৎ বিদেশী গরুতে বাজার সয়লাব হলে কাক্সিক্ষত দাম পাব না। ক্ষতি নিয়েই ফিরতে হবে। গাবতলীর হাটে এখনও বিদেশী পশুর সংখ্যা কম। তবে কিছু পশু ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান থেকে আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে গরু, মহিষ, খাসি ছাড়াও দেখা মিলেছে দুম্বা ও উট। এখন পর্যন্ত মোট ৩০টি উট এসেছে। গাবতলীর পশুর হাট পরিচালনা কমিটির পরিচালক সানোয়ার হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, বৃষ্টিতে ভোগান্তি বেড়েছে। হাটের মাঝখানে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বালু ঢেলে জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চলছে। পশুগুলোকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করতে প্লাস্টিক ও ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উট তাপমাত্রা সংবেদনশীল হওয়ায় এদের রাখা হয়েছে উষ্ণ স্থানে।

পশুর দাম ও বিক্রি সম্পর্কে গাবতলী হাটের বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, বড় সাইজের গরু আকারভেদে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন তারা। সোমবার এ হাটে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত গরুর দাম হাঁকা হয়েছে। গাবতলী হাটে গত রবিবার পাবনা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন বেপারি জমিরউদ্দিন। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, এখন পর্যন্ত ১২টি গরুর মধ্যে মাত্র ৩টি বিক্রি করতে পেরেছি। যে পরিমাণে ক্রেতা আসছে সে পরিমাণে বিক্রি নেই। বৃষ্টির কারণে এই কাদার মধ্যে ক্রেতা আসছে না বলে তিনি জানান। একই কথা জানালেন ঈশ্বরদী থেকে আসা বেপারি সুরুজ মিয়া। শনিবার পাবনা থেকে ১৫টি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে এসেছেন সিরাজুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত একটিও বিক্রি হয়নি। গরুর দাম কেমন যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি গরুর দাম ছয় লাখ টাকা চেয়েছি। ক্রেতা তিন লাখ পর্যন্ত দাম করেছেন। চার লাখের নিচে গরু বিক্রি করব না। এদিকে আফতাবনগর, কমলাপুর গরুর হাট, গোপীবাগের সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, কমলাপুর রেলওয়ে স্কুলসংলগ্ন মাঠ এবং মুগদা মাঠ পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশুতে কানায় কানায় পূর্ণ এসব হাট। সাদেক হোসেন খোকা মাঠ ভরে মধুমিতা সিনেমা হল পার হয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত, কমলাপুর রেলওয়ে স্কুলসংলগ্ন মাঠ ভরে রেললাইনের পাশ দিয়ে আইসিবি কনটেইনার গেট পর্যন্ত এবং মতিঝিল কালভার্ট রোড হয়ে আরামবাগ এলাকা পর্যন্ত গরু ভরে গেছে। তবে এ হাটে বৃষ্টির কারণে কেনাবেচা তেমন হয়নি। এদিকে গাবতলীর হাটে পুলিশ ও র‌্যাবের উদ্যোগে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের উদ্যোগে ১৩টি ওয়াচ টাওয়ার, নয়টি টহল দল, তিনটি মোটরসাইকেল টহল দল ও ৪০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অজ্ঞান পার্টি ও দালালদের খপ্পর থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের রক্ষার জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। বসানো হয়েছে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন। এখনও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত দারুস সালাম থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুরুল আলম। এদিকে অনিয়ম, অতিরিক্ত হাসিল আদায় ও সড়কে পশুর হাট বসানো বন্ধে রাজধানীর ২৩টি হাটে সোমবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ (ডিএমপি) থেকে নিয়োগকৃত ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

রাজশাহীতে দেশী গরুর চাহিদা বেশি ॥ কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অবশেষে জমে উঠেছে রাজশাহীর পশুর হাট। কেনাবেচাও শুরু হয়েছে জোরতাল। গরু আর মানুষে এখন একাকার রাজশাহী অঞ্চলের পশুহাট। তবে গরু ও ছাগলের অতিরিক্ত দামের কারণে ক্রেতারা হাঁপিয়ে উঠেছে। গরুর ওজনের তুলনায় দাম অস্বাভাবিক বেশি থাকায় ক্রেতারা খুঁজছেন ছোট সাইজের দেশী গরু। হাটে এখন ছাগলের দামও হাঁকা হচ্ছে আকাশছোঁয়া।

রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠে সিটিহাট। কোরবানির পশু কিনতে নগরের মানুষ এই হাটের উপরেই নির্ভর। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাটে গরু ও ক্রেতা-বিক্রেতায় একাকার। হাটের মধ্যে তিল ধারণের জায়গা নেই। সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গরু বিক্রেতাদের সঙ্গে দামদর নিয়ে চলছে ক্রেতাদের বাক্যবাণ। ক্রেতাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। সে কারণে নির্ধারিত বাজেট পছন্দের গরু মিলছে না। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট সাইজের গরুগুলোরই দাম হাঁকানো হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের গরুর দাম ৫০ থেকে ৬৫ হাজার ও বড় সাইজের গরু ৭০ থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। কোথাও দামে মিলছে তো গরু সাইজে মিলছে না। কোথাও সাইজে মিলছে তো দামে মিলছে না। নগরীর উপশহর এলাকার আজগর আলী সিটি বাইপাস হাটে উপস্থিত হয়েছিলেন গরু কেনার জন্য। আজগর আলী জানান, ৭ জন প্রতিবেশী মিলে ভাগে কোরবানি দেয়ার কথা চিন্তা করেছেন। প্রতি জনের ভাগে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে মোট ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে হাটে এসেছিলেন। কিন্তু দামের যা অবস্থা তাদের জনপ্রতি আরও দুই হাজার টাকা বাড়ানো ছাড়া কোন উপায় দেখছেন না তিনি।

রংপুরে পশুর হাটে আমদানি ভাল, ক্রেতা নেই ॥ কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গেই রংপুরের পশুর হাটগুলো এখন জমতে শুরু করেছে। হাটে প্রচুর গরুর আমদানি হলেও ক্রেতা সংখ্যা এখনও কম। বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় গরু না আসায় এবার ভাল দাম পাবে তারা, এমনটা আশা করলেও সে আশায় গুড়েবালি হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন ইচ্ছামতো দাম হাঁকছে বিক্রেতারা। আর তাই দাম কমা এবং বাড়ার আশায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই চেয়ে আছে আগামী হাটগুলোর দিকে।

গাইবান্ধার হাটগুলোতে ক্রেতা কম ॥ গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠছে না। জেলার সবগুলো গবাদি পশুর হাটেই এখন ক্রেতাদের ভিড় অপেক্ষাকৃত কম। ভারতীয় গরু এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার হাট-বাজারগুলোতে খুব কমই আমদানি হচ্ছে। এদিকে চোরাই পথে ভারতীয় গরুর আমদানি বাড়বে এবং সঙ্গে কোরবানির পশুর দামও কমে আসবে। এই আশা নিয়েই ক্রেতারা এখনও পশু কেনাকাটা শুরু করছে না। সে কারণে হাটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কম। ক্রেতা ও আমদানি দুটোই কম হওয়ায় কোরবানির পশুর দাম সঙ্গত কারণেই অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি।

রূপগঞ্জে ৪টি অবৈধ হাট ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পশুর হাট জমে উঠেছে। জানা যায় ১০টি পশুর হাটের মধ্যে ৪টি পশুর হাট বসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া, বাকি ৬টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। অনুমোদিত হাটগুলোর মধ্যে রূপগঞ্জ জনতা হাইস্কুল মাঠ, ইউসুফগঞ্জ হাইস্কুল মাঠ, পলখান হাইস্কুল মাঠ, বেলদী মাদ্রাসা মাঠ, মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ, ভুলতা হাইস্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠ। জানা যায়, এসব হাটগুলো কোন প্রকার অনুমতি বা নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই বসানো হয়েছে। হাটের যেদিকে চোখ যায় গরু আর গরু। এবার বাজারে মহিষের চাহিদা কম থাকলেও দেশী গরু ও ছাগলের চাহিদা বেশি। পশুর দাম মাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি হওয়ায় বাজারে ক্রেতা থাকলেও পশু বিক্রির হার এখনও বাড়েনি। স্বাভাবিক বাজার দরের তুলনায় এবার বাজারে প্রতিটি গরু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ দেশী গরু, ছাগল ও মহিষ থাকলেও বিক্রেতারা বেশি দাম হাঁকছেন।

জমে উঠেনি ফেনীর পশুর হাটগুলো ॥ ফেনীতে কোরবানের ঈদের পশুর বাজার জমতে শুরু করেছে। তবে প্রথম দিকে বিক্রেতারা গরুর দাম বেশি হাঁকায়, ক্রেতারা বিষয়টি আচ করতে সময় নিচ্ছে। তাই গত ক’দিনে তেমন বেচাকেনা হয়নি। ক্রেতারা অনেকটা ধরে নিয়েছে গত বছরের মতো এবারও শেষ বাজারে গরুর দাম কমে যেতে পারে, তাই বাজার ঘুরে দাম যাচাই করছে ক্রেতারা। শহরের বাজারগুলোর যে অবস্থা বিরাজ করছে একই অবস্থা বিরাজ করছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের বাজারেও।

সরকারের সিদ্ধান্ত ও সেতুমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ ফেনী সদর উপজেলার মোহম্মদ আলী বাজার পশুর হাট বসেছে ঢাকা- চটগ্রাম মহাসড়ক ঘেঁষে। এতে মানুষের যেমন নিরাপত্তা বিগ্নিত হচ্ছে তেমনি মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।